ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন ট্রাম্প, সিএনএনের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনে থাকা একটি স্যুট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ট্রাম্পের পরনে তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের স্যুট দেখে বিস্মিত অনেকে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। কারণ, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের স্যুটটি সম্ভবত চীন অথবা বাংলাদেশে তৈরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক এক সমাবেশে নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরে হাজির হয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তোলা একটি ছবিতে তার স্যুটের ব্র্যান্ড হিসেবে ‘জস. এ. ব্যাংক’ শনাক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত এই ব্র্যান্ডের পোশাক তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের হওয়ায় ট্রাম্পের মতো ধনকুবেরের পোশাক নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

ট্রাম্পের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের সঙ্গে এই স্যুটের বিষয়টি অনেকের কাছেই কিছুটা অপ্রত্যাশিত। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে বিলাসবহুল ব্যক্তিগত ক্লাবের মালিক ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজের সম্পদ ও আভিজাত্যের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। নিজের নামে দামি ঘড়ি বিক্রি থেকে শুরু করে বিলাসবহুল পণ্যের প্রচার সব ক্ষেত্রেই তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের উপস্থিতি স্পষ্ট।

তবে স্যুটটি নিয়ে আলোচনা কেবল এর দাম বা ব্র্যান্ডকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্লোগান ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিও। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসা ট্রাম্পের পরনে থাকা পোশাক যদি চীন বা বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জস. এ. ব্যাংকের অধিকাংশ পোশাক এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তৈরি হয়, যার মধ্যে চীন ও বাংলাদেশ রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের পরনের স্যুটটি বাংলাদেশে তৈরি কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের নিজস্ব অনলাইন স্টোরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সেখানে মার্কিন উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য হিসেবে একটি টাই ১২৫ ডলারে বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি করা পোশাক পরার বিষয়টি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বক্তব্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা।

তবে ট্রাম্পের স্যুটটি ঠিক কোন দেশে তৈরি, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত এটিকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক বলে চূড়ান্তভাবে দাবি করার সুযোগ নেই। একইভাবে, তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের স্যুট পরার পেছনে ট্রাম্পের কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে, নাকি এটি তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় তা-ও স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের পরনের একটি স্যুট ঘিরে তৈরি হয়েছে পোশাকের ব্র্যান্ড, উৎপাদনকারী দেশ এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন আলোচনা। আর সেই আলোচনায় বাংলাদেশের নাম উঠে আসায় বিষয়টি এ দেশের মানুষের কাছেও বিশেষ আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনের স্যুট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত।
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? 
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
নোবেল শান্তি পুরস্কার সাবেক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এক বিচারকের হাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আদালটির কার্যক্রম পঙ্গু করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন। এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন কথিত ‘বেআইনি আদালতটির’ সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। এর মধ্য দিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালতটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অভিযান আরও জোরদার হলো। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে শেষ করে দেব।’ তবে একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ছাড় দেওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কমেছে। কার্যত এতে আদালতটি ছয় মাসের একটি অবকাশ পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ অগ্রগতি’ দেখানোর সুযোগ দিতে এই সময় দেওয়া হয়েছে। দপ্তরটি আরও জানায়, এসব প্রচেষ্টার ‘সাফল্য বা ব্যর্থতার’ ওপর নির্ভর করে অবকাশের মেয়াদ পরিবর্তন করা হতে পারে। আইসিসি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আদালতটি সতর্ক করে বলেছে, ‘ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।’ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সঙ্গে ‘জোরালোভাবে দ্বিমত’ পোষণ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুতর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আইসিসি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞাকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালতটি যাতে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’ বলেও জানিয়েছে জোটটি। ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ছয় মাসের বিলম্বের অর্থ হলো ‘আলোচনার সুযোগ রয়েছে’। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশগুলোকে এই পদক্ষেপের ‘প্রতিরোধ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞাগুলো আদালতটিকে ‘বিচ্ছিন্ন এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করার’ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দপ্তর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আইসিসি কোনো আদালত নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে আইন মেনে চলা গণতন্ত্রগুলোর জন্য এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ধারণার জন্যই প্রাণঘাতী হুমকি।’ একই দিনে নরওয়ের নোবেল কমিটি দক্ষিণ আফ্রিকার ৮৫ বছর বয়সী আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন, আইসিসিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন, যে কমিশন গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। রুবিওর বিবৃতিতে পিল্লাই কিংবা নোবেল পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মী ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, যে আদালতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’ এসব পদক্ষেপ আদালটির সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করবে এবং ‘এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেবে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, আইসিসির কাছে ওয়াশিংটন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘সদিচ্ছার মৌলিক কিছু পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে আসছিল। আদালতটি কিংবা এর সদস্য দেশগুলো অবস্থান পরিবর্তন করবে, এই আশায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও এত দিন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় ‘অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি। রুবিও আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ‘মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর নির্ভরশীল’ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান। অন্যথায় ওয়াশিংটন আইসিসির ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট তদন্তের কারণে আদালতটির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের মধ্যে আদালতটির কৌঁসুলি ও কয়েকজন বিচারক রয়েছেন। ইসরাইলও আইসিসির সদস্য নয়। গত মাসে ট্রাম্প আইসিসির সব সদস্য দেশকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ এবং একটি ‘বেআইনি প্রতিষ্ঠান’ বলে নিন্দা করেন। আরটিভি/টিআর
শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প 
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য কমাতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনার চুক্তি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েও পুতিনের কাছ থেকেই ডিজেল কিনছেন ট্রাম্প 
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, মাস্কের তীব্র বিদ্রুপ
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় দেশটির শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে কটাক্ষ করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক।
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, মাস্কের তীব্র বিদ্রুপ
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে তৈরি স্যুট পরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? 
কথা রাখতে পারেননি ট্রাম্প, চাপে মার্কিনরা
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আমি, দেবে কিনা জানি না: ট্রাম্প
ডেমোক্র্যাট জিতলে ওহাইওকে সহায়তা না করার হুমকি ট্রাম্পের