ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। ছবি: সংগৃহীত

নোবেল শান্তি পুরস্কার সাবেক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এক বিচারকের হাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আদালটির কার্যক্রম পঙ্গু করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন।

এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন কথিত ‘বেআইনি আদালতটির’ সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। এর মধ্য দিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালতটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অভিযান আরও জোরদার হলো।

এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে শেষ করে দেব।’

তবে একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ছাড় দেওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কমেছে। কার্যত এতে আদালতটি ছয় মাসের একটি অবকাশ পেয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ অগ্রগতি’ দেখানোর সুযোগ দিতে এই সময় দেওয়া হয়েছে।

দপ্তরটি আরও জানায়, এসব প্রচেষ্টার ‘সাফল্য বা ব্যর্থতার’ ওপর নির্ভর করে অবকাশের মেয়াদ পরিবর্তন করা হতে পারে।

আইসিসি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আদালতটি সতর্ক করে বলেছে, ‘ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।’

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সঙ্গে ‘জোরালোভাবে দ্বিমত’ পোষণ করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুতর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আইসিসি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞাকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালতটি যাতে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’ বলেও জানিয়েছে জোটটি।

ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ছয় মাসের বিলম্বের অর্থ হলো ‘আলোচনার সুযোগ রয়েছে’।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশগুলোকে এই পদক্ষেপের ‘প্রতিরোধ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞাগুলো আদালতটিকে ‘বিচ্ছিন্ন এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করার’ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তার দপ্তর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আইসিসি কোনো আদালত নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে আইন মেনে চলা গণতন্ত্রগুলোর জন্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ধারণার জন্যই প্রাণঘাতী হুমকি।’

একই দিনে নরওয়ের নোবেল কমিটি দক্ষিণ আফ্রিকার ৮৫ বছর বয়সী আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন, আইসিসিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন, যে কমিশন গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে।

রুবিওর বিবৃতিতে পিল্লাই কিংবা নোবেল পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মী ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, যে আদালতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যোগ দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’ এসব পদক্ষেপ আদালটির সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করবে এবং ‘এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেবে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, আইসিসির কাছে ওয়াশিংটন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘সদিচ্ছার মৌলিক কিছু পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে আসছিল। আদালতটি কিংবা এর সদস্য দেশগুলো অবস্থান পরিবর্তন করবে, এই আশায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও এত দিন স্থগিত রাখা হয়েছিল।

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি।

রুবিও আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ‘মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর নির্ভরশীল’ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান। অন্যথায় ওয়াশিংটন আইসিসির ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট তদন্তের কারণে আদালতটির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের মধ্যে আদালতটির কৌঁসুলি ও কয়েকজন বিচারক রয়েছেন। ইসরাইলও আইসিসির সদস্য নয়।

গত মাসে ট্রাম্প আইসিসির সব সদস্য দেশকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ এবং একটি ‘বেআইনি প্রতিষ্ঠান’ বলে নিন্দা করেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ৯ জন ছিলেন।
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ শহরে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোর দূরত্ব মাত্র ৯ মাইল (১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার)।
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ জন রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের। এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।  নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী। এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউ জার্সিতে বাড়ি কেনার কথা ভাবলেই অনেকের কাছে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। তবে অঙ্গরাজ্যটির কিছু শহর ও আবাসিক এলাকায় এখনো দেড় লাখ ডলার বা তার কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।  কোথাও ছোট আকারের বাড়ি, কোথাও পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট বয়সীদের জন্য গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি এলাকার কথা তুলে ধরেছে আবাসন ও ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস। তালিকার প্রথমে রয়েছে ওশান কাউন্টির ম্যানচেস্টার টাউনশিপের হোয়াইটিং এলাকা। এখানে ক্রেস্টউড ভিলেজের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে এক ও দুই শয়নকক্ষের ছোট বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিছু বাড়ির দাম ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের নিচেও থাকতে পারে। এলাকাটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শান্ত পরিবেশে থাকতে আগ্রহীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ক্রেস্টউড ভিলেজের কয়েকটি প্রকল্প ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাড়ি কেনার আগে বয়সসংক্রান্ত শর্ত, সমবায় মালিকানার নিয়ম এবং মাসিক ফি যাচাই করা জরুরি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলাডেলফিয়ার কাছের ক্যামডেন শহর। এখানে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি বা রো-হোম পাওয়া যেতে পারে। কিছু বাড়ি বসবাসের উপযোগী অবস্থায় থাকলেও অন্যগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে।  ডেলাওয়্যার নদীর অপর পাশে ফিলাডেলফিয়া হওয়ায় কর্মসূত্রে শহরটিতে যাতায়াতকারীদের জন্য ক্যামডেন ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক। তবে শহরের সব এলাকায় আবাসন পরিস্থিতি এক নয়। তাই বাড়ি কেনার আগে পাড়া, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে অবস্থিত ফিলিপসবার্গও কম দামের বাড়ির সম্ভাব্য ঠিকানা হিসেবে প্রতিবেদনে রয়েছে। নিউ জার্সির পশ্চিম প্রান্তের এই শহরে পুরোনো ছোট বাড়ি ও টাউনহোম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  নদীর অপর পাশে পেনসিলভানিয়ার ইস্টন শহর থাকায় বাসিন্দারা দুই এলাকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কম দামের অনেক বাড়িতে সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেনার আগে কাঠামোগত অবস্থা ও সংস্কারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত আটলান্টিক সিটিও তালিকায় রয়েছে। শহরটির পর্যটন এলাকা থেকে কিছুটা দূরের আবাসিক পাড়ায় ছোট বাংলো ও কন্ডো দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। সমুদ্রসৈকত, বোর্ডওয়াক এবং পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার সুযোগ এ এলাকার আকর্ষণ।  তবে কন্ডো কেনার ক্ষেত্রে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ফি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়ম জানা জরুরি। সম্পত্তির অবস্থান ও মূল্যায়নের ওপর করের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। ফলে শুধু কেনার দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসিক ও বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত সালেম শহরও সাশ্রয়ী আবাসনের সম্ভাব্য জায়গা। সালেম কাউন্টির এই শহরে পুরোনো একক পরিবারের বড় বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়িতে চার বা তার বেশি শয়নকক্ষ এবং প্রশস্ত বসার জায়গা রয়েছে।  শহরটির ইতিহাস ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামীণ পরিবেশ, স্থানীয় দোকানপাট ও কৃষিপণ্যের বাজার এখানকার জীবনযাত্রার অংশ। তবে পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাদ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন ও ভিত্তির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি গ্লুচেস্টার সিটিও তালিকায় রয়েছে। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে ক্যামডেনের দক্ষিণে অবস্থিত এ শহরে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি ও ছোট কটেজ ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। বেন ফ্র্যাঙ্কলিন ও ওয়াল্ট হুইটম্যান সেতু দিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।  সাম্প্রতিক বাজারের তালিকাতেও গ্লুচেস্টার সিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে বাড়ির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। তবে প্রতিটি বাড়ির অবস্থা ও অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ওশান কাউন্টির লিটল এগ হারবার টাউনশিপে রয়েছে মিস্টিক শোরস নামের আবাসন প্রকল্প। এখানে ছোট আকারের সংযুক্ত বাড়ির দাম প্রায় দেড় লাখ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন হওয়ায় সব ক্রেতা এখানে বাড়ি কেনার যোগ্য নন।  প্রকল্পটিতে সাধারণ সুবিধা, পরিচর্যা করা উন্মুক্ত জায়গা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। বারনেগেট বে এবং লং বিচ আইল্যান্ডের সৈকত কাছাকাছি হওয়ায় মাছ ধরা, নৌভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির বৃহত্তম শহর ভিনল্যান্ডও কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য একটি সম্ভাব্য এলাকা। এখানে একতলা র‌্যাঞ্চ ধরনের বাড়ি ও সংস্কার প্রয়োজন এমন পুরোনো বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। শহরটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, খোলা জায়গা এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার জীবনযাত্রায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।  তবে সাম্প্রতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ভিনল্যান্ড অঞ্চলে বাড়ির মধ্যম বিজ্ঞাপিত মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার। ফলে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি খুঁজতে হলে নির্দিষ্ট কিছু কম দামের বা সংস্কার প্রয়োজন এমন সম্পত্তির দিকে নজর দিতে হবে। নিউ ইয়র্কের কাছাকাছি থাকতে চান, এমন ক্রেতাদের জন্য তালিকায় রয়েছে এসেক্স কাউন্টির ইস্ট অরেঞ্জ। এখানে ছোট স্টুডিও ও এক শয়নকক্ষের কন্ডো ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনজে ট্রানজিটের রেলসেবা ব্যবহার করে ইস্ট অরেঞ্জ থেকে নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে যাওয়া যায়।  ভবনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে বাইরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ জায়গার দেখভাল করে। তবে কন্ডো কেনার আগে মাসিক সমিতি ফি, ভবনের আর্থিক অবস্থা এবং মেরামতের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। তালিকার শেষের দিকে রয়েছে বার্লিংটন কাউন্টির পেমবার্টন টাউনশিপের ব্রাউনস মিলস এলাকা। পাইনল্যান্ডস অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই এলাকায় দুই শয়নকক্ষের ছোট কটেজ দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। কাছাকাছি রয়েছে জয়েন্ট বেস ম্যাকগুইয়ার-ডিক্স-লেকহার্স্ট সামরিক ঘাঁটি।  এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং ঘাঁটিতে কর্মরত বেসামরিক ব্যক্তিদের একটি অংশ এলাকায় বসবাস করেন। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হাঁটার পথ, কায়াকিং এবং বনাঞ্চলে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল। তবে তালিকায় থাকা সব এলাকায় দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি সব সময় পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়ির দাম, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির সংখ্যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।  নিউ জার্সির আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপিত দামের সঙ্গে তালিকার কিছু এলাকার দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। তাই সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান দাম, সম্পত্তি কর, সংস্কার ব্যয়, কন্ডো বা সমবায় ফি এবং বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, রিয়েলটর ডটকম ও জিলো।   আরটিভি/এসআর
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে শোভা পাচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সুপরিচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের পোশাকে যুক্ত হয়েছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল। এনওয়াইপিডির ইউনিফর্মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, আবেগ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।  বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি পুলিশ বাহিনীর পোশাক সরবরাহের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে যাওয়া দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বৈশ্বিক সুনামের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিএসবিনিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাকে বাংলাদেশের নাম থাকার বিষয়টি প্রথম গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্ক সিটির রাজপথে নিয়মিত টহল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ দমনে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন এনওয়াইপিডি সদস্যরা। অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড ও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এই বাহিনীর সদস্যদের বিশেষায়িত পোশাক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়।  ফলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল থাকা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের পেশাদারি সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার অনন্য প্রমাণ। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সাধারণত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শার্ট, প্যান্ট কিংবা জ্যাকেটের মতো সাধারণ বাণিজ্যিক পোশাক সেখানে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে সাধারণ পোশাকের তুলনায় রাষ্ট্রীয় কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে বাড়তি গুণগত মান ও সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করছেন, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খোদ এনওয়াইপিডিতে কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। যে শহরের সুরক্ষায় প্রবাসীরা অবদান রাখছেন, সেই শহরের মূল পুলিশ সদস্যদের পোশাকে নিজ দেশের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সাধারণ প্রবাসীরা। এনওয়াইপিডির সুনির্দিষ্ট কোন ধরনের পোশাকে এই লেবেল রয়েছে বা ঠিক কত পরিমাণ পোশাকের চালান বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। তবে বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্রের এই সরবরাহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।   আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে শোভা পাচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
আরও পড়ুন
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
মিশিগানে আবৃত্তিকার সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘মনের গহীনে বাংলা’ 
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে