শুধু পোলাও বা পায়েসে নয়, এখন অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কালো কিশমিশ রাখছেন। বিশেষ করে সকালে ভেজানো কালো কিশমিশ বা এর পানি খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে সাধারণ কিশমিশের তুলনায় কালো কিশমিশ কেন বেশি উপকারী এবং এটি সবার জন্য উপযুক্ত কি না, তা জানা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিশমিশের রং মূলত আঙুরের জাতের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ বা সোনালি কিশমিশের তুলনায় কালো কিশমিশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে, যা শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী।
কালো কিশমিশে রয়েছে আয়রন ও বি-শ্রেণির ভিটামিন, যা রক্তাল্পতা কমাতে এবং শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং কোষকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
এতে থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি ঘটায়, ফলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করায় ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি উপকারী বলে মনে করা হয়।
তবে কালো কিশমিশ উপকারী হলেও এটি সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের কিশমিশেই প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ প্রায় একই। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত কালো কিশমিশ খাওয়া উচিত নয়। কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে মাঝেমধ্যে খুব অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যা জানা জরুরি:
১. কালো কিশমিশে আয়রন ও বি-শ্রেণির ভিটামিন বেশি থাকে।
২. এটি রক্তস্বল্পতা কমাতে ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে।
৪. হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।
৫. ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের নিয়মিত কালো কিশমিশ খাওয়া উচিত নয়। মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



