ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইলিশের নামে বিক্রি হচ্ছে চন্দনা ও সুরমা, চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের চড়া দাম ও বাজারে চাহিদার সুযোগ নিয়ে আসল ইলিশের বদলে চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় অনেক ক্রেতা এসব মাছকে ইলিশ ভেবে কিনছেন। বিশেষ করে হোটেলে রান্না করা মাছ পরিবেশনের সময় আসল ইলিশ ও অন্য মাছের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দনা ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ হলেও এটি আসল ইলিশ নয়। অন্যদিকে সুরমা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মাছ। তাই মাছের গঠন, রং ও গায়ের দাগ দেখে এদের পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করতে পারেন ক্রেতারা।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। মাছটি মূলত সাগরে বসবাস করলেও প্রজননের জন্য নদীতে আসে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশের বিচরণ রয়েছে। ২০১৭ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ চন্দনার বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa toli। উপকূলীয় এলাকা, মোহনা ও জোয়ার-ভাটার নদীতে এ মাছের দেখা মেলে। সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে এটি ‘চন্দনা ইলিশ’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে মাছটিকে ‘ফুইট্টা ইলিশ’ বলা হয়। ইংরেজিতে এর নাম টোলি শ্যাড।

চন্দনার গায়ের রং রুপালি, যাতে হলদে আভা থাকতে পারে। ফুলকার পেছনে অস্পষ্ট কালচে ছাপ দেখা যায়। ওপরের চোয়ালের মাঝখানেও ছোট খাঁজ রয়েছে। সাধারণত এটি ইলিশের তুলনায় ছোট হয়। তবে শুধু আকার দেখে চন্দনা ও ইলিশের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

চন্দনা নামটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। Sardinella melanura নামের আরেকটি সামুদ্রিক মাছকেও কোথাও কোথাও চন্দনা ইলিশ বলা হয়। মাছটি ‘ব্ল্যাকটিপ সার্ডিনেলা’ নামে পরিচিত। বাংলায় একে ‘কালটিপ তাকিয়া’ও বলা হয়। এর লেজের ডগায় কালো রং থাকে। ফলে স্থানীয় নামের ওপর নির্ভর করে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে সুরমা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Scomberomorus commerson। এটি ম্যাকেরেল পরিবারের মাছ, যার ইংরেজি নাম কিং ম্যাকেরেল। অঞ্চলভেদে মাছটি ‘ডোরা মাইট্টা’ বা ‘চম্পা’ নামেও পরিচিত।

সুরমার দেহ লম্বাটে ও দুই পাশ চাপা। পিঠ নীলচে রুপালি এবং পেট সাদাটে। শরীরে সারি সারি কালচে খাড়া দাগ থাকে। এর চোয়ালে শক্ত দাঁত রয়েছে, যেগুলোর কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। এসব বৈশিষ্ট্য আসল ইলিশ থেকে সুরমাকে আলাদা করতে সহায়তা করে।

ইলিশের উচ্চমূল্যও এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চাঁদপুরের মাছঘাটে এ বছর প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগে অসাধু বিক্রেতারা অন্য মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সার্ডিন, চৌক্কা, চন্দনা, চকোরি ও টাকিয়াসহ বিভিন্ন মাছকে ইলিশ নামে বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে। আস্ত মাছ দেখে অভিজ্ঞ ক্রেতারা কিছুটা পার্থক্য বুঝতে পারলেও কাটা বা রান্না করা মাছের ক্ষেত্রে তা কঠিন।

এ ক্ষেত্রে জাটকা নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। জাটকা হলো ইলিশের কিশোর পর্যায়ের মাছ, আলাদা কোনো প্রজাতি নয়। অন্যদিকে চন্দনা স্বতন্ত্র প্রজাতির মাছ। তাই ছোট মাছ দেখেই সেটিকে চন্দনা বা জাটকা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ব্যবহারের অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় নামের বিভ্রান্তি দূর করা। একই মাছ অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। আবার একই স্থানীয় নামে একাধিক প্রজাতির মাছও পরিচিত হতে পারে।

আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে

বাজারে মাছ কেনার সময় সম্ভব হলে আস্ত মাছ বেছে নেওয়া ভালো। মাছের দেহের গঠন, রং ও গায়ের দাগ খেয়াল করতে হবে। চন্দনা সাধারণত ইলিশের চেয়ে ছোট হয়, আর সুরমার শরীরে স্পষ্ট খাড়া কালচে দাগ থাকে। তবে একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

হোটেলে ইলিশের অর্ডার দেওয়ার আগে মাছটির পরিচয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যেতে পারে। দাম অস্বাভাবিক কম হলে কিংবা বিক্রেতা মাছের পরিচয় স্পষ্ট করতে না চাইলে সতর্ক থাকা দরকার।

ইলিশ বাংলাদেশের নদী, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চন্দনা ও সুরমার নিজস্ব পরিচয় থাকলেও সেগুলোকে ইলিশ বলে বিক্রি করা ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই মাছের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু
পূজার আনন্দে মিষ্টিমুখ না হলে কি চলে।
পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু
শুধু টমেটো নয়, কলা দিয়েও তৈরি হয় কেচাপ! জেনে নিন রেসিপি
বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা ভাজা মুরগির সঙ্গে কেচাপ খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। লাল রঙের ঘন এই সসের কথা মনে এলেই সাধারণত টমেটোর কথা মাথায় আসে।
শুধু টমেটো নয়, কলা দিয়েও তৈরি হয় কেচাপ! জেনে নিন রেসিপি
যে গোলাপি কেকের প্রেমে মশগুল বিশ্বখ্যাত স্টাইল আইকনরা
নিউইয়র্ক শহরে খাবার নিয়ে হঠাৎ করে উন্মাদনা তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। কখনো ম্যাগনোলিয়া বেকারির কাপকেক, কখনো ক্রোনাট, আবার কখনো বিশালাকার লেভাইন কুকিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে নানা খাবারই পেয়েছে সাময়িক তারকাখ্যাতি। তবে এসব ক্ষণস্থায়ী ট্রেন্ডের ভিড়েও প্রায় নয় দশক ধরে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে একটি বিশেষ কেক।
যে গোলাপি কেকের প্রেমে মশগুল বিশ্বখ্যাত স্টাইল আইকনরা
ঢাকায় ‘নাইটস ইন ইস্তাম্বুল’ তুর্কি ফুড ফেস্টিভ্যাল
ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠান শেরাটন ঢাকা আয়োজন করেছে ‘নাইটস ইন ইস্তাম্বুল’ শীর্ষক বিশেষ তুর্কি ফুড ফেস্টিভ্যাল। আগামী ৩ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বনানীর শেরাটন ঢাকার ১৪তম তলায় দ্য গার্ডেন কিচেনে এ আয়োজন চলবে।
ঢাকায় ‘নাইটস ইন ইস্তাম্বুল’ তুর্কি ফুড ফেস্টিভ্যাল
বিশ্ব নারিকেল দিবস আজ
নারিকেল আমাদের কাছে খুব পরিচিত একটি ফল। কাঁচা অবস্থায় ডাবের পানি ও শাঁস, আর পাকা নারিকেল দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম খাবার। কেবল স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারিকেলের ব্যাপক কদর রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষ, উৎপাদন ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবার ও নানা কাজে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে। এর আদি উৎস নিয়ে নানা মত থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নারিকেলের সম্পর্ক বেশ গভীর। সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারিকেলও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইউরোপে নারিকেলের পরিচিতি ঘটে প্রায় ১৬ শতকের দিকে। ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের হাত ধরে ধীরে ধীরে এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তে। নারিকেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা ও এই শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে গঠিত এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (এপিসিসি)। সংস্থাটি নারিকেল উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে প্রথম পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষিদের উৎসাহ দেওয়া, নারিকেলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দিবসটির মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশে নারিকেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহারগুলোর একটি হলো ডাব। গরমে ডাবের পানি যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি কাঁচা নারিকেলের শাঁসও অনেকের প্রিয়। পাকা নারিকেল ব্যবহৃত হয় রান্না ও মিষ্টান্ন তৈরিতে। নারিকেলের দুধ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন পদ। নারিকেলের তেলও রান্না, প্রসাধনীসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। এমনকি নারিকেলের ছোবড়া ও খোল দড়ি, মাদুর, জ্বালানি কিংবা বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নারিকেল এমন একটি ফল, যার গাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কোনো না কোনোভাবে মানুষের কাজে আসে। পুষ্টিতেও পিছিয়ে নেই নারিকেল। এর শাঁসে রয়েছে চর্বি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। অন্যদিকে ডাবের পানিতে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট থাকে। তবে ডাবের পানি বা নারিকেলকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। বিশ্ব নারিকেল দিবস পালনের সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে দেশীয় এই ফলটির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জানা ও অন্যদের জানানো। ডাবের পানি পান করা, নারিকেল দিয়ে কোনো খাবার তৈরি করা কিংবা নারিকেল চাষিদের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি। বাংলাদেশের গ্রামবাংলার সঙ্গে নারিকেল গাছের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। বাড়ির উঠানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নারিকেলগাছ কেবল ফলই দেয় না, ছায়া, জ্বালানি ও নানা উপকরণও জোগায়। তাই বিশ্ব নারিকেল দিবস কেবল একটি ফল উদযাপনের দিন নয়; এটি নারিকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং এই বহুমুখী গাছের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব মনে করারও একটি উপলক্ষ। আরটিভি/এসআর
বিশ্ব নারিকেল দিবস আজ
আরও পড়ুন
পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে হামলা, আটক ৪১ জেলে
‘সরকারের কোনো সহায়তা পাই না, বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়েই নদীতে নামি’
মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা 
মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড