ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিপিএলের ৯০০ পৃষ্ঠার রিপোর্টে চাঞ্চল্য, ৯ ক্রিকেটারকে নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দুর্নীতি নিয়ে তৈরি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তবে প্রতিবেদনে নাম থাকা নয় ক্রিকেটারকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তদন্তকারী দলের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল।

তিনি জানিয়েছেন, ওই ক্রিকেটারদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত নন এবং তাদের ক্রিকেট খেলায় কোনো নিষেধাজ্ঞাও নেই।

শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, তাদের তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গোপনীয়। কাকে তদন্ত করা হবে, কাকে হবে না কিংবা তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবেএ বিষয়ে কোনো পক্ষ তাদের নির্দেশনা দিতে পারে না।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদন জেনারেল কাউন্সেলের কাছে পাঠানো হয়। এরপর বিসিবি সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মার্শাল আরও জানান, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই সরাসরি তদন্ত শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো ক্রিকেটার যদি জানান, তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে খারাপ খেলার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি তদন্ত শুরুর সম্ভাব্য ভিত্তি হতে পারে। একইভাবে সতীর্থ, কোচ, ম্যানেজার, সাংবাদিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে কোনো দল খারাপ খেললেই সেটিকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখা হয় না। উদাহরণ দিয়ে মার্শাল বলেন, কোনো দল ৫০ রানে অলআউট হলে ক্ষুব্ধ কোনো দর্শক ফোন করে সেটিকে ম্যাচ ফিক্সিং দাবি করতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয় না। একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এবং অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকলেই তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়।

তদন্ত চলাকালে সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়। অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনা হতে পারে।

তদন্ত শেষে সাধারণত তিন ধরনের ফল পাওয়া যায়। শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলেও অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আর কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলে কিংবা ভুল পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উঠলে তদন্ত বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করা হয়।

নির্দিষ্ট করে ওই নয় ক্রিকেটার প্রসঙ্গে অ্যালেক্স মার্শাল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর তিনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করেছিলেন যে কিছু ব্যক্তি টুর্নামেন্টের জন্য হুমকি হতে পারেন। এ কারণে তাদের বিপিএলে আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

তবে মার্শাল স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজে নয়জন ক্রিকেটারকে আলাদাভাবে নির্বাচন করেননি। প্রতিবেদনে নয়জনের চেয়েও বেশি মানুষের নাম ছিল। তাদের মধ্যে যারা বিপিএল-১২-তে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

ওই নয় ক্রিকেটার আগামী বিপিএলে খেলতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যালেক্স মার্শাল বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

তিনি জানান, বিপিএল-১২-এর আগে কিছু ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ না জানানোর যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল শুধুমাত্র ওই আসরের জন্য। বর্তমানে কোনো ক্রিকেটারের ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই, যদি না তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হয়ে থাকেন।

মার্শালের ভাষায়, ওই নয় ক্রিকেটারের কেউই অভিযুক্ত হননি। ফলে তারা ক্রিকেট খেলতে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

অর্থাৎ, তদন্ত প্রতিবেদনে নাম থাকা মানেই কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। বরং সংশ্লিষ্ট নয় ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা ক্রিকেট খেলার নিষেধাজ্ঞা নেই।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মিরপুর টেস্টে লজ্জার হার বাংলাদেশের, লিড নিলো ক্যারিবিয়ানরা
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা। তবে স্বপ্ন আর বাস্তবতা মাঝে যে যোজন যোজন পার্থক্য রয়েছে তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল। মিরপুর টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।  মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। এতে ১-০ তে লিড নিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। এদিন ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ১১২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫৫ বলে ৪৯ রান করা জন ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে বিদায় করেন শরিফুল ইসলাম। এরপর ত্যাগনারায়ন চন্দরপলকে (১) দ্রুত বিদায় করেন হাসান মাহমুদ। এর আগে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ দলকে টেনেছেন আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাঈম হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে তার ব্যাটে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিন শেষে ছয় উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের শুরুতে জাকের আলির দিকে তাকিয়ে থাকলেও ২২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম। ৯১ বলে চারটি চার মেরে ৫২ রান করে শেষ পর্যন্ত রস্টন চেজের শিকার হন তিনি। এর আগে টেস্টে নাঈমের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল অপরাজিত ৩৫ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে সেই ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার বল হাতে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনে অবদান রাখলেন ডানহাতি এই স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান তাঁরই। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮.৪ ওভারে মাত্র ১৪২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।  ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক চেজ। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার চার উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি চেজের পঞ্চম পাঁচ উইকেট। আরটিভি/এসআর
মিরপুর টেস্টে লজ্জার হার বাংলাদেশের, লিড নিলো ক্যারিবিয়ানরা
যে তালিকায় মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেললেন গিল
বাণিজ্যিক আকর্ষণ ও বিপণনযোগ্যতার বিচারে ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছেন ভারতের ক্রিকেট অধিনায়ক শুভমান গিল।
যে তালিকায় মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেললেন গিল
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকাল বাংলাদেশ
হংকং সিক্সেসে দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। বোল সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক ওভারেই ৬ ছক্কা হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার হাবিবুর রহমান সোহান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকাল বাংলাদেশ
ক্যারিবীয়দের ১৭০ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের চূড়ান্ত রূপ দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে দিন শেষ করেছিল।
ক্যারিবীয়দের ১৭০ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ
বোলার হান্টে তৃণমূলের স্বপ্নপূরণের নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের বোলার খুঁজে বের করার উদ্যোগে নতুন গতি এনেছে ‘রবি বোলার হান্ট ২০২৬’। দেশজুড়ে প্রতিভাবান বোলারদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি এ আয়োজন তুলে এনেছে তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নপূরণের অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
বোলার হান্টে তৃণমূলের স্বপ্নপূরণের নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগ, আরও ২ জনকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি
বিপিএল বাদেই ৩০-৩৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা
বিপিএল কাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি এনসিপি নেতা রাকিবুলের
বিপিএলের ক্ষতি পোষাণোর বিকল্প পথ খুঁজে পেয়েছে কোয়াব-বিসিবি