
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দুর্নীতি নিয়ে তৈরি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তবে প্রতিবেদনে নাম থাকা নয় ক্রিকেটারকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তদন্তকারী দলের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল।
তিনি জানিয়েছেন, ওই ক্রিকেটারদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত নন এবং তাদের ক্রিকেট খেলায় কোনো নিষেধাজ্ঞাও নেই।
শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, তাদের তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গোপনীয়। কাকে তদন্ত করা হবে, কাকে হবে না কিংবা তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবেএ বিষয়ে কোনো পক্ষ তাদের নির্দেশনা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদন জেনারেল কাউন্সেলের কাছে পাঠানো হয়। এরপর বিসিবি সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মার্শাল আরও জানান, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই সরাসরি তদন্ত শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো ক্রিকেটার যদি জানান, তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে খারাপ খেলার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি তদন্ত শুরুর সম্ভাব্য ভিত্তি হতে পারে। একইভাবে সতীর্থ, কোচ, ম্যানেজার, সাংবাদিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে কোনো দল খারাপ খেললেই সেটিকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখা হয় না। উদাহরণ দিয়ে মার্শাল বলেন, কোনো দল ৫০ রানে অলআউট হলে ক্ষুব্ধ কোনো দর্শক ফোন করে সেটিকে ম্যাচ ফিক্সিং দাবি করতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয় না। একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এবং অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকলেই তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়।
তদন্ত চলাকালে সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়। অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনা হতে পারে।
তদন্ত শেষে সাধারণত তিন ধরনের ফল পাওয়া যায়। শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলেও অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আর কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলে কিংবা ভুল পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উঠলে তদন্ত বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করা হয়।
নির্দিষ্ট করে ওই নয় ক্রিকেটার প্রসঙ্গে অ্যালেক্স মার্শাল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর তিনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করেছিলেন যে কিছু ব্যক্তি টুর্নামেন্টের জন্য হুমকি হতে পারেন। এ কারণে তাদের বিপিএলে আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তবে মার্শাল স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজে নয়জন ক্রিকেটারকে আলাদাভাবে নির্বাচন করেননি। প্রতিবেদনে নয়জনের চেয়েও বেশি মানুষের নাম ছিল। তাদের মধ্যে যারা বিপিএল-১২-তে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
ওই নয় ক্রিকেটার আগামী বিপিএলে খেলতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যালেক্স মার্শাল বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
তিনি জানান, বিপিএল-১২-এর আগে কিছু ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ না জানানোর যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল শুধুমাত্র ওই আসরের জন্য। বর্তমানে কোনো ক্রিকেটারের ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই, যদি না তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হয়ে থাকেন।
মার্শালের ভাষায়, ওই নয় ক্রিকেটারের কেউই অভিযুক্ত হননি। ফলে তারা ক্রিকেট খেলতে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
অর্থাৎ, তদন্ত প্রতিবেদনে নাম থাকা মানেই কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। বরং সংশ্লিষ্ট নয় ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা ক্রিকেট খেলার নিষেধাজ্ঞা নেই।
আরটিভি/এসকে




