
ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই সেরা পাঁচ ফুটবলারের নাম নিখুঁতভাবে অনুমান করে প্রায় ২ লাখ ডলার জিতেছে ১২টি সন্দেহজনক বেটিং অ্যাকাউন্ট। ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুরস্কারটির আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। পাশাপাশি বিষয়টি পুলিশকেও জানিয়েছে তারা।
গত ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। সেরা পাঁচে তাঁর পর ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রিগো হার্নান্দেজ ও লিওনেল মেসি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আপসাইডের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই এই পাঁচ ফুটবলারের নাম ও অবস্থান হুবহু অনুমান করেছিল ১২টি অনলাইন অ্যাকাউন্ট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি নির্ভর প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে বাজি ধরা হয়েছিল।
আপসাইডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রাফায়েল পুতার্ড জানান, তাঁদের অনুসন্ধানী দল ১ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে খোলা ১২টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে। অ্যাকাউন্টগুলোর কার্যক্রমে বেশ কিছু অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। সাতটি অ্যাকাউন্ট অন্য কোনো বেটিং মার্কেটে অংশ নেয়নি। আবার ছয়টি অ্যাকাউন্ট খোলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রথম বাজি ধরেছিল। এসব মিলের কারণে অ্যাকাউন্টগুলো একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, ১২টি অ্যাকাউন্টের অনুমান শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। এতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ লাখ ডলার মুনাফা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃপক্ষ ফরাসি পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করবে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত আয়োজকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ফ্রান্স ফুটবলের সাবেক সম্পাদক পাসকাল ফেরে ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীর নাম গোপন রাখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেছিলেন, কোনো গোপন তথ্য আড়ালে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সেটি যত কম মানুষের সঙ্গে সম্ভব ভাগাভাগি করা।
তবে এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই কীভাবে সেরা পাঁচের তালিকা বেটিং মার্কেটে হুবহু মিলে গেল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে বাজির সঙ্গে জড়িত বিপুল অর্থ এবং অ্যাকাউন্টগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রম আয়োজকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আপসাইড তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল ইতোমধ্যে ফ্রান্স ফুটবলের কাছে হস্তান্তর করেছে। ১৯৫৬ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর আয়োজন করে আসছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন, যার মালিক আমাউরি গ্রুপ।
আরটিভি/এসকে


