
রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও ঘুম আসছে না? বারবার এপাশ-ওপাশ করছেন? এমন হলে এক জোড়া মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস করে দেখতে পারেন। শুনতে সাধারণ মনে হলেও, ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে পা উষ্ণ রাখার এই অভ্যাস শরীরকে দ্রুত ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে পারে।
আমাদের নানি-দাদিদের অনেকেই রাতে মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস করতেন। সেই পুরোনো অভ্যাসের পেছনেই এবার মিলেছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
উষ্ণ পা কীভাবে ঘুম আনতে সাহায্য করে?
ঘুমিয়ে পড়ার সময় শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এই তাপমাত্রা কমার প্রক্রিয়া ঘুমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
মোজা পরে পা উষ্ণ রাখলে পায়ের রক্তনালিগুলো কিছুটা প্রসারিত হয়। এর ফলে শরীরের তাপ হাত ও পায়ের মাধ্যমে বাইরে বের হতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে।
এই তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীরকে এক ধরনের সংকেত দেয়—এবার বিশ্রাম নেওয়ার সময় হয়েছে। ফলে শরীর দ্রুত শিথিল হতে এবং ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
একটি গবেষণায় ঠান্ডা ঘরে ছয়জন তরুণের ঘুমের ওপর মোজা পরার প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের একবার মোজা পরে এবং একবার মোজা ছাড়া প্রায় সাত ঘণ্টা ঘুমাতে দেওয়া হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, মোজা পরে ঘুমালে ঘুম আসতে গড়ে সাড়ে সাত মিনিট কম সময় লাগে। মোট ঘুমের সময়ও প্রায় ৩২ মিনিট বেশি ছিল। পাশাপাশি রাতে জেগে ওঠার ঘটনাও কম দেখা যায়।
মোজা পরলে ঘুমের কার্যকারিতাও প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। এ সময় পায়ের তাপমাত্রা গড়ে ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল।
তবে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন বা আরামবোধের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
তাহলে কি প্রতিদিন মোজা পরে ঘুমাবেন?
উষ্ণ পা শরীরকে দ্রুত শিথিল করতে এবং ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে—গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়জন। তাই ফলাফলকে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়ার আগে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।
তারপরও রাতে ঘুমের আগে পা উষ্ণ রাখার এই পুরোনো অভ্যাসটির পেছনে যে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তা গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়।
আরটিভি/জেএমএ


