নিয়মিত চুলে রং করা, সোজা করা, কোঁকড়ানো কিংবা অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করার কারণে অনেকের চুল ধীরে ধীরে শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো চুলের প্রাকৃতিক কেরাটিন কমে যাওয়া। কেরাটিন হলো এক ধরনের প্রোটিন, যা চুলকে মজবুত, নরম ও উজ্জ্বল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেকেই চুলের সৌন্দর্য ফেরাতে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী বা পার্লারের পরিচর্যার ওপর নির্ভর করেন। তবে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও কেরাটিনসমৃদ্ধ পরিচর্যা করা সম্ভব, যা নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ডিম ও টক দইয়ের পুষ্টিকর পরিচর্যা
ডিমে থাকা প্রোটিন চুলের কেরাটিন গঠনে সহায়তা করে। আর টক দই মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চুলকে নরম ও উজ্জ্বল করে।
একটি ডিমের সঙ্গে চার টেবিল চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। আধা ঘণ্টা পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুল আরও মসৃণ ও প্রাণবন্ত দেখাতে পারে।
ভাত ও নারিকেলের দুধের পুষ্টিকর মাস্ক
বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়েও চুলের জন্য কার্যকর পরিচর্যা করা যায়। ভাতে থাকা উপকারী উপাদান এবং নারিকেলের দুধের স্বাস্থ্যকর চর্বি ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্ন নিতে সাহায্য করে।
অল্প ভাতের সঙ্গে চার চা চামচ নারিকেলের দুধ, একটি ডিমের সাদা অংশ এবং এক চা চামচ জলপাই তেল ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে লাগান। ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল নরম হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতাও ফিরে আসতে পারে।
কলা ও মধুর পরিচর্যা
শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য কলা ও মধুর মিশ্রণ বেশ উপকারী। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক তেল চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। মধু চুলে প্রাকৃতিক কোমলতা আনে এবং জলপাই তেল চুলকে আরও মসৃণ করে।
একটি পাকা কলার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষভাব কমে যেতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসেও রাখতে হবে গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যা করলেই হবে না, চুলের সুস্থতার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাসও জরুরি। প্রতিদিন ডিম, মাছ, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে চুলের প্রাকৃতিক কেরাটিন গঠনে সহায়তা মিলতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার এড়িয়ে চলাও প্রয়োজন।
চুলের পরিচর্যায় প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এসব মাস্ক একদিনেই ফল দেয় না। তবে নিয়মিত ব্যবহার ও সঠিক যত্নে ধীরে ধীরে চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। এতে চুল হয় আরও মজবুত, কোমল ও প্রাণবন্ত।
আরটিভি/জেএমএ




