ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ পিএম
কাল্পনিক ছবি

অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও দেখা মিলছে এসব ছবির। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন এতটাই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে যে, অনেক সময় আসল ছবি ও কৃত্রিম ছবির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্টের বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় হয়েছে ‘এআই স্লপ’ শব্দটিও। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে দেখা কোনো ছবির সত্যতা যাচাই করা জরুরি হয়ে উঠেছে। তবে কিছু লক্ষণ খেয়াল করলে সহজেই সন্দেহজনক ছবি শনাক্ত করার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি ছবি চেনার ৬টি লক্ষণ জেনে নেওয়া যাক—

১. লেখায় অস্বাভাবিকতা

এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার অন্যতম সহজ উপায় হলো ছবির ভেতরে থাকা লেখা পরীক্ষা করা। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, সাইনবোর্ড, টি-শার্ট কিংবা বিজ্ঞাপনে লেখা বিকৃত, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা অর্থহীন হলে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আধুনিক এআই মডেল লেখার ক্ষেত্রে উন্নতি করলেও ছবির ছোট ছোট অংশে ভুল থেকে যেতে পারে। তাই সন্দেহজনক ছবির লেখা জুম করে দেখা উচিত।

২. হাত ও শরীরের গঠনে অসংগতি

মানুষের হাত ও আঙুলের গঠন এআই-তৈরি ছবিতে প্রায়ই অস্বাভাবিক দেখা যায়। অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, বিকৃত নখ কিংবা অস্বাভাবিক গাঁট চোখে পড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া কবজি, কনুই, ঘাড়, পা ও শরীরের অনুপাতও খেয়াল করতে হবে। চোখ, নাক ও দাঁতের গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকলেও ছবিটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা

এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে অনেক সময় মানুষের ত্বক অস্বাভাবিক মসৃণ, চোখ অতিরিক্ত উজ্জ্বল, চুল নিখুঁতভাবে সাজানো কিংবা দাঁত অস্বাভাবিকভাবে সমান দেখা যায়। প্রথম দেখায় এসব ছবি আকর্ষণীয় মনে হলেও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে কৃত্রিমতার আভাস পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু নিখুঁত চেহারা দেখেই কোনো ছবিকে এআই-তৈরি বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

৪. অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত বস্তু ও পরিবেশ

খাবার, পণ্য কিংবা বিজ্ঞাপনের ছবিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এসব ছবিতে খাবারের গঠন, রং, আলো ও সাজসজ্জা কখনো কখনো অস্বাভাবিক নিখুঁত দেখায়। বাস্তব দৃশ্যের স্বাভাবিক দাগ, অসম্পূর্ণতা কিংবা আলো-ছায়ার বৈচিত্র্য অনুপস্থিত থাকলে ছবিটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত। তবে পেশাদার ফটোগ্রাফিতেও এ ধরনের নিখুঁত দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

৫. আলো, ছায়া ও প্রতিফলনে অসংগতি

ছবির পেছনের দৃশ্য, ছায়া ও প্রতিফলনেও এআইয়ের ভুল ধরা পড়তে পারে। যেমন, আলোর উৎসের সঙ্গে ছায়ার দিক না মেলা, আয়নায় প্রতিফলন অস্বাভাবিক হওয়া কিংবা পটভূমির কোনো বস্তু বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া। ছবিতে অতিরিক্ত জটিল বা অস্বাভাবিক নকশা থাকলেও সেটি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

৬. সূক্ষ্ম বিবরণ অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া

এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ছবিতে কখনো কখনো সূক্ষ্ম বিবরণ অস্পষ্ট হয়ে যায়। ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার স্বাভাবিক গঠন কিংবা পোশাকের নকশা ভালোভাবে ফুটে না উঠলে ছবিটি পরীক্ষা করা উচিত। পুরোনো ছবি রঙিন করা বা ছবির মান উন্নত করার সময়ও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ফলে ছবি আঁকা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে মনে হতে পারে।

ছবি যাচাইয়ে কাজে আসতে পারে যেসব টুল

শুধু চোখের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত টুল ব্যবহার করেও ছবির উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সার্কেল টু সার্চ’ এবং গুগল লেন্সের ‘অ্যাবাউট দিস ইমেজ’ ফিচারের মাধ্যমে ছবিটি কোথায় প্রকাশিত হয়েছে বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য তথ্য খুঁজে দেখা যায়।

এ ছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপে ছবি আপলোড করে সেটি বিশ্লেষণ করতে বলা যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কিছু ছবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাচাই-সুবিধাও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব টুলের ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

এআই ইমেজ ডিটেক্টর কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতিই সব ক্ষেত্রে শতভাগ নির্ভুল নয়। কখনো এআই-তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হতে পারে, আবার বাস্তব ছবিকেও ভুলভাবে কৃত্রিম বলে চিহ্নিত করা হতে পারে।

তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির মূল উৎস, প্রকাশের সময়, প্রেক্ষাপট এবং দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে সংবাদ, ব্যক্তি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি প্রকাশের আগে মূল উৎস যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ প্রযুক্তির প্রভাবে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।  বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় একদিনে বাজারমূল্য থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারিয়েছে তারা। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে। এর প্রভাবে বুধবারের ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার আয় ধরে রাখাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআই খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। অ্যামাজনের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ১ শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এআই থেকে শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আরটিভি/এসআর
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী, ৬০ বছরেও হয়নি অজানা রহস্যের সমাধান
পৃথিবীতে প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর ঘটে মৃদু এক ধরনের ভূকম্পন। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই রহস্য নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো এর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী, ৬০ বছরেও হয়নি অজানা রহস্যের সমাধান
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান
বাংলাদেশকে এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শহর থেকে গ্রামকে ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশকে এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, সমস্যায় পড়তে পারেন যেসব ব্যবহারকারী
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল সিম বা ই-সিম ফোনে সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে। এতে নিবন্ধিত সিম ছাড়া এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, সমস্যায় পড়তে পারেন যেসব ব্যবহারকারী
আরও পড়ুন
এআই দিয়ে উপন্যাস লিখে পুরস্কার ও প্রকাশক দুটোই হারালেন জনপ্রিয় লেখক
ছয় মাসে ৮০ বিলিয়ন ডলার লোকসান এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
ব্যাংকের নামে ফোন, কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার