
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ৯ জন ছিলেন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথন এবং শেষ মুহূর্তের আতঙ্কিত বার্তা সামনে এসেছে। এদিকে, বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি গাড়ির ড্যাশক্যামের ভিডিওতে।
স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পাম বিচের ক্রেস্টহেভেন এলাকার কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
ড্যাশক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি অস্বাভাবিক গতিতে খাড়াভাবে মাটির দিকে নেমে আসছে। মুহূর্তের মধ্যেই সজোরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এরপরই আগুনের বিশাল গোলায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা।
দুর্ঘটনার আগে বিমানটির পরিস্থিতি নিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে কথা বলেন পাইলট। জানা গেছে, বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে যাচ্ছিল। এ সময় তীব্র ঝাঁকুনির পাশাপাশি বিমানে পাতলা ও শক্ত বরফ জমার কথা জানান তিনি। বরফ জমার ঝুঁকি এড়াতে বিমানটিকে আরও দুই হাজার ফুট ওপরে নেওয়ার অনুমতিও চান পাইলট।
তবে এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বিমানটি হঠাৎ খাড়াভাবে নিচে নামতে শুরু করে। পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান, প্রতি মিনিটে বিমানটি প্রায় ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। পরে এই অবতরণের হার মিনিটে ২০ হাজার এবং ৩০ হাজার ফুটে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।
একপর্যায়ে আতঙ্কিত কণ্ঠে ‘মে ডে’ ঘোষণা করেন পাইলট। বিমানটি বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে বলেও কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান তিনি। এটিই ছিল দুর্ঘটনার আগে পাইলটের শেষ বার্তাগুলোর একটি।
এরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিক গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি।
বিমানটি যে মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়েছে, তার কাছেই রয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। বিমানটি বাড়িগুলোর ওপর আছড়ে পড়লে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। একইভাবে মহাসড়কে চলাচলরত গাড়ির ওপর পড়লেও ঘটতে পারত আরও বড় বিপর্যয়।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানের সব আরোহী। কী কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এভাবে নিচে নেমে এসেছিল, তা জানতে দুর্ঘটনার তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এপি
আরটিভি/এসকে




