ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আজ (২৬ মার্চ)— মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয় স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা।

এ বছর পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিবসটি পালন করছে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে।

রক্তঝরা ইতিহাসের সূচনা

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। কিন্তু দমে যায়নি বাঙালি জাতি। সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে প্রতিরোধ। নয় মাসের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়— জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতিকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশব্যাপী কর্মসূচি

দিবসটি উপলক্ষে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাজধানীসহ সারা দেশে আয়োজন করা হয়েছে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষ আয়োজন

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ বিভিন্ন ঘাটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সিনেমা হলে বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। জাদুঘরগুলোও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য।

দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের দিন নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকারের দিন। জাতির এই মহান অর্জনকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া।

স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস / বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
নয়াপল্টনে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’এমন নানা স্লোগানে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকা সেনানিবাস ও রাজধানীর রাজপথ। ব্যারাক ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকেরা।
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার একটু আগে সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। সমাবেশ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসছেন নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে রয়েছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা। শোভাযাত্রায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। কর্মসূচি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে ঢাকা ছাড়াও আজ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে একই কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। আরটিভি/এসকে
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস  / শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে  রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
আরও পড়ুন
ভারতে স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস নেতাকে ছেলেসহ কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা
টানা দ্বিতীয় বছর লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রাহুল-খাড়গে
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
ইউরোপের ওয়ারস্ব শহরে মর্যাদা ও গৌরবে উদযাপিত হলো স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস