ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

স্তন ক্যান্সারের ৫ ধাপ: কোন পর্যায়ে কতটা ছড়ালে শরীরে যা ঘটে 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম
স্তন ক্যান্সারের পর্যায় অনুযায়ী রোগটি স্তন থেকে আশপাশের লসিকাগ্রন্থি হয়ে শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারগুলোর একটি স্তন ক্যান্সার। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নারী এই রোগে আক্রান্ত হন এবং অনেকেই মারা যান। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রতিবছর নতুন স্তন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ৩২ লাখ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১১ লাখে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশেও নারীদের জন্য স্তন ক্যান্সার একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর নারীদের মধ্যে সাড়ে নয় হাজারের বেশি নতুন স্তন ক্যান্সারের ঘটনা শনাক্ত হয়।

তবে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর রোগটি শরীরের কতটা অংশে ছড়িয়েছে, তা জানা চিকিৎসার ধরন ঠিক করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিউমারের আকার, কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়িয়েছে কি না এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে রোগের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্তন ক্যান্সারকে সাধারণত পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়—শূন্য থেকে চার। শূন্য পর্যায়ে ক্যান্সার কোষ নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। আর চতুর্থ পর্যায়ে তা শরীরের দূরবর্তী অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

যেভাবে স্তন ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়

স্তন ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণে টিউমার, লসিকাগ্রন্থি ও শরীরের অন্য অংশে ক্যান্সার ছড়িয়েছে কি না—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে দেখা হয়।

এ ছাড়া ক্যান্সারের হরমোন গ্রহণকারী অংশের অবস্থা, এইচইআর২ নামের একটি বিশেষ প্রোটিনের উপস্থিতি, ক্যান্সারের প্রকৃতি এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক পরীক্ষার ফলও বিবেচনা করা হয়।

শূন্য পর্যায়: ক্যান্সার নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ

শূন্য পর্যায়ে ক্যান্সার কোষ সাধারণত স্তনের দুধ বহনকারী নালির মধ্যে থাকে। তবে তা আশপাশের স্তন টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে না। এই অবস্থাকে দুধনালির ভেতরে সীমাবদ্ধ ক্যান্সার বলা হয়।

প্রথম পর্যায়: ক্যান্সার ছড়ানো শুরু

প্রথম পর্যায় হলো আক্রমণাত্মক স্তন ক্যান্সারের শুরুর পর্যায়। এ সময় ক্যান্সার কোষ স্তনের স্বাভাবিক টিস্যুতে ছড়াতে শুরু করে।

প্রথম পর্যায় ক: টিউমারের আকার ২ সেন্টিমিটার বা তার কম থাকে। এ সময় স্তনের বাইরে বা কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়ায় না।

প্রথম পর্যায় খ: কখনো স্তনে স্পষ্ট কোনো টিউমার নাও থাকতে পারে। টিউমার থাকলে সেটি ২ সেন্টিমিটার বা তার কম হতে পারে। একই সঙ্গে কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে অল্প পরিমাণ ক্যান্সার কোষ পাওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়: কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ছড়াতে পারে

দ্বিতীয় পর্যায় ক: স্তনে টিউমার নাও থাকতে পারে। টিউমার থাকলে তা ২ সেন্টিমিটারের কম হতে পারে এবং বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি সর্বোচ্চ তিনটি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়াতে পারে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের আকার ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার হতে পারে। তবে তখন কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়ানোর প্রমাণ থাকে না।

দ্বিতীয় পর্যায় খ: টিউমারের আকার ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার হতে পারে। এ সময় কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে অল্প পরিমাণ ক্যান্সার কোষ পাওয়া যেতে পারে। আবার বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি সর্বোচ্চ তিনটি লসিকাগ্রন্থিতেও ক্যান্সার ছড়াতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে টিউমার ৫ সেন্টিমিটারের চেয়েও বড় হতে পারে। তবে তখন কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়ানোর প্রমাণ থাকে না।

তৃতীয় পর্যায়: স্তন ও আশপাশে বেশি ছড়িয়ে পড়ে

তৃতীয় পর্যায়ে ক্যান্সার স্তনের আশপাশের টিস্যু ও লসিকাগ্রন্থিতে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তৃতীয় পর্যায় ক: টিউমার দৃশ্যমান নাও হতে পারে। টিউমার থাকলে সেটি যেকোনো আকারের হতে পারে এবং বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি চার থেকে নয়টি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়াতে পারে।

অন্য ক্ষেত্রে টিউমার ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারে এবং সর্বোচ্চ তিনটি কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়াতে পারে।

তৃতীয় পর্যায় খ: টিউমার যেকোনো আকারের হতে পারে। এ সময় ক্যান্সার স্তনের বুকের দেয়াল, ত্বক অথবা উভয় জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। বগলের নিচে সর্বোচ্চ নয়টি লসিকাগ্রন্থি বা কলারবোনের আশপাশের লসিকাগ্রন্থিতেও ক্যান্সার ছড়াতে পারে।

তৃতীয় পর্যায় গ: টিউমার যেকোনো আকারের হতে পারে এবং বুকের দেয়াল বা স্তনের ত্বকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থি, কলারবোনের আশপাশের লসিকাগ্রন্থি কিংবা বগলের নিচে ১০ বা তার বেশি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চতুর্থ পর্যায়: শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়ে

চতুর্থ পর্যায়কে ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যান্সারও বলা হয়। এ পর্যায়ে ক্যান্সার স্তন ও কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থির বাইরে শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

স্তন ক্যান্সার সাধারণত হাড়, মস্তিষ্ক, যকৃৎ ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্যান্সার শরীরের কোন অংশে ছড়িয়েছে, তার ওপর উপসর্গও নির্ভর করতে পারে।

সাধারণভাবে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যাওয়া এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া জায়গার আশপাশে ব্যথা দেখা দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ব্যক্তি ও রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। কারও আবার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে।

তবে সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো স্তনে ব্যথাহীন গাঁট। এ ছাড়া বগলের নিচে বা কলারবোনের কাছে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। স্তন বা বোঁটায় ব্যথা, স্তনের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া, ত্বকে গর্তের মতো হয়ে যাওয়া, ত্বক মোটা বা লালচে হওয়া এবং খসখসে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

বোঁটা দিয়ে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া কিংবা বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও স্তন ক্যান্সারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।

কোন পর্যায়ে বেঁচে থাকার হার কত

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্যভান্ডারে স্তন ক্যান্সার শরীরে কতটা ছড়িয়েছে, তার ভিত্তিতে তিনটি ভাগ করা হয়—স্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কাছাকাছি অংশে ছড়ানো এবং শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়ানো।

তথ্য অনুযায়ী, স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ। কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থি বা টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়লে এই হার ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আর শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়লে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ৩১ শতাংশ।

সব ধরনের স্তন ক্যান্সার মিলিয়ে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার গড় হার ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে এসব পরিসংখ্যান বড় জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একজন নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্য, ক্যান্সারের ধরন এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

স্তন ক্যান্সারের পর্যায় জানা রোগটি কতটা ছড়িয়েছে এবং চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করে। তবে একই পর্যায়ের সব রোগীর অবস্থা এক রকম নয়। তাই স্তনে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

সূত্র: হেলথলাইন

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
ফলের মধ্যে আপেল বেশ জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই ফলটি লাল, সবুজ ও হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি আপেলের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, নানা জাত ও পরিবেশগত গুরুত্ব। এসব বৈচিত্র্য তুলে ধরতে প্রতিবছর ২১ অক্টোবর পালিত হয় অ্যাপল ডে, যা ন্যাশনাল অ্যাপল ডে নামেও পরিচিত। অ্যাপল ডে কী ও কেন পালিত হয়? অ্যাপল ডে শুধু আপেল খাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপনের দিন নয়। আপেলের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরিও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের আপেল বেশি দেখা গেলেও বিশ্বজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার জাত। এসব আপেলের রং, আকার, স্বাদ ও গন্ধে রয়েছে ভিন্নতা। দিবসটি মানুষকে আপেলের এই বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করে। এ ছাড়া ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপেল দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অ্যাপল দিবসের ইতিহাস অ্যাপল দিবসের সূচনা হয় ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড (Common Ground) ওই বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি আয়োজন করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের পুরোনো অ্যাপল মার্কেটে অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনে প্রায় ৪০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের আপেল, আপেলগাছের চারা, আপেলের রস ও সাইডারসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এতে আপেল নিয়ে কাজ করা লেখক ও চিত্রকররাও অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাতের পরিচিতি হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন শহর, গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অ্যাপল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের প্রদর্শনী, ফলের স্বাদ গ্রহণ, রান্নার আয়োজন এবং বাগান পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আপেল সম্পর্কে ৬টি মজার তথ্য ১. বিশ্বে আপেলের হাজার হাজার জাত রয়েছে আপেল বলতে শুধু লাল বা সবুজ ফলকেই বোঝায় না। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বে আপেলের ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাত রয়েছে। জাতভেদে এসব আপেলের স্বাদ, রং, আকার ও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। ২. আপেল পানিতে ভাসে আপেলের ভেতরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা বাতাসে পূর্ণ। এ কারণে আপেলের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাধারণত পানিতে ভেসে থাকে। ৩. আপেল ও গোলাপ একই পরিবারের আপেল ও গোলাপ দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এরা একই পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের নাম রোজেসি (Rosaceae)। নাশপাতি, পিচ ও বরইও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ৪. আপেলের আদি উৎস মধ্য এশিয়া গৃহপালিত আপেলের উৎপত্তির ইতিহাস মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে বর্তমান কাজাখস্তান অঞ্চলে পাওয়া বুনো আপেলকে আধুনিক আপেলের পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ৫. আপেল দিয়ে তৈরি হয় নানা খাবার সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল দিয়ে জুস, জ্যাম, পাই, কেক, সালাদ ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আপেল থেকে সাইডারও তৈরি করা হয়। ৬. আপেল দিবসে থাকে নানা আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের জাত চেনা, ফলের রস তৈরি, আপেল দিয়ে রান্না, বাগান পরিচর্যা এবং শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। কোথাও কোথাও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জাতের আপেল শনাক্ত করতেও সহায়তা করেন। আপেলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা আপেল খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আপেল খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু আপেল খেয়ে শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন। আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি। প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আপেল দিবসের গুরুত্ব জাতীয় আপেল দিবস একটি ফলকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও এর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। আপেলের বৈচিত্র্য রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিবস। ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ প্রতিবছর ২১ অক্টোবর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সম্পর্ক। আরটিভি/এসকে
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার। যদিও পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
সন্তান না হলে অনেক সময় এর দায় নারীর ওপর চাপানো হয়। তবে বন্ধ্যত্ব শুধু নারীর সমস্যা নয়, পুরুষেরও হতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান বা চলাচলের সক্ষমতায় সমস্যা থাকলে পুরুষের সন্তান জন্মদানে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
আরও পড়ুন
ইবিতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’
স্তন ক্যান্সারের নীরব লক্ষণ, সময় থাকতেই হোন সতর্ক
সেক্রেড গেমস অভিনেত্রী রাজশ্রী দেশপাণ্ডে স্তন ক্যানসার আক্রান্ত