
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় দুজন এবং আলাবামায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের শক্তি কমে গেলেও প্রবল বাতাস, আকস্মিক বন্যা ও উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়ে গেছে। ঝড়ের কারণে অঞ্চলজুড়ে ছয় লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর ছেড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াস শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ডেস্টিনের কাছে উত্তর উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। আঘাতের সময় এটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড় ছিল। বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল। তবে স্থলভাগে আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝড়টির শক্তি কমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্য হারায়।
ঝড়ের আঘাতে ফ্লোরিডার পেনসাকোলা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মিল্টন হাইস্কুলের ব্যায়ামাগার ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্তত দুটি জ্বালানি স্টেশন এবং গালফ ব্রিজ এলাকার একটি বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে সড়ক চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ফ্লোরিডার গালফ ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা জেইম মিটিচ জানান, ঝড়ের সময় তিনি ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে জুয়েলিয়ানা জ্যাকসন একটি গদি দিয়ে নিজেদের ঢেকে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের বাসার ছাদের একটি অংশ উড়ে যায়। ঝড়ের প্রচণ্ড শব্দে চারপাশে বিভিন্ন জিনিস ভেঙে পড়ছিল বলে জানান তিনি। পরে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিটিচ। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদও জানিয়েছেন তিনি।
নাভারে এলাকায় তামারা স্ট্যাম ও ড্যানিয়েল পাগান ঝড়ের পর ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারে ব্যস্ত ছিলেন। রাতের জন্য দুই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে আশ্রয় নেন, যাতে তাদের নয়টি শিশু একসঙ্গে থাকতে পারে। অন্যদিকে, পানামা সিটির একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁর মালিক শন পালামারচুক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলার বলে অনুমান করেছেন। তিনি জানান, এখন রেস্তোরাঁ চালু করে পুনর্গঠনের কাজে নামতে চান।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের কেন্দ্র ফ্লোরিডা অতিক্রম করলেও বন্যার ঝুঁকি এখনো কাটেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১০ অক্টোবর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ফ্লোরিডা ও আলাবামার জন্যও জরুরি অবস্থা অনুমোদন করা হয়েছিল।
জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র জানিয়েছে, জর্জিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইসাইয়াসের প্রভাবে সপ্তাহান্তজুড়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝোড়ো বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। রোববারের (১১ অক্টোবর) মধ্যে ঝড়টি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


