
বেঁচে যাওয়া বা বাসি ভাত পুনরায় গরম করে খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। সাধারণত বাসি ভাতের গন্ধ বা চেহারা পরিবর্তন না হওয়ায় আমরা একে নিরাপদ মনে করি।
তবে চিকিৎসকদের মতে, সঠিক নিয়ম না মানলে এই ভাতই হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক অসুস্থতার কারণ।
‘আজকাল’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা গরম না করলে এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়, যা থেকে ফুড পয়জনিং ও অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, আসল বিপদ ভাতের সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় লুকিয়ে থাকে। রান্না করা ভাত দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া সবচেয়ে বড় ভুল।
বিশেষ করে যারা হোস্টেল বা মেসে থাকেন, তাদের মধ্যে খাবার বাইরে ফেলে রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ঘরের তাপমাত্রায় ভাতে ‘ব্যাসিলাস সেরিয়াস’ নামক ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে।
তবে মজার বিষয় হলো, চিকিৎসকরা ভাত ফ্রিজে রাখাকে স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রান্নার পর দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা ভাত পরদিন খেলে ভাতের স্টার্চ ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ রূপান্তরিত হয়। এটি শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা গাট মাইক্রোবায়োমকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বাসি ভাতের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ভাত রান্না করার পর তা বেশিক্ষণ বাইরে না রেখে দ্রুত ঠান্ডা করে বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজে তুলে রাখা উচিত।
এছাড়া বাসি ভাত একবারের বেশি কখনোই গরম করা ঠিক নয়। প্রতিদিনের খাবারে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই ঘরোয়া ও পরিচিত খাবার হলেও সঠিক অভ্যাস ও সচেতনতা বজায় রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতা এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।
আরটিভি/এএইচ




