
বাজারে মাছ কিনতে গেলে টাটকা ও চকচকে মাছ দেখেই অনেকেই সেটি কিনে ফেলেন। কিন্তু মাছ দেখতে টাটকা হলেই যে তা নিরাপদ, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছ দীর্ঘক্ষণ টাটকা দেখাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কখনও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে ফর্মালিনও রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই রাসায়নিক শরীরে গেলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই মাছ কেনার পর রান্নার আগে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে রাসায়নিকের উপস্থিতি কিছুটা কমানো সম্ভব।
প্রথমেই ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন
বাজার থেকে মাছ আনার পর প্রথমে পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর মাছটি প্রায় এক ঘণ্টা সেই পানিতেই ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে মাছের শরীরে থাকা ফর্মালিনের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
লবণ পানিতেও ভিজিয়ে রাখুন
মাছ পরিষ্কার করার পর লবণ মিশিয়ে জল তৈরি করুন। সেই লবণ পানিতে কিছুক্ষণ মাছ ভিজিয়ে রাখুন। লবণ মাছের শরীরে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক কিছুটা বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে।
ঠান্ডা পানিতে ধোয়া ও লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার এই দুই পদ্ধতি অনুসরণ করলে মাছের রাসায়নিকের পরিমাণ অনেকটা কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাল ধোয়া পানিও ধুতে পারেন
আরও ভালো ফল পেতে মাছ পরিষ্কার করার শুরুতেই চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। চাল ধোয়া পানি দিয়ে মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পর সাধারণ পরিষ্কার জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।
এই পদ্ধতিতেও মাছের শরীরে থাকা ফর্মালিন কিছুটা দূর হতে পারে।
মাছ কিনলেই রান্না নয়
মাছ টাটকা ও চকচকে দেখালেই সরাসরি রান্না না করে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে মাছের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে ঠান্ডা জল, নুন জল ও চাল ধোয়া জল দিয়ে পরিষ্কার করার পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ঘরে ধোয়া বা ভিজিয়ে রাখার কোনো পদ্ধতিই মাছ থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পুরোপুরি দূর করার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই মাছ কেনার সময়ও বিশ্বস্ত বিক্রেতা ও নিরাপদ উৎস বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ


