ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিদায় ২০২৫, স্বাগতম ২০২৬

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম আকাশে রক্তিম আভা ছড়িয়ে ডুবছে ২০২৫ সালের শেষ সূর্য। পেছনে পড়ে রইল সাক্ষী হয়ে থাকা বহু ভাঙা-গড়ার এক উত্তাল অধ্যায়। জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিসরে বাংলাদেশের মানুষ আজ আরো একটি নতুন বছরে পা রাখছে;

তবে এই পথচলা নিছক সময়ের আবর্তন নয়, বরং দু’চোখ ভরা এক বুক বড় স্বপ্নের। ২০২৫ সালের দিনগুলো ছিল প্রতিরোধ, হৃৎস্পন্দন থমকে দেওয়া শোক আর এক অদম্য জাতির মাথা নত না করার অমর উপাখ্যান।

বছরের বিদায়বেলায় এক শোকাতুর পরিবেশ গ্রাস করেছে পুরো দেশকে। গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে কেঁদেছে কোটি প্রাণ। এ দেশের মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার যে আসনে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন, তার প্রমাণ মিলেছে বিদায়বেলার সেই অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায়। মানুষ তাদের প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানিয়েছে একরাশ গভীর মমতা আর পরম শ্রদ্ধায়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যায় এ শোকের কালো মেঘ আরো ঘনীভূত হয়। এই হত্যাকাণ্ড স্তব্ধ করে দিয়েছে আরেকটি নীরব গল্পকে। যে গল্প বলে, মানুষ আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির ছায়ায় মাথানত করতে রাজি নয়।

তবুও এই শোকের দরিয়ায় ভাসতে ভাসতে জাতি আজ এক অমোঘ গর্বে বুক বাঁধছে। অগণিত মানুষের সেই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি; বরং শহীদদের সেই রক্ত আজ এক নতুন যুগের শিকড়ে প্রাণ সঞ্চার করেছে। ক্ষতবিক্ষত হয়েও বাংলাদেশ আজ এক মহাবিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এ দেশের মাটি আজ সমৃদ্ধ হয়েছে এক নতুন পুনর্জাগরণের অঙ্গীকারে।

সব ভাঙন আর দুর্বলতা সত্ত্বেও ২০২৫ কোনো আত্মসমর্পণের বছর নয়, বরং জাগরণের বছর। তবে, রূপান্তরের পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ হয় না, এই বিপ্লবও তার চরম মূল্য নিয়েছে। শূন্য হয়েছে বহু মায়ের কোল, ঘরগুলো আজ প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে হাহাকার করছে। মানুষের স্বপ্নগুলো থমকে গিয়েছিল কিছুকাল, জীবিকার চাকা হয়েছিল স্থবির। শরীরের দৃশ্যমান ক্ষত আর মনের গহীনে জমে থাকা অদৃশ্য দাগগুলো আজ জাতীয় সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫-এর সেই ক্ষতগুলো মুছে যাবে না ঠিকই, তবে সেগুলো বয়ে বেড়াবে এক অপরাজেয় সাহসিকতার পদক হিসেবে। পুরোনো ঘুণে ধরা ব্যবস্থার প্রতিটি ফাটল আজ হয়ে উঠেছে নতুন সৃষ্টির উর্বর ভূমি। যেখানে একসময় দুর্নীতির রাজত্ব ছিল, সেখানে আজ ন্যায়বিচারের চারা রোপিত হচ্ছে; যেখানে ছিল হতাশা, সেখানে ডানা মেলছে নতুন সুযোগ; আর বিভেদের বিষবাষ্প সরিয়ে জেগে উঠছে এক অভূতপূর্ব ঐক্য।

দেশ গড়ার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল সরকারের কাঁধেই বর্তায় না। এ দেশের মানুষ আজ নিজের ভাগ্যের চাবিকাঠি নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, যারা ছিল এই গণজাগরণের হৃৎস্পন্দন, তারাই আজ আগামীর আধুনিক স্থাপত্যের মূল কারিগর হিসেবে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশৃঙ্খল আর কণ্টকাকীর্ণ হলেও ২০২৫ সালটি ছিল এই মহাকাব্যের এক অপরিহার্য অধ্যায়।

২০২৬ সালের ভোরের প্রথম আলো যখন দিগন্তে উঁকি দেবে, তখন তাকে মনে হবে দীর্ঘ বিরহের পর এক পরম মমতাময়ী সন্ধি। যে রাজপথগুলো একসময় মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হতো, সেখানে এখন পড়বে আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টা আর কারিগরদের শান্ত অথচ দৃঢ় পদক্ষেপ।

২০২৬ সালের এই উদয় কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়; এটি একটি জাতির পুনর্জন্ম। এটি এক পবিত্র অঙ্গীকার যে, উত্তাল সময়ের শিক্ষাগুলোই হবে আগামীর পথপ্রদর্শক। এ জাতি এখন আর শুধু কোনোমতে টিকে থাকাতে সন্তুষ্ট নয়; বরং আমরা এখন অদম্য সাহসে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর।

নতুন এই বাংলাদেশের হয়তো কিছু অপূর্ণতা আছে। কারণ, কোনো রাষ্ট্রই নিখুঁত নয়। কিন্তু এই বাংলাদেশ এখন অকুতোভয় হয়ে স্বপ্ন দেখতে জানে, অন্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে জানে এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে নতুন কিছু গড়তে জানে। ২০২৫ সালের প্রতিটি বিসর্জন আজ রূপ নিতে চলেছে ন্যায়বিচার, সাম্য আর সমৃদ্ধির ভিত্তিপ্রস্তরে।

২০২৬ সালের ভোর কেবল সূচনা নয়। এটি এক পুনর্জন্মের ঘোষণা। অশান্ত এক বছরের শিক্ষা ভবিষ্যৎ নির্মাতাদের পথ দেখাবে, এই অঙ্গীকারই এর মর্মকথা। এই জাতি আর কেবল টিকে থাকার কথা ভাববে না। দৃঢ়ভাবে, নির্ভীকভাবে এগিয়ে যাবে শ্রেষ্ঠত্বের পথে।

একইসঙ্গে ২০২৬ সাল আমাদের সামনে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন। এই যে সুযোগ আমরা পেলাম, তা দিয়ে আমরা কী গড়বো? আজ বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠস্বরে একই সুর, সবার হাতেই এখন নতুন ইতিহাস লেখার কলম।

নদী বয়ে চলে অবিরাম, আর বাতাসের কানে কানে ভেসে আসে আশার গুঞ্জন। এ দেশের মানুষ আজ আর শোকের ভারে নুয়ে নেই; বরং যা কিছু তারা অর্জন করেছে, সেই প্রাপ্তির শক্তিতে আজ সম্মুখপানে অগ্রসরমান।

২০২৬ কেবল একটি নতুন বছর নয়; আসছে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণমূলক আর উৎসবমুখর এই নির্বাচনের মাধ্যমে সূচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন প্রারম্ভ।

বাংলাদেশ আজ তার সোনালি ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াচ্ছে, যা এ দেশের মানুষের অদম্য প্রাণশক্তি আর আশার অবিনশ্বর শক্তিরই এক জীবন্ত দলিল।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল: ডা. জাহেদ
বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। সে কারণে পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ফলে সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তারপরও চলমান আন্দোলনে কয়েকজনের মধ্যে যে ধরনের সংহিস আচরণ দেখা গেছে, সেটা কোনোভাবেই পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারবে বলে মনে করি না। তবে যেহেতু তাদের কাছে লুটের অনেক টাকা আছে, কোথাও কোথাও নাশকতা করতে পারে। এর সঙ্গে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি হবে বলে মনে করি না। তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের পরও কোনো না কোনো সময় অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। ১৯৯১ সালে হেরে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। এখনও তিনি শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যত দিন উনি বেঁচে আছেন, তত দিন এ চেষ্টা করবেন বলে মনে করি এবং সেটাকে প্রতিহত করবো। স্বৈরাচারী সরকার ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য আছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো আন্দোলনে বিরোধীপক্ষকে দায়ী করার যে প্রবণতা, তা বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সরকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়েই বিরোধীপক্ষকে দায়ী করছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে আন্দোলন মোকাবেলা করতো তার চেয়ে অনেক ভালোভাবে মোকাবেলো করা হচ্ছে। তারপরও দু-একটি জায়গায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কোথায় গুলি করলে সবচেয়ে কম ক্যাজুয়ালটিতে নিবৃত্ত করা যাবে, সে চর্চাগুলো সরকারের অধীনে পুলিশ করবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইনে লেখা আছে, পুলিশ কোন পরিস্থিতিতে হত্যার জন্য গুলি করতে পারবে। পরিস্থিতি হলে পুলিশ লিথ্যাল উইপন ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু সেটা আইনি প্রক্রিয়ায়, আইনি নিয়মে অবধারিত ছিল কিনা, সে প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পোশাকশ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল: ডা. জাহেদ
দেশের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি ভবনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই নির্দেশনা কার্যকর হবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাসেও।
দেশের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা
হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি
২৪-এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে...
হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত সমর্থন চেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
আরও পড়ুন
কুড়িগ্রামে ফুলে সাজানো রিকশায় চড়িয়ে গ্রাম পুলিশকে বিদায়
৪৮ বছর ইমামতি শেষে পেলেন রাজকীয় বিদায়
২০ বছরের কর্মজীবন শেষে ঘোড়ার গাড়িতে আবেগঘন বিদায়
জবির ইতিহাস বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত