
যুক্তরাষ্ট্রে তিন নারীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত অ্যান্ড্রু লাস্টার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শর্তসাপেক্ষে নজরদারিতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। প্রসাধনসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ফ্যাক্টরের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী অ্যান্ড্রু লাস্টারের মুক্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডোরা শহরের মেয়র ডেভিড ফ্রেডেনডল। তার দাবি, এমন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তি মাত্র ২০ বছর কারাভোগের পর কীভাবে মুক্তি পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মেয়র বলেন, অ্যান্ড্রু লাস্টারের মুক্তিতে গ্লেনডোরা শহর শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও। ৬২ বছর বয়সী লাস্টার প্রায় ২০ বছর কারাভোগের পর গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি ঠিক কোথায় থাকছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস।
ম্যাক্স ফ্যাক্টরের উত্তরাধিকারী এন্ড্রিউ লাস্টার ২০০৩ সালে তিন নারীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের ৮৬টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তাকে ১২৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৩ সালে ভেনচুরা কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টের এক বিচারক সাজাটি বাতিল করেন। বিচারক জানান, আগের বিচারক পরপর একাধিক সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি।
একই বছর লাস্টারের সাজা কমিয়ে ৫০ বছর করা হয় বলে জানিয়েছে ভেনচুরা কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়।
এর আগে একাধিকবার তার আগাম মুক্তির আবেদন নাকচ হয়েছিল। মামলাটির মূল আইনজীবী ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী জেলা অ্যাটর্নি টনি ওল্ড ২০২৪ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিলেন, আগাম মুক্তি না পেলেও প্রায় দুই বছরের মধ্যে লাস্টার কারাগার থেকে ছাড়া পেতে পারেন। সে সময় জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছিল, চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর তার সাজা শেষ হওয়ার কথা।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার সংশোধন ও পুনর্বাসন বিভাগ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পূর্ণ সাজা ভোগের পর ১১ অক্টোবর লাস্টারকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এটি আগাম মুক্তি নয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ভোটারদের অনুমোদিত আইন অনুযায়ী বন্দীরা ভালো আচরণ ও কাজের মাধ্যমে কারাভোগের মেয়াদ কমানোর সুযোগ পান। লাস্টারও বিচারের আগে আটক থাকার সময়ের জন্য ৯৭৭ দিনের ছাড় পেয়েছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ও তিনি নির্ধারিত নিয়মে সাজা কমানোর সুযোগ পেয়েছেন।
গ্লেনডোরার মেয়র ফ্রেডেনডল ২০১৬ সালে অনুমোদিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবনা ৫৭-এর বিষয়টিও তুলে ধরেন। ওই প্রস্তাবনায় অহিংস অপরাধে দণ্ডিত বন্দীদের আগাম মুক্তির সুযোগসহ সাজা কমানোর নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
মেয়র বলেন, রাজ্য কর্তৃপক্ষ সাজা কমানোর হিসাব ও প্রশাসনিক নিয়মের কথা বলতে পারে। কিন্তু ১২৪ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া একজন ব্যক্তি মাত্র ২০ বছর পর কীভাবে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এতে পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, লাস্টারের ওপর আরোপিত শর্তগুলো যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে গ্লেনডোরার পুলিশ বিভাগ রাজ্যের প্রবেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করবে। মুক্তির পরিস্থিতি, তার ওপর আরোপিত শর্ত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্যও দাবি করেছেন তিনি।
মেয়র বলেন, লাস্টারের নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে রয়েছে স্থানীয় জনগণ। অপরাধের ভয়াবহতা যথাযথভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ কোনো ব্যবস্থার কারণে তাদের ভোগান্তি যেন খাটো করে দেখা না হয়।
স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির সাবেক জেলা অ্যাটর্নি ও অপরাধবিচারবিষয়ক আইনি সংস্থার প্রধান অ্যান মেরি শুবার্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে লাস্টারের অপরাধগুলো এখনো অহিংস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ নিয়ম পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হতে দেরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুবার্ট বলেন, ২০২৪ সালে আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলেও লাস্টারের ভুক্তভোগীদের জন্য তা অনেক দেরিতে এসেছে। তার মতে, বিচারব্যবস্থা বারবার ওই নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটি ছিল সীমিত পরিসরের এবং অচেতন ব্যক্তিকে ধর্ষণের অপরাধ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৪৮তম নির্বাচনী এলাকার আইনপ্রণেতা ব্লাঙ্কা ই রুবিওও লাস্টারের মুক্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ঘটনা রাজ্যের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির ব্যবস্থা, জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার ও জননিরাপত্তাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
লাস্টারের মুক্তির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


