ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিডিও বার্তা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।  ছবি: সংগৃহীত

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আদালত এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের ওপর আঘাত বলে নিন্দা জানিয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার জন্যও হুমকি। আদালতটির ১২৫টি সদস্যদেশকে এর কার্যক্রম রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আদালত প্রতিষ্ঠার রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করলেও তা অনুমোদন করেনি। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আদালতটির বিরোধিতা করে আসছে। এর আগে আদালতের কয়েকজন বিচারক ও আইনজীবীদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

এবারের পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত। নিষেধাজ্ঞার ফলে আদালতকে সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এতে ব্যাংক, বিমা, সফটওয়্যার ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আদালতের লেনদেন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণহীন আদালত আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করতে দেবেন না। আদালতের সম্পদ ও কার্যক্রম সীমিত করতেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছয় মাসের ছাড়, এরপর কঠোর ব্যবস্থা

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের সময় দেওয়া হবে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে।

রুবিওর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করার জন্য আদালত ও এর সদস্যদেশগুলোকে সুযোগ দিতেই এই সময়সীমা রাখা হয়েছে। মার্কিন দাবি পূরণ না হলে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই আদালতটির সমালোচনা করে আসছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। তবে আদালত মার্কিন সেনা, সীমান্তরক্ষী বা নির্বাচিত নেতাদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে—এমন কোনো পদক্ষেপের কথা জানায়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনি পরামর্শক নাজহাত শামীম খান রয়টার্সকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে দুর্বল করা। তবে তদন্ত ও বিচারসহ আদালতের সব কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি।

ইউরোপের উদ্বেগ, পাল্টা ব্যবস্থার ভাবনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, ছয় মাসের সময়সীমা আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ অব্যাহত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদালতটিকে সুরক্ষা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ব্লকিং আইন’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের আইন ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় ৭০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, নেতানিয়াহু, হামাসের কয়েকজন নেতা, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির নাম রয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াট্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে আদালতটি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর অন্য সদস্যদেশগুলো আদালতটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। আদালতটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারেও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন এ পুরস্কার আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের বার্তা বহন করছে।

কমিটির বক্তব্য, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নিষিদ্ধ সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারে না। ফলে ব্যাংক হিসাব বন্ধ, বিমা সেবা প্রত্যাহার এবং সফটওয়্যার ব্যবহারে বাধা তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালতের কর্মকর্তারা মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার থেকে মুক্ত উৎসের বিকল্প ব্যবস্থায় কম্পিউটার স্থানান্তর এবং ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির কাজ করেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও জো বাইডেনের প্রশাসন পরে তা প্রত্যাহার করেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে।


সূত্র: রয়টার্স

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন ট্রাম্প, সিএনএনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনে থাকা একটি স্যুট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ট্রাম্পের পরনে তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের স্যুট দেখে বিস্মিত অনেকে।
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন ট্রাম্প, সিএনএনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন কী মার্কিন প্রেসিডেন্ট 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনের স্যুট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত।
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন কী মার্কিন প্রেসিডেন্ট 
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
নোবেল শান্তি পুরস্কার সাবেক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এক বিচারকের হাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আদালটির কার্যক্রম পঙ্গু করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন। এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন কথিত ‘বেআইনি আদালতটির’ সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। এর মধ্য দিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালতটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অভিযান আরও জোরদার হলো। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে শেষ করে দেব।’ তবে একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ছাড় দেওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কমেছে। কার্যত এতে আদালতটি ছয় মাসের একটি অবকাশ পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ অগ্রগতি’ দেখানোর সুযোগ দিতে এই সময় দেওয়া হয়েছে। দপ্তরটি আরও জানায়, এসব প্রচেষ্টার ‘সাফল্য বা ব্যর্থতার’ ওপর নির্ভর করে অবকাশের মেয়াদ পরিবর্তন করা হতে পারে। আইসিসি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আদালতটি সতর্ক করে বলেছে, ‘ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।’ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সঙ্গে ‘জোরালোভাবে দ্বিমত’ পোষণ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুতর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আইসিসি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞাকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালতটি যাতে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’ বলেও জানিয়েছে জোটটি। ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ছয় মাসের বিলম্বের অর্থ হলো ‘আলোচনার সুযোগ রয়েছে’। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশগুলোকে এই পদক্ষেপের ‘প্রতিরোধ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞাগুলো আদালতটিকে ‘বিচ্ছিন্ন এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করার’ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দপ্তর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আইসিসি কোনো আদালত নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে আইন মেনে চলা গণতন্ত্রগুলোর জন্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ধারণার জন্যই প্রাণঘাতী হুমকি।’ একই দিনে নরওয়ের নোবেল কমিটি দক্ষিণ আফ্রিকার ৮৫ বছর বয়সী আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন, আইসিসিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন, যে কমিশন গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। রুবিওর বিবৃতিতে পিল্লাই কিংবা নোবেল পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মী ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, যে আদালতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’ এসব পদক্ষেপ আদালটির সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করবে এবং ‘এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেবে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, আইসিসির কাছে ওয়াশিংটন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘সদিচ্ছার মৌলিক কিছু পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে আসছিল। আদালতটি কিংবা এর সদস্য দেশগুলো অবস্থান পরিবর্তন করবে, এই আশায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও এত দিন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি। রুবিও আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ‘মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর নির্ভরশীল’ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান। অন্যথায় ওয়াশিংটন আইসিসির ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট তদন্তের কারণে আদালতটির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের মধ্যে আদালতটির কৌঁসুলি ও কয়েকজন বিচারক রয়েছেন। ইসরাইলও আইসিসির সদস্য নয়। গত মাসে ট্রাম্প আইসিসির সব সদস্য দেশকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ এবং একটি ‘বেআইনি প্রতিষ্ঠান’ বলে নিন্দা করেন। আরটিভি/টিআর
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প 
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য কমাতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনার চুক্তি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প 
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, মাস্কের তীব্র বিদ্রুপ
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় দেশটির শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে কটাক্ষ করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক।
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, মাস্কের তীব্র বিদ্রুপ
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন ট্রাম্প, সিএনএনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন কী মার্কিন প্রেসিডেন্ট 
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প