ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচনে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম-আমেরিকান সিনেট সদস্য নির্বাচনে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে জয় পেলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সুযোগ রয়েছে তার।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এপির প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে আবদুল এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৫ লাখ ৪ হাজার ১২৩ ভোট, যা মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৪ লাখ ২ হাজার ৫৬ ভোট বা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ১ লাখ ২ হাজার ৬৭ ভোট। তবে এ হিসাবের সময় পর্যন্ত নির্বাচনটির চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।

মিশিগানের এই আসনটি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। ফলে আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা এবং নিজেদের আসনসংখ্যা বাড়াতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রিপাবলিকানরা।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দুই প্রার্থী ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। আবদুল এল-সায়েদ ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্বাচনী অর্থায়ন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে মার্কিন করদাতাদের অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি আলোচনায় আসেন।

অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাইক রজার্স কর্মজীবী পরিবারের জন্য কর কমানো, উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে প্রচার চালান।

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হওয়া হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আলোচিত হয়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে আবদুল এল-সায়েদের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যকে সমর্থনের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তবে তার এই সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাটদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন এবং এল-সায়েদের প্রচারে নতুন করে অনুদান আসতে শুরু করে।

নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় ও ইসরায়েল-নীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতাদের একাংশ তার পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেন। অন্যদিকে, প্রগতিশীল নীতির সমর্থক এবং ফিলিস্তিনপন্থি ভোটারদের মধ্যে তার অবস্থান সমর্থন পায়।

আবদুল এল-সায়েদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে জায়গা করে নেবেন। ফলে মিশিগানের এই নির্বাচনের ফল শুধু অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ, উইওন


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের অভিযোগে হার্ভার্ড বিজ্ঞানীর মামলা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী কসেনিয়া পেত্রোভার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। 
ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের অভিযোগে হার্ভার্ড বিজ্ঞানীর মামলা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প 
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প 
৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেটে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন।
৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা
আমি নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার কোনো পথ বের করতে পারব। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প দায়ী করেছেন নিজের নাম ব্যালটে না থাকাকে। অর্থাৎ, তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ায় দলের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে মনে করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম! নির্বাচনে নিজের সমর্থন দেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।  তবে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখলাম ডারলিন হেরে গেছেন। বাহ, এটা তো অবিশ্বাস্য!’ এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ; দুটির নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতে।  যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষে উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়, পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়। আরটিভি/এসআর
আমি নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত: ট্রাম্প
আরও পড়ুন
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প 
৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা
টেক্সাসে ৩২ বছর পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয়, ইতিহাস গড়লেন টালারিকো