
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে জয় পেলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সুযোগ রয়েছে তার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এপির প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে আবদুল এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৫ লাখ ৪ হাজার ১২৩ ভোট, যা মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৪ লাখ ২ হাজার ৫৬ ভোট বা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ১ লাখ ২ হাজার ৬৭ ভোট। তবে এ হিসাবের সময় পর্যন্ত নির্বাচনটির চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।
মিশিগানের এই আসনটি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। ফলে আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা এবং নিজেদের আসনসংখ্যা বাড়াতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রিপাবলিকানরা।
নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দুই প্রার্থী ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। আবদুল এল-সায়েদ ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্বাচনী অর্থায়ন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে মার্কিন করদাতাদের অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি আলোচনায় আসেন।
অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাইক রজার্স কর্মজীবী পরিবারের জন্য কর কমানো, উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে প্রচার চালান।
নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হওয়া হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আলোচিত হয়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে আবদুল এল-সায়েদের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যকে সমর্থনের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তবে তার এই সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাটদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন এবং এল-সায়েদের প্রচারে নতুন করে অনুদান আসতে শুরু করে।
নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় ও ইসরায়েল-নীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতাদের একাংশ তার পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেন। অন্যদিকে, প্রগতিশীল নীতির সমর্থক এবং ফিলিস্তিনপন্থি ভোটারদের মধ্যে তার অবস্থান সমর্থন পায়।
আবদুল এল-সায়েদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে জায়গা করে নেবেন। ফলে মিশিগানের এই নির্বাচনের ফল শুধু অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ, উইওন
আরটিভি/জেএমএ




