ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কেন স্পেস স্যুট পড়তে হয় নভোচারীদের, জানলে অবাক হবেন

হাবিবুল কবীর

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশের অসীম শূন্যতায় নভোচারীদের জীবন রক্ষা করার একমাত্র ঢাল হলো তাদের স্পেস স্যুট। এটি কেবল একটি পোশাক নয়, বরং এটি একটি ছোটখাটো 'ব্যক্তিগত মহাকাশযান'।

​মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই, নেই অক্সিজেন বরং আছে প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয়তা আর তাপমাত্রার চরম ওঠা-নামা। এই বৈরী পরিবেশে নভোচারীদের টিকিয়ে রাখতে স্পেস স্যুট এক অভাবনীয় প্রকৌশল।

নিচে স্পেস স্যুটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো:

​১. এক জটিল সুরক্ষা ব্যবস্থা
​একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেস স্যুট মূলত নভোচারীকে পৃথিবীর মতো একটি কৃত্রিম পরিবেশের মধ্যে রাখে। এর প্রধান

কাজগুলো হলো:

অক্সিজেন সরবরাহ: নভোচারীদের শ্বাস নেওয়ার জন্য স্যুটটি সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং নিঃশ্বাসের সাথে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড সরিয়ে ফেলে।

চাপ নিয়ন্ত্রণ: মহাকাশে কোনো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নেই। স্যুটের ভেতরে নির্দিষ্ট বায়ুচাপ বজায় রাখা হয় যাতে শরীরের রক্ত ও তরল ফুটে না যায়।

​তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মহাকাশে রোদ থাকলে তাপমাত্রা হতে পারে ১২১°C পর্যন্ত, আবার ছায়ায় তা নেমে যেতে পারে -১৫৭°C-এ। স্পেস স্যুট এই চরম অবস্থা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।


​
২. স্যুটের বিভিন্ন স্তর
​একটি আধুনিক স্পেস স্যুট তৈরিতে প্রায় ১৪টি স্তর ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

অভ্যন্তরীণ স্তর: এটি মূলত আরামদায়ক কাপড়ের তৈরি, যা শরীরের ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে।
​
প্রেসার ব্লাডার: এই স্তরটি স্যুটের ভেতর বায়ুচাপ ধরে রাখে।

​থার্মাল প্রোটেকশন: তেজস্ক্রিয়তা এবং অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে স্পেস স্যুটের বাইরের অংশ সাধারণত সাদা রঙের হয়, যা সূর্যের তাপ প্রতিফলিত করে।


​
৩. ব্যাকপ্যাক বা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম
​নভোচারীদের পিঠে যে বড় ব্যাগটি দেখা যায়, সেটিকে বলা হয় Primary Life Support System (PLSS)। এটিই হলো স্যুটের আসল প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকেই অক্সিজেন প্রবাহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং যোগাযোগ যন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয়।
​

৪. হেলমেট এবং ভিজর
​স্পেস স্যুটের হেলমেটটি অত্যন্ত শক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এর সামনের কাঁচ বা ভিজরটি সাধারণত স্বর্ণের পাতলা প্রলেপ দিয়ে ঢাকা থাকে। এই সোনালী স্তরটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে চোখ ও ত্বকের ক্ষতি করতে বাধা দেয়।

​আধুনিক বিবর্তন
​বর্তমানে নাসা (NASA) এবং স্পেস-এক্স (SpaceX) আরও উন্নত ও হালকা ওজনের স্যুট তৈরি করছে। মঙ্গল অভিযান বা চাঁদে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য এখন এমন সব স্যুট ডিজাইন করা হচ্ছে যা আগের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়, ফলে নভোচারীরা আরও সহজে চলাফেরা করতে পারবেন। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর উদ্ভাবনই মানুষকে পৃথিবীর বাইরে অজানাকে জানার সাহস যুগিয়ে চলেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’
দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত এ সামিটে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।
ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির পরামর্শে মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে খিঁচুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী।
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কালের কণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ও বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মো. মাসুদ রুমী। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কুমার বিশ্বজিত রায়।
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
বাংলা ভাষায় মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা, উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৬।
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ প্রযুক্তির প্রভাবে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।  বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় একদিনে বাজারমূল্য থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারিয়েছে তারা। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে। এর প্রভাবে বুধবারের ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার আয় ধরে রাখাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআই খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। অ্যামাজনের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ১ শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এআই থেকে শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আরটিভি/এসআর
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
আরও পড়ুন
মহাকাশে বাবা, সন্তানের জন্ম হবে পৃথিবীতে 
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে নতুন মহাকাশ একাডেমি
মহাকাশে ধান চাষে চীনের নতুন সাফল্য
মহাকাশে নতুন যাত্রা, চার নভোচারীকে পাঠাচ্ছে নাসা