ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, মাস্কের তীব্র বিদ্রুপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় দেশটির শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে কটাক্ষ করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। আম্বানিকে ভারতের প্রকৃত বস আখ্যা দেওয়ার পর এবার তাকে প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন মাস্ক। একই সঙ্গে অভিযোগ করেছেন, নিজেদের টেলিযোগাযোগ ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্টারলিংক মূলত মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX)-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস, তা বুঝতে না পারার জন্য দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।’

এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেবেন? মাস্কের অভিযোগ, ভারতের বাজারে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান আম্বানি।

স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক কয়েক বছর ধরে ভারতের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট বাজারটিতে সেবা চালুর অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্ক।

তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ভারত সরকারের আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য পাঁচ বছর ব্যয় করার পরও কেন এখনো পূর্ণ অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মাস্কের মতে, স্টারলিংক চালু হলে প্রচলিত নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা ও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে দেওয়া আরেক পোস্টে মাস্ক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্য যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্টারলিংক জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতের মানুষের জীবন বাঁচাতেও এই সেবা সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ভারত সরকার স্টারলিংকের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো স্টারলিংককেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, কোনো খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য অনুমোদন করে না ভারত।

স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগের প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর জন্য এখনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও তরঙ্গ বরাদ্দ প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্টারলিংক, রিলায়েন্সের জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী এয়ারটেল-সমর্থিত ইউটেলসাত ওয়ানওয়েব প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে এক শিল্প সমাবেশে স্টারলিংকের কর্মকর্তারা জানান, ভারত প্রস্তুত হলেই তারা সেবা চালু করতে প্রস্তুত।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অনুমোদন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশটির আইন প্রয়োগের বিষয়টি।

ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল। সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে স্টারলিংকের সরঞ্জাম ও সেবা বিতরণের জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে চুক্তি করেছিল স্পেসএক্স।

তবে জিও ও এয়ারটেল নিজেরাও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসায় এগোচ্ছে। রিলায়েন্স লাক্সেমবার্গভিত্তিক এসইএসের সঙ্গে অংশীদারত্বে জিও স্যাটেলাইট সেবা গড়ে তুলছে। অন্যদিকে, স্টারলিংকের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইউটেলসাত ওয়ানওয়েবে বড় বিনিয়োগ রয়েছে এয়ারটেলের।

আম্বানির সঙ্গে মাস্কের এই বিরোধ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আগের সুসম্পর্কের বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি ও মাস্কের বৈঠকের পর ভারতে টেসলার গাড়ি কারখানা স্থাপন এবং স্টারলিংকের সেবা চালুর অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু ভারতে মাস্কের ব্যবসায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে প্রথম বিক্রয়কেন্দ্র খুলে আমদানি করা গাড়ি বিক্রি শুরু করে টেসলা। তবে ভারত সরকার চেয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান তৈরি করুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ১৫ মাসে ভারতে টেসলার গাড়ি বিক্রি হয়েছে মাত্র এক হাজারটি। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে গাড়িগুলোর দাম বেশি হলেও চীনের বিওয়াইডি এবং ভিয়েতনামের ভিনফাস্টের মতো তুলনামূলক কম দামের গাড়ি নির্মাতারা দেশটিতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

এছাড়া অনলাইন কনটেন্ট সরানোর বিষয়ে ভারত সরকারের নির্দেশ নিয়ে মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের সঙ্গে আইনি বিরোধ চলছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাস্কের সম্ভাব্য দুটি ভারত সফরও বাতিল হয়েছিল।

মাস্কের মন্তব্য ভারতের রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ব্যবসায়িক আধিপত্য নিয়ে মাস্কের এক মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নাম উল্লেখ না করে লিখেছিলেন, ‘ভারতে স্বাগতম, ইলন। আপনি অন্য ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’

রাহুলের এই মন্তব্যকে আরেক ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘ধন্যবাদ, রাহুল। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন ট্রাম্প, সিএনএনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনে থাকা একটি স্যুট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ট্রাম্পের পরনে তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের স্যুট দেখে বিস্মিত অনেকে।
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন ট্রাম্প, সিএনএনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন কী মার্কিন প্রেসিডেন্ট 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনের স্যুট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত।
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন কী মার্কিন প্রেসিডেন্ট 
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
নোবেল শান্তি পুরস্কার সাবেক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এক বিচারকের হাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আদালটির কার্যক্রম পঙ্গু করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন। এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন কথিত ‘বেআইনি আদালতটির’ সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। এর মধ্য দিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালতটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অভিযান আরও জোরদার হলো। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে শেষ করে দেব।’ তবে একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ছাড় দেওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কমেছে। কার্যত এতে আদালতটি ছয় মাসের একটি অবকাশ পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ অগ্রগতি’ দেখানোর সুযোগ দিতে এই সময় দেওয়া হয়েছে। দপ্তরটি আরও জানায়, এসব প্রচেষ্টার ‘সাফল্য বা ব্যর্থতার’ ওপর নির্ভর করে অবকাশের মেয়াদ পরিবর্তন করা হতে পারে। আইসিসি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আদালতটি সতর্ক করে বলেছে, ‘ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।’ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সঙ্গে ‘জোরালোভাবে দ্বিমত’ পোষণ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুতর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আইসিসি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞাকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালতটি যাতে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’ বলেও জানিয়েছে জোটটি। ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ছয় মাসের বিলম্বের অর্থ হলো ‘আলোচনার সুযোগ রয়েছে’। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশগুলোকে এই পদক্ষেপের ‘প্রতিরোধ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞাগুলো আদালতটিকে ‘বিচ্ছিন্ন এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করার’ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দপ্তর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আইসিসি কোনো আদালত নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে আইন মেনে চলা গণতন্ত্রগুলোর জন্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ধারণার জন্যই প্রাণঘাতী হুমকি।’ একই দিনে নরওয়ের নোবেল কমিটি দক্ষিণ আফ্রিকার ৮৫ বছর বয়সী আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন, আইসিসিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন, যে কমিশন গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। রুবিওর বিবৃতিতে পিল্লাই কিংবা নোবেল পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মী ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, যে আদালতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’ এসব পদক্ষেপ আদালটির সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করবে এবং ‘এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেবে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, আইসিসির কাছে ওয়াশিংটন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘সদিচ্ছার মৌলিক কিছু পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে আসছিল। আদালতটি কিংবা এর সদস্য দেশগুলো অবস্থান পরিবর্তন করবে, এই আশায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও এত দিন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি। রুবিও আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ‘মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর নির্ভরশীল’ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান। অন্যথায় ওয়াশিংটন আইসিসির ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট তদন্তের কারণে আদালতটির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের মধ্যে আদালতটির কৌঁসুলি ও কয়েকজন বিচারক রয়েছেন। ইসরাইলও আইসিসির সদস্য নয়। গত মাসে ট্রাম্প আইসিসির সব সদস্য দেশকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ এবং একটি ‘বেআইনি প্রতিষ্ঠান’ বলে নিন্দা করেন। আরটিভি/টিআর
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প 
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য কমাতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনার চুক্তি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প 
আরও পড়ুন
অবরুদ্ধ দিল্লি, বন্ধ মেট্রোরেল-ইন্টারনেট সেবা
ভারতীয়দের গ্রিন কার্ডের পথ আটকাল ট্রাম্প প্রশাসন
পাকিস্তানের বদলি হিসেবে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন দুই বাংলাদেশি, অতঃপর...