ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঝিনাইদহের ২১ প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ছবি: আরটিভি

ঝিনাইদহের ইতিহাস মানেই শুধু অতীত নয়-এটি এই জনপদের আত্মপরিচয়। সময়ের স্রোতে কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ স্থাপনাগুলো আজ চরম অবহেলার শিকার। অযত্ন, অপরিকল্পিত ব্যবহারে ক্ষয় আর যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গর্ব বহনকারী জেলার ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি হেরিটেজ স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনার গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের বইয়ের পাতায়।

নীলকুঠি থেকে রাজবাড়ি-সবখানেই অবহেলার ছাপ:

জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ। চুন-সুড়কি,ইট ও টালির তৈরি এই স্থাপনাটির ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি,দেয়ালে ধরেছে শ্যাওলা ও বড় বড় ফাটল। অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনের ভেতরে এখন সাপ,ব্যাঙ,শেয়াল ও কুকুরের অবাধ বিচরণ।

Jhenaidah_Heritage_Sites_Photo_10

এটি শুধু একটি স্থাপনার চিত্র নয়। জেলার মিয়ার দালান, শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ,নলডাঙ্গা রাজবাড়ি ও মন্দির,বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদ,কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবীদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি হেরিটেজ স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৃত্যুপথযাত্রী।

তালিকায় ২১টি স্থাপনা,বাস্তবে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ:

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা হেরিটেজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে,অধিকাংশ স্থাপনাই নেই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায়। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত।

Jhenaidah_Heritage_Sites_Photo_4

শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার,নিরাপত্তা বেষ্টনী,সাইনবোর্ড কিংবা পর্যবেক্ষক না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি-এখনই জরুরি পদক্ষেপ:

তারা বলছেন, শুধু গেজেট প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত জরিপ,দ্রুত সংস্কার পরিকল্পনা,পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ তার মূল্যবান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হারাতে পারে। এসব হেরিটেজ স্থাপনা শুধু অতীতের নিদর্শন নয়-এগুলো স্থানীয় পরিচয়,ইতিহাস ও সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Jhenaidah_Heritage_Sites_Photo_15

অথচ অবহেলা আর তদারকির অভাবে সেগুলো আজ নিঃশব্দে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তালিকাভুক্ত ২১টি স্থাপনাই ভবিষ্যতে কেবল নথির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে-বাস্তবে থাকবে না কোনো চিহ্ন। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়,তবে ঝিনাইদহের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শনগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে কালের গহ্বর থেকে যাবে শুধু স্মৃতি আর আফসোস।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশা:

মহেশপুর উপজেলার রাসেল আহমেদ বলেন, তালিকাভুক্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কার্যত থেমে যায়। কোনো কোনো স্থাপনা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকায় সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ভূমি অফিসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরুই হয়নি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ব্যবস্থা অদ্যবধি গ্রহণ করা হয়নি। এটি দর্শনীয় স্থান হওয়া সত্বেও রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে দিন দিন এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

Jhenaidah_Heritage_Sites_Photo_8

কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ওলিয়ার রহমান বলেন, বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন তদারকি না করাই সেগুলো দিনদিন ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। সময় থাকতে প্রশাসন দৃষ্টি না দিলে পর্যায়ক্রমে ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাবে।

শৈলকুপার ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব বলেন,‘ইতিহাসের সাক্ষী এসব স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার,নিয়মিত তদারকি ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। শুধু গেজেটভুক্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। না হলে অযত্নে এগুলো একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

প্রশাসনের বক্তব্য:

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেআরা বলেন, সদর উপজেলার হরিশংকরপুরে অবস্থিত কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের জন্য ইতি মধ্যে জেলা পরিষদের কাছে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। আশা করি প্রকল্পটি পাস হলেই বাইন্ডারি প্রাচিরসহ বিল্ডিং মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। কযেকটি স্থান পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে সেগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমি শুনেছি কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের বসতবাড়ি আছে। সেটি সময় করে পরিদর্শন করবো। যদি সংস্কার করার প্রয়োজন হয় করবো।

Jhenaidah_Heritage_Sites_Photo_11

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে দাড়িয়ে আছে। এটি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, হেরিটেজ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সংস্কার ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মন্ত্রীর প্রটোকলের ফাঁকে এসিল্যান্ডের সেলফি, ছবি ভাইরাল
সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততার ফাঁকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নিজের কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়। চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া চা-বাগানে তোলা তার কয়েকটি সেলফি ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিগুলো পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল, চণ্ডীছড়া চা-বাগান, চুনারুঘাট।’ ছবিগুলোর সঙ্গে হাবিব ওয়াহিদের একটি রোমান্টিক গানও যুক্ত করেন তিনি। জানা যায়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সফর উপলক্ষে সরকারি দায়িত্ব ও প্রটোকল পালনের সময় মাধবপুর ও চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া চা-বাগানে এসব ছবি তোলেন তিনি। মৈত্রী রায় ইতোমধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্টে মন্তব্য করে স্থানীয় সাংবাদিক এমএ কাদের লেখেন, প্রটোকলের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সঙ্গে এমন কিছু মুহূর্ত নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ করে দেয়। চণ্ডীছড়া চা-বাগানের অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে আপনার এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছবিগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। দায়িত্বের বাইরে এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোই একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যরকম দিক তুলে ধরে। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মৈত্রী রায় বলেন, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস মানুষের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। প্রতিটি কাজই সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করি। আরটিভি/টিআর
মন্ত্রীর প্রটোকলের ফাঁকে এসিল্যান্ডের সেলফি, ছবি ভাইরাল
ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন ইউনানি চিকিৎসক
ইউনানী চিকিৎসক দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেওয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অন্যটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন এ অভিযান চালায়।  অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীম বিনতে মুস্তাফিজ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাথে ছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পান যে মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি রোগী দেখছেন। তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক নন, ইউনানী চিকিৎসক। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সেলিম হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ইসলামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সেখানে হাবিবুর রহমান নামে একজন ডিএমএফ চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন। অনিয়ম ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বাসসকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, অপচিকিৎসা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন ইউনানি চিকিৎসক
স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
গোপালগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সরকারি জেলা স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। গত ৬ অক্টোবর দুপুরে স্কুলে টিফিনের পর ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় স্লোগান দেয় স্কুলটির অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাঁসবে’ বলে শ্লোগান দেয়। পরে সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।  পরে, ৭ অক্টোবর স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারপর ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন ৪ নভেম্বর প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ৬ অক্টোবর স্কুলের মধ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্লোগান দেয় কিছু শিক্ষার্থী। এ সময় আমি নামাজে ছিলাম। পরে নামাজ থেকে আসার পরে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাকে ফোন করে মিছিলের বিষয়ে জানতে চায়। পরে আমি অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে শুনে বিষয়টি নিশ্চিত হই  স্কুলে এই ধরনের মিছিল বা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন অনেকে।  আরটিভি/টিআর
স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
বউ ও শাশুড়ির ধাওয়ায় ভোঁ দৌড়ে উধাও সেই মাসুদ
আরটিভি অনলাইনে ‘পরকীয়া প্রেমিকার মেসেজ পেয়ে সন্দেশ নিয়ে বাঁশঝাড়ে হাজির মাসুদ, অতঃপর...’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সংবাদটি মাসুদের স্ত্রী, শাশুড়িসহ অন্যান্য স্বজনের নজরে আসে। এরপর থেকে মাসুদকে খুঁজতে থাকেন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্বজনেরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ডোমার বাজারে স্ত্রী ও শাশুড়ির সামনে আচমকাই পড়ে যান মাসুদ রানা। এ সময় তাদের ধাওয়ায় ভোঁ দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে মাসুদকে খুঁজতে থাকেন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই মেয়ে। তাকে না পেয়ে মাসুদের উদ্দেশে গালাগাল করেন তারা। পাশাপাশি জনসম্মুখে তার আগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিতে থাকেন। মাসুদের স্ত্রী ও শাশুড়ি জানান, মাসুদের আগে থেকেই চারিত্রিক সমস্যা রয়েছে। তিনি প্রায়ই গোপনে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। বিষয়টি তার স্ত্রী জানতে পারলে তাদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া হতো। মাসুদ এর আগেও তার চাচা শ্বশুরের মেয়ের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করতেন। এ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেও তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ যাঁদের সঙ্গে রাজনীতি করেন, তারাই এসব কর্মকাণ্ডে তাকে প্রশ্রয় দেন। গত বুধবার রাতের ঘটনার পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ি ও নিজের বাড়িতে না গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সুন্দরী কোনো নারী দেখলেই তাদের পেছনে ঘুরে বেড়ান বলে অভিযোগ করেন মাসুদের স্ত্রী। মাসুদের শাশুড়ি বলেন, পালিয়ে তিনি কোথায় থাকবেন? পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেই তাকে ধরে নিয়ে আসা হবে। এসব কথা বলে মাসুদের স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই মেয়ে থানার দিকে চলে যান। এর আগে, গত বুধবার মধ্যরাতে মাসুদ রানা ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ঘাটপাড়া এলাকার এক পুত্রবধূর সঙ্গে ছয় মাসের কথিত পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে রাতে সন্দেশ নিয়ে বাঁশবাগানে দেখা করতে যান। এ সময় ওই নারীর স্বামীর পাতা ফাঁদে আটকা পড়েন মাসুদ। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, গতকালের ঘটনায় আমি শুধু মেয়েটির সঙ্গে মেসেজে চ্যাটিং করেছি। এ ছাড়া তার সঙ্গে আমার অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। রাতে বাড়ি যাইনি। গতকাল থেকে বাইরে থাকা-খাওয়া করছি। আটকের পর অনেকেই ভেবেছেন, আমি পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে রয়েছি। তাই আজ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলাম। ডোমার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোপাল চন্দ্র বলেন, গত রাতে এলাকাবাসী মাসুদকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। তবে ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বউ ও শাশুড়ির ধাওয়ায় ভোঁ দৌড়ে উধাও সেই মাসুদ
সাবেক শিবিরনেতাকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে আসা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাব্বির প্রামাণিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।  জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছে বারবার সহায়তা চেয়েও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এ উদ্যোগ নেন তিনি। বগুড়ার বাসিন্দা সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামারের তদারকি এবং হিসাব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক বেতনে চাকরি পেয়ে তার পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। সাব্বির জানান, চাকরির জন্য তিনি একাধিকবার জামায়াত নেতাদের দ্বারস্থ হলেও আশ্বাস ছাড়া কোনো সহায়তা পাননি। পরে তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতায় হামলার শিকার হন সাব্বির। ওই ঘটনায় শিবিরনেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং ৬৪টি সেলাই দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বেঁচে ফিরলেও শারীরিক জটিলতায় স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। জীবিকার প্রয়োজনে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন সাব্বির। অবশেষে নতুন চাকরি পাওয়ায় সাব্বির ও তার পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তিনি। আরটিভি/এসআর  
সাবেক শিবিরনেতাকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
আরও পড়ুন
সীমান্তের ধানক্ষেতে মিলল বোরকা পরা অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে যাওয়াই কাল হলো শ্রাবনের
শিক্ষকতার পাশাপাশি চা-ফুচকার দোকান দিয়ে বাজিমাত মিনার
‘আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ শুরু করেছে জামায়াত’