
লোডশেডিং ও বিদ্যুতের খরচ কমাতে অনেকের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু বাজারে ৪০০, ৫৫০, ৬০০ ওয়াট বা তারও বেশি ক্ষমতার নানা ধরনের প্যানেল পাওয়া যায়। ফলে শুধু বেশি ওয়াটের প্যানেল দেখেই সেটি কিনে ফেললে হবে না। বাড়িতে কত বিদ্যুৎ লাগে, দিনে কতক্ষণ ব্যবহার হয় এবং কী ধরনের যন্ত্র চালানো হবে এসব হিসাব করেই সোলার সিস্টেম বেছে নিতে হবে।
১. আগে হিসাব করুন কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন
সোলার প্যানেল কেনার প্রথম ধাপই হল নিজের বিদ্যুতের চাহিদা জানা। দিনে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, কোন কোন যন্ত্র কতক্ষণ চলে তার একটি হিসাব করুন। ফ্যান, লাইট, টিভি, ফ্রিজ, পানির পাম্প, কম্পিউটার বা এসির মতো যন্ত্রের ব্যবহার আলাদা করে ধরতে হবে। এই হিসাব না করে শুধু ৫৫০ বা ৬০০ ওয়াটের প্যানেল কিনলে প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি ক্ষমতার সিস্টেম হয়ে যেতে পারে।
২. কত ওয়াটের প্যানেল লাগবে?
প্যানেলের ক্ষমতা নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং আপনার এলাকার সূর্যের আলো পাওয়ার ওপর। বাংলাদেশে ভালো রোদ পাওয়া গেলে একটি সোলার প্যানেল দিনে তার রেটেড ক্ষমতার কয়েক ঘণ্টা সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে আবহাওয়া, ছায়া, প্যানেলের অবস্থান, তাপমাত্রা ও সিস্টেমের ক্ষতির কারণে বাস্তব উৎপাদন কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ৫৫০ ওয়াটের কয়েকটি প্যানেল দিয়ে একটি সিস্টেম তৈরি করা যায়। কিন্তু কতটি প্যানেল লাগবে, তা নির্ধারণ করতে দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদার পাশাপাশি স্থানীয় সূর্যালোকের হিসাব করতে হবে। তাই শুধু ‘কত ওয়াটের প্যানেল’ নয়, পুরো সিস্টেমের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দেখা জরুরি।
৩. প্যানেলের ধরন বুঝে নিন
সোলার প্যানেলের মধ্যে মনোক্রিস্টালাইন, পলিক্রিস্টালাইন এবং বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্যানেল রয়েছে। মনোক্রিস্টালাইন প্যানেল সাধারণত জায়গার তুলনায় ভালো উৎপাদন দিতে পারে। আবার এন-টাইপ বা দ্বিমুখী প্রযুক্তির প্যানেল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আরও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। তাই শুধু ‘সবচেয়ে নতুন’ প্রযুক্তি না দেখে নিজের ছাদ, বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেল বেছে নেওয়া উচিত।
৪. ব্যাটারি লাগবে কি?
এখানেও প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি দিনের বেলায়ই মূলত সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ থাকে, তাহলে অন-গ্রিড সিস্টেম বিবেচনা করা যায়। এতে সাধারণত বড় ব্যাটারি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ চলে গেলেও রাতে ফ্যান, লাইট, রাউটার বা অন্য যন্ত্র চালাতে চাইলে ব্যাটারিসহ অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড সিস্টেম প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু প্যানেল নয়, ব্যাটারির ক্ষমতাও হিসাব করতে হবে।
৫. ইনভার্টারকে অবহেলা করবেন না
প্যানেল বিদ্যুৎ তৈরি করলেও বাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রে সেটি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত ইনভার্টার। ইনভার্টারের ক্ষমতা যেন সোলার অ্যারে এবং আপনার লোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড এবং হাইব্রিড কোন ধরনের সিস্টেম আপনার জন্য উপযুক্ত, সেটিও নির্ভর করবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন এবং ব্যাকআপের প্রয়োজনের ওপর।
৬. ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর পরিষেবা দেখুন
সোলার সিস্টেম দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য কেনা হয়। তাই প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির আলাদা ওয়ারেন্টি কতদিন, কোনো সমস্যা হলে কে পরিষেবা দেবে এবং যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে কি না কেনার আগে লিখিতভাবে জেনে নিন। অস্বাভাবিক কম দামের অফারে আকৃষ্ট হওয়ার বদলে পণ্যের মান ও পরিষেবার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
তাই বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল বাছাইয়ের সময় শুধু প্যানেলের দাম বা ওয়াট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা, প্যানেলের মোট ক্ষমতা, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ছাদের জায়গা এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা সবকিছু মিলিয়ে সিস্টেম নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/এমএ


