ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বন্ধু যত কাছেরই হোক, সম্পর্কের এই ৫ কথা তাকে বলবেন না

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুর সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সময় নিজের সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা স্বাভাবিক। সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া, অভিমান কিংবা তার কোনো আচরণ নিয়ে কাছের বন্ধুর কাছে পরামর্শ চাইতেও পারেন। তবে সব কথা বন্ধুদের জানানো সবসময় সম্পর্কের জন্য ভালো নাও হতে পারে।

মনোবিদদের মতে, সম্পর্কের কিছু বিষয় একান্তই দুজনের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ, আপনি হয়তো রাগের মাথায় বন্ধুকে কোনো কথা বললেন, পরে সঙ্গীর সঙ্গে সব ঠিকও হয়ে গেল। কিন্তু আপনার বন্ধু হয়তো সেই ঘটনা বা কথাগুলো মনে রেখে দিতে পারেন। তাই সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে একটি সীমা থাকা জরুরি।

সম্পর্কের কোন বিষয়গুলো বন্ধু বা কাছের মানুষদের না জানানোই ভালো?

১. ঝগড়ার খুঁটিনাটি

দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঝগড়ার সময় সঙ্গী ঠিক কী বলেছেন, কতটা রেগে গিয়েছিলেন কিংবা কী নিয়ে তর্ক হয়েছে—সবকিছু হুবহু বন্ধুদের জানানো ঠিক নয়।

কারণ আপনি হয়তো পরদিনই সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা মিটিয়ে ফেললেন। কিন্তু আপনার বন্ধু হয়তো আপনার সঙ্গীর সেই রাগী বা খারাপ সময়ের আচরণটিই মনে রাখবেন। পরে দুজনের দেখা হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

২. সঙ্গীর ব্যক্তিগত দুর্বলতা

সঙ্গী হয়তো আপনার কাছে নিজের কর্মজীবন, পরিবার, অতীত, শারীরিক গঠন কিংবা অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা অন্য কারও সঙ্গে বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

আপনার কাছে এসব কথা বলা তার বিশ্বাসের প্রকাশ। তাই বন্ধুর সঙ্গে তা শেয়ার করার আগে ভাবুন, সঙ্গী আপনার পাশে থাকলে তিনি কি একই কথা অন্যের সামনে শুনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন?

উত্তর যদি না হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে গল্প করা বা হাসাহাসি না করাই ভালো।

৩. একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও অভ্যাস

প্রতিটি সম্পর্কেই এমন কিছু মুহূর্ত, খুনসুটি, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অভ্যাস থাকে, যা শুধু দুজন মানুষেরই জানা। এসব বিষয় সম্পর্কের বিশেষত্বের অংশ।

বন্ধুদের আড্ডায় এসব একান্ত ব্যক্তিগত কথা বলে ফেললে সঙ্গীর সম্মানে আঘাত লাগতে পারে। সম্পর্কের ভালো লাগা, বোঝাপড়া কিংবা ভালোবাসার কথা বলা এক বিষয়; কিন্তু সেই সম্পর্কের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য অন্যকে জানানো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

৪. পরিবারের ঝামেলা ও বিবাদ

সঙ্গী নিজের মা-বাবা, ভাইবোন বা পরিবারের কাউকে নিয়ে রাগের সময় আপনার কাছে কোনো কথা বলতে পারেন। সেই মুহূর্তের ক্ষোভ থেকে বলা কথাগুলো বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

কারণ রাগের মাথায় মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক কথা বললেও পরদিন আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনি সেই কথাগুলো বন্ধুদের জানিয়ে দিলে তাঁদের মনে ওই পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

৫. সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিয়ে, সন্তান নেওয়া, কর্মজীবনে পরিবর্তন কিংবা অন্য শহরে চলে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে দম্পতিদের মধ্যে অনেক আলোচনা হতে পারে। এসব আলোচনা অনেক সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; বরং নিজেদের মধ্যে ভাবনা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা।

কিন্তু এই প্রাথমিক চিন্তাগুলো বন্ধুদের জানালে তারা সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনে করতে পারেন। পরে এ নিয়ে প্রশ্ন বা মতামত দিতে শুরু করলে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়াও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তাই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করার এবং প্রয়োজন হলে মত পরিবর্তনের স্বাধীনতা থাকা জরুরি।

সব কথা বলার প্রয়োজন নেই

বন্ধুত্বে মন খুলে কথা বলা যেমন জরুরি, তেমনি সম্পর্কের ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমস্যা নিয়ে বন্ধুর পরামর্শ প্রয়োজন হলে পরিস্থিতির মূল বিষয়টি বলা যেতে পারে, কিন্তু সঙ্গীর ব্যক্তিগত দুর্বলতা, একান্ত মুহূর্ত বা ঝগড়ার খুঁটিনাটি প্রকাশ না করাই ভালো।

কারণ একটি সম্পর্ক শুধু ভালোবাসার ওপর নয়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
আজ চকলেট দিবস
শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—চকলেট পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আজ চকলেট দিবস
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা
বছরের পর বছর ধরে অনেকেই লক্ষ্য করেন যে তাদের ঠোঁট কালো হয়ে যাচ্ছে। ধূমপায়ীরা একথা শুনে থাকেন যে এর জন্য সিগারেটই দায়ী। 
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা
আজ কালো বিড়াল দিবস 
কালো বিড়াল রাস্তা পার হলে দুর্ভাগ্য আসে—এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে।
আজ কালো বিড়াল দিবস