পঁচিশ বছরের তরুণ। নাম তার সবুজ। দুই পায়ে ভর দিয়ে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারেন না। অথচ তিনিই অন্যের চলার পথ সহজ করে দিচ্ছেন নিজের ছোট্ট জুতার দোকানে বসে।
যেখানে এমন শারীরিক গঠনে অনেকেই অন্যের উপর ভরসায় বাঁচেন, সেখানে সবুজ কারো বোঝা নয় হয়ে উঠেছেন পরিবারের ভরসা।
বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গণকবাড়ি এলাকায়। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বড় হয়েছেন সবুজ। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। স্পষ্ট করে কথাও বলতে পারেন না। তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি।
২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেছেন। তারপর ঘরে বসে না থেকে, সাহস করে শুরু করেছেন ছোট্ট এক জুতার দোকান।
পরিবার জানায়, জন্মের সময় মস্তিষ্কে আঘাত পেয়েছিলেন সবুজ। সেই থেকেই এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা। তার বাবা বাড়ি বাড়ি ঘুরে জুতা বিক্রি করেন। বাবার সেই কষ্টটা নিজের চোখে দেখেছেন সবুজ। তাই নিজের সাধ্যমতো দোকানটা চালিয়ে, সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন দোকানে আসা-যাওয়াটাই সবুজের জন্য সবচেয়ে বড় লড়াই। একটি থ্রি-হুইলার আর একটু আর্থিক সহায়তা পেলে, এই লড়াইটা আরও সহজ হতো তার জন্য।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সবুজ ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তাকে একটি থ্রি-হুইলার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, অদম্য ইচ্ছাশক্তিই যে মানুষকে এগিয়ে নেয়, সবুজের জীবনসংগ্রাম সে কথা নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
আরটিভি/এআর




