আন্তর্জাতিক ফুটবলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল আইনপ্রণেতা। বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিল মানবাধিকারভিত্তিক প্রচারণা সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার। তবে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি।
আইওসি এক বিবৃতিতে জানায়, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মূলত ফিফার শাসনব্যবস্থা, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফুটবলের নিয়ম বাস্তবায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব বিষয় আইওসির নৈতিকতা বিধির আওতাভুক্ত নয়। অর্থাৎ, স্বতন্ত্র সংস্থা ফিফা বা তাদের কোনো কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড তদন্তের এখতিয়ার নেই অলিম্পিক কমিটির।
আইওসির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) বালোগানের স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার নৈতিকতা কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস বিবিসিকে বলেন, এই ঘটনায় তাদের সংস্থা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। পরবর্তী বোর্ড সভায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। ফলে পরের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি নিষিদ্ধ হওয়ার কথা।
কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সেই নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। যা নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ফিফা সভাপতি। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফার নীতি লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করেই মানবাধিকারভিত্তিক প্রচারণা সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার আইওসির কাছে অভিযোগ করেছিল।
সংস্থাটির দাবি, ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ইনফান্তিনো অলিম্পিক সনদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছেন। ইনফান্তিনো ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য।
অলিম্পিক সনদের দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে, আইওসি সদস্যরা কোনো সরকার, সংস্থা বা অন্য কোনো পক্ষের এমন নির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন না, যা তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ভোটদানে প্রভাব ফেলতে পারে।
আরটিভি/এসআর




