
যৌন নির্যাতনের দায়ে ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর কোচ জোনাথন বুকাবাকওয়া কারামুক্তির পরও তরুণ ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে।
‘মেসি’ নামে পরিচিত বুকাবাকওয়া আগে লিম্পোপো ও মালাবো অঞ্চলে যুব দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ফিফার তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৩ সালে তাকে ২০ বছরের জন্য ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক জরিমানাও করা হয়। একই অপরাধে কঙ্গোর কর্তৃপক্ষও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছিল। গত বছর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
তবে মুক্তির পর আবারও কোচিংয়ে ফেরার অভিযোগ উঠেছে বুকাবাকওয়ার বিরুদ্ধে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার লিমেতের এস্পেরান্তো ক্লাবে একদল তরুণ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও তারা দেখেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রও জানিয়েছে, একটি স্কুলের মাঠে বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে দেখা যায় বুকাবাকওয়াকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘মেসি? তিনি এখনো প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আপনি সহজেই তার দলের সঙ্গে তার দেখা করতে পারেন। তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখেন না।’
বিষয়টি জানতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বুকাবাকওয়া নিজেই তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, আমি ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অবগত ছিলাম না। আমাকে কিছুই বলা হয়নি। তারা কখনো আমাকে প্রশ্ন করেনি বা কোনো কিছু পাঠায়নি।
এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালে বুকাবাকওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় ফিফা জানিয়েছিল, ফুটবলে সব ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের আরও সুরক্ষা দিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রক কাঠামোও নিয়মিত হালনাগাদ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ফিফার ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় একজন কোচ কীভাবে আবারও তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এ ঘটনায় সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
আরটিভি/এসকে




