
কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ। ইমরানকে একজন ‘সৎ মানুষ’ উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন ৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ।
তিনি বলেন, কেউ আমাকে এটা বুঝিয়ে বলুন। সে কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবে? আমরা সবাই পাকিস্তানি। একসঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা উচিত। পরিস্থিতিকে অযথা দীর্ঘায়িত করা ঠিক নয়।
ইমরানের সঙ্গে খেলোয়াড়ি জীবনে কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না বলেও জানান পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলা এবং দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানোর স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
মিয়াঁদাদ বলেন, আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম। একসঙ্গে আমরা পাকিস্তানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলাম।
সাবেক সতীর্থের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, আমার প্রার্থনা হলো, যা সঠিক, তা যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি যা বলছি, হৃদয় থেকেই বলছি।
ইমরানের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। মিয়াঁদাদের ভাষায়, আমি যদি কিছু করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমরা সবাই পাকিস্তানের পতাকা বহন করেছি। অন্য সব মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত।
ইমরান খানকে জাতীয় বীর হিসেবেও উল্লেখ করেন মিয়াঁদাদ। অতীতে ইমরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা করলেও এবার তার অবদান স্মরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
‘যা ভুল, তা ভুলই। তবে অবশ্যই সে একজন জাতীয় বীর। আমি পাকিস্তান সরকারের কাছেও আবেদন জানাচ্ছি। আমরা অনেক সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি এবং একসঙ্গে খেলেছি। আমি ইমরানকে খুব ভালোভাবে চিনি। সে একজন সৎ মানুষ, বলেন মিয়াঁদাদ।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তার আশঙ্কা, ইমরানের কিছু হলে দেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
মিয়াঁদাদ বলেন, আল্লাহ না করুন, তার কিছু হলে কী ঘটবে দেশে, তা কি কল্পনা করতে পারেন? পুরো পাকিস্তান কাঁদবে।
ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদের ক্রিকেটীয় বন্ধুত্বের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৯২ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন, যা পাকিস্তানের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বেই পাকিস্তান তাদের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। ক্রিকেট থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক।
আরটিভি/এসকে




