
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে তিন শিশু ও এক শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ হামলার পর আহত এক শিক্ষক ও এক শিশু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শোকের মধ্যেও তাদের বেঁচে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের মনে কিছুটা আশার আলো জোগাচ্ছে।
আহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম। জিনগত সমস্যার কারণে সাধারণত হুইলচেয়ারে চলাফেরা করে সে এবং কথা বলতেও পারে না। তবে তার প্রাণবন্ত স্বভাব ও হাসিমুখ অনেকের মন ছুঁয়ে গেছে। শিশুদের চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে সহায়তা করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্প্যারো ক্লাবসের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন জানান, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেলর চোখ ও বিশেষ কম্পিউটার ট্যাবলেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে।
আহত শিক্ষক ৫৪ বছর বয়সী বেকি ড্রুরি হাত ও বাহুতে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত বাড়ি ফেরার আশা করছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ১৬ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষার্থী গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয় বিদ্যালয়টির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায়। এতে পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্ট নিহত হন।
এ সময় এক শিক্ষক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুই শিক্ষার্থীর বাবা সেখানে এসে বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেন। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণে আরও অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, খেলনা ও বেলুন রেখে নিহতদের স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রশিক্ষক। খেলাধুলার খরচ বহন করতে না পারা শিশুদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য নিজের প্রশিক্ষকের পারিশ্রমিকও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালে জীবনযুদ্ধে থাকা শিক্ষক ও শিশুকে ঘিরে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অরেগনের এই ছোট্ট শহর এখন গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।
সূত্র: এপি
আরটিভি/জেএমএ


