
পরীক্ষা, চাকরির সাক্ষাৎকার বা জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আগে দুশ্চিন্তা (Anxiety) হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই দুশ্চিন্তা যদি কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে তা উদ্বেগজনিত সমস্যার (anxiety disorder) লক্ষণ হতে পারে।
দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ সব সময় খারাপ নয়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে এটি আমাদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করতে পারে। সাধারণত যে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়, সেটি শেষ হয়ে গেলে উদ্বেগও কমে যায়।
তবে সব দুশ্চিন্তা এক রকম নয়। কখনো কখনো উদ্বেগ এতটাই বেশি ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, তা কাজ, ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সাধারণ দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগজনিত সমস্যার পার্থক্য কী?
সাধারণ দুশ্চিন্তা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা চাপের কারণে হয়। যেমন পরীক্ষার আগে ফলাফল নিয়ে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে সেই দুশ্চিন্তাও সাধারণত কমে যায়।
কিন্তু উদ্বেগজনিত সমস্যায় দুশ্চিন্তা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। অনেক সময় স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা মনে ঘুরতে থাকে। এই উদ্বেগ দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত উদ্বেগের সঙ্গে আরও কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
বিশেষ করে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা যদি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে এবং বেশির ভাগ দিনই স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে, তাহলে তা উদ্বেগজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে পড়ল বিকেলে পরীক্ষা আছে। পরীক্ষা নিয়ে নার্ভাস লাগছে, বুক ধড়ফড় করছে বা পেটে অস্বস্তি হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক লাগছে। এটি সাধারণ দুশ্চিন্তার অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দিনের পর দিন মনে হতে থাকে প্রিয়জনের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটবে। সেই চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বারবার একই ধরনের আশঙ্কা মাথায় আসে। এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
দুশ্চিন্তা যদি আপনার দৈনন্দিন কাজ, ঘুম, শারীরিক সুস্থতা বা জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলে, তাহলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
উদ্বেগজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কথার মাধ্যমে চিকিৎসা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, সহায়ক দল এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, ধ্যান ও শিথিল হওয়ার কৌশলও সহায়ক হতে পারে।
তবে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে দীর্ঘদিনের বা তীব্র উদ্বেগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
সূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ

