
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে পরিচয় না দিয়েই গুলি করার অভিযোগ উঠেছে দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তার (আইসিই) বিরুদ্ধে। গুলিতে আহত অস্কার বেলগালের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা আবেদনে দাবি করেছেন, এক কর্মকর্তা তার গাড়ির কাছে ছুটে এসে জানালা ভেঙে গুলি চালান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার পর গুলি চালানো হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আদালতে বেলগালের মুক্তি চেয়ে আবেদন জমা দেন তার আইনজীবীরা। এতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে ফেরার পর বেলগাল গাড়ি রাখার জায়গা খুঁজছিলেন। এ সময় তিনি একটি অগ্নিনির্বাপণ জলকলের সামনে গাড়ি থামিয়ে ছিলেন। তখন মুখ ঢাকা ও অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি তার গাড়ির দিকে ছুটে আসেন। তার পেছনে আরও কয়েকজন মুখ ঢাকা অস্ত্রধারী ব্যক্তি ছিলেন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় দেননি, কোনো পরিচয়পত্র দেখাননি কিংবা বেলগালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেননি। বরং প্রথম ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে গাড়ির চালকের পাশের জানালায় আঘাত করেন। দ্বিতীয় আঘাতেই জানালাটি ভেঙে যায়। এরপর তিনি গাড়ির ভেতরে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। পেছনের আসনে থাকা তার ছেলে তখন আতঙ্কে সিটে গুটিয়ে ছিল। একটি গুলি বেলগালের ঘাড়ে লাগে এবং রক্তপাত শুরু হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশের প্রকাশ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, লাল টুপি ও জামা পরা এক ব্যক্তি অস্ত্র তাক করে বেলগালের গাড়ির দিকে ছুটে যান। এরপর অস্ত্রের নল দিয়ে চালকের পাশের জানালায় আঘাত করেন। দ্বিতীয় আঘাতে কাচ ভেঙে যায়। এ সময় আরেক কর্মকর্তা গাড়ির পাশে এসে অস্ত্র বের করেন।
এরপর বেলগাল গাড়িটি চালিয়ে সড়কের দিকে চলে যান। লাল টুপি পরা ওই কর্মকর্তা তার পিছু নেন। তবে এরপর কী ঘটেছিল, তা পুলিশের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। কিছুক্ষণ পর গুলির চিহ্ন থাকা সামনের কাচ ও পেছনের জানালাসহ ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি একটি কংক্রিটের বাধার পাশে দেখা যায়।
পথচারীদের ধারণ করা ভিডিও এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির বাইরে ফুটপাতে বসা বেলগালের হাতে হাতকড়া পরানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর ঘাড়ের গুলিবিদ্ধ ক্ষতস্থানে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা তাঁকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে গুলি চালানোর আগের ও পরের কিছু ঘটনা দেখা গেলেও ঠিক কীভাবে গুলির ঘটনা ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায়নি।
বেলগালের আইনজীবীদের দাবি, হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পরই তিনি জানতে পারেন, তাকে গুলি করা ব্যক্তিরা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তা। বর্তমানে তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার ঘাড়ে আটকে থাকা গুলি বের করতে এখনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।
তাদের আরও অভিযোগ, বেলগালের মুখের বাঁ পাশের অনুভূতি কমে গেছে এবং শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার আইনজীবী পেরি ম্যাকঅ্যানিঞ্চ ও এলিসা উইলিয়ামস বলেছেন, বেলগালকে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বেআইনি ছিল। তাদের দাবি, পাঁচ বছর বয়সী ছেলের সামনে তাকে ঘাড়ে গুলি করা হয়েছে, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ রয়েছে—এমন একটি আটককেন্দ্রে তাকে রাখা হয়েছে।
কারাগার পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা ব্যুরো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ কোনো মন্তব্য করেনি। বিভাগটি জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। তবে তাদের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নিজেদের জীবন বিপন্ন বলে মনে করায় তাঁরা গুলি চালিয়েছিলেন।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রধান মার্কোস চার্লস বলেন, বেলগালকে গাড়ি থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পরে কর্মকর্তারা তাকে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং গাড়ি নিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তামন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনও দাবি করেছেন, কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে কোনো শিশু আছে বলে জানতেন না। তার অভিযোগ, ছেলেকে বিপদের মুখে ফেলেছিলেন বেলগাল নিজেই।
তবে বেলগালের আইনজীবীদের বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের এই বিবরণে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। তদন্ত শেষে গুলি চালানোর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


