ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিয়ের সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো নয়, মেনে চলুন ৩-৩-৩ নীতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
মনোবিজ্ঞানীরা এই নীতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে শুধু একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নয়, এটি ভবিষ্যৎ জীবন, দায়িত্ব, পরিবার এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি দীর্ঘ পথচলার যাত্রা। তাই শুধুমাত্র ভালো লাগা বা আবেগের বশে নয়, বরং একজন মানুষকে সময় নিয়ে বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এই কারণেই বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ৩-৩-৩ ডেটিং রুলস। সম্পর্ককে ধীরে ধীরে যাচাই করার এই পদ্ধতিকে অনেক মনোবিজ্ঞানীও ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

৩-৩-৩ ডেটিং রুলস কী

৩-৩-৩ ডেটিং রুলসের ধারণা খুবই সহজ ও পরিষ্কার। সম্পর্কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঙ্গী এবং নিজের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা হয়। প্রথমটি তিনটি ডেটের পর, দ্বিতীয়টি তিন সপ্তাহ পর এবং তৃতীয়টি তিন মাস পর। এই তিন ধাপে সম্পর্ক কতটা এগোচ্ছে, দুজন কতটা মানিয়ে নিতে পারছেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব কি না, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।


তিনটি ডেটের পর যেসব বিষয় বোঝা যাবে

প্রথম বা দ্বিতীয় দেখা থেকেই অনেক সময় কাউকে ভালো লেগে যেতে পারে। তবে এত অল্প সময়ে একজন মানুষের প্রকৃত স্বভাব বোঝা কঠিন। তিনটি ডেটের পর সাধারণত মানুষের স্বাভাবিক আচরণ কিছুটা প্রকাশ পেতে শুরু করে। তখন বোঝা যায় তিনি কথাবার্তায় আন্তরিক কি না, সম্মানজনক আচরণ করেন কি না, আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কি না এবং আপনিও তার সঙ্গ উপভোগ করছেন কি না।

এ সময় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। বরং সম্পর্কটি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত কি না, সেটিই ভাবার সময়।

তিন সপ্তাহ পর যেসব বিষয় লক্ষ্য করবেন

তিন সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত একে অপরকে বিভিন্ন পরিবেশে দেখার সুযোগ হয়। শুধু ডেটে নয়, দৈনন্দিন জীবন, কাজের ব্যস্ততা কিংবা ছোটখাটো সমস্যার সময় মানুষটির আচরণ কেমন, সেটাও বোঝা যায়।
এই সময় খেয়াল করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন কি না, মতের অমিল হলে কীভাবে কথা বলেন, অন্যদের সঙ্গে তার ব্যবহার কেমন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ভাবনা আপনার সঙ্গে মেলে কি না। কোনো বিষয়ে অস্বস্তি তৈরি হলে সেটি চেপে না রেখে খোলাখুলি আলোচনা করাই সবচেয়ে ভালো।

আরও পড়ুন

তিন মাস পর যেসব কারণ গুরুত্বপূর্ণ

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সম্পর্কের প্রথম দিকের অতিরিক্ত উত্তেজনা বা মোহ তিন মাসের মধ্যে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তখন মানুষ নিজের প্রকৃত স্বভাব নিয়ে সামনে আসে। এ সময় আপনি বুঝতে পারবেন, আপনারা একে অপরের মূল্যবোধ, জীবনযাপন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কতটা মিল খুঁজে পান। সমস্যা হলে একসঙ্গে সমাধান করতে পারেন কি না, সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা অনুভব করেন কি না এবং তার সঙ্গে থাকলে আপনি মানসিকভাবে শান্ত থাকেন কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর তখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।

সন্দেহকে অবহেলা করবেন না

অনেকেই ভাবেন, সময়ের সঙ্গে সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। বাস্তবে সব ক্ষেত্রে তা হয় না। তিন মাস পরও যদি একই বিষয়ে বারবার সন্দেহ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ ছোট সমস্যা ভবিষ্যতে বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। প্রয়োজন হলে খোলামেলা আলোচনা করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

সম্পর্ককে পরীক্ষার হলে পরিণত করবেন না

৩-৩-৩ নিয়মের উদ্দেশ্য সঙ্গীকে পরীক্ষা নেওয়া নয়। বরং সম্পর্কটি সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না, তা বোঝা। তিন মাস পর চাইলে দুজন একসঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। একে অপরের অনুভূতি, প্রত্যাশা এবং পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বললে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

এটি নিয়ম নয়, একটি নির্দেশনা

মনে রাখতে হবে, ৩-৩-৩ ডেটিং রুলস কোনো কঠোর নিয়ম নয়। এটি কেবল একটি গাইডলাইন। প্রতিটি সম্পর্কের গতি আলাদা। কারও ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে, কারও ক্ষেত্রে কম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, বোঝাপড়া এবং সুস্থ যোগাযোগ বজায় রাখা।

বিয়ের সিদ্ধান্ত জীবনের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত। তাই শুধু ভালোবাসা নয়, মানুষটিকেও ভালোভাবে জানা জরুরি। ৩-৩-৩ ডেটিং রুলস সেই জানার পথকে আরও গুছিয়ে দিতে পারে। কারণ কয়েক মাস সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, তাড়াহুড়ো করে ভুল মানুষকে বেছে নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও অন্যান্য

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে বড় দুঃসংবাদ, যা জানালেন গবেষকরা
বিয়েতে নতুন জামাইকে আস্ত খাসি, কীভাবে চালু হলো এই রীতি?
কোলেস্টেরল কমাতে তোকমা দানার উপকারীতা, খাবেন যেভাবে
কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? ৫ খাবারেই মিলতে পারে সমাধান