ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভুয়া সাংবাদিকে দেশ ভরে গেছে, আসলদের শনাক্তে তালিকা প্রয়োজন’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া সাংবাদিকে দেশ ভরে গেছে, আসলদের শনাক্তে তালিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে ভুয়া সাংবাদিকে ভরে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সভার উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, দফতর সম্পাদক আবু বকর, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, মামুন ফরাজী প্রমুখ।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরি।

সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে স্বৈরাচারের জন্ম হয় না, রাষ্ট্র পথ হারায় না।

তিনি বলেন, মিডিয়া সরকারসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করে তাদের সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি করে।

যে সমাজে মানুষ নিজের মনের কথা নিঃশঙ্কচিত্তে বলতে পারে না, সে সমাজে বিবেকের দিশা হারিয়ে যায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে। তাই বাংলাদেশের সংবিধান সাংবাদিকতাকে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ক্ষমতাকে নজরদারিতে রাখেন। তবে দুঃখজনকভাবে এখন এসব আদর্শ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের অনুসন্ধান। একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, সত্য উদ্ঘাটন করা এবং তা রক্ষা করা। এজন্য সাংবাদিকদের যেমন সাহসী হতে হয়, তেমনি সত্যনিষ্ঠ, নীতিতে আপসহীন এবং ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়। সততা, নির্ভুলতা ও পক্ষপাতহীনতা—এই তিনটি সাংবাদিকতার মূলভিত্তি। তাই সংবাদ হতে হবে শতভাগ নির্ভুল ও শুদ্ধ।

তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে তার গণমুখী চরিত্র হারিয়েছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের সময়ে সাংবাদিকতার মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় অনেক সাংবাদিক দলীয় প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন এবং কিছু সম্পাদক অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, জনগণ দলদাস সাংবাদিকতাকে ঘৃণা করে। আত্মসমর্পণ কোনো সম্পাদককে মানায় না। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকলে সম্পাদকের চেয়ারে বসা উচিত নয়।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, পতিত সরকারের সময়ে সাংবাদিকতার এমন অবনতি হয়েছিল যে, সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ জনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হন। অনেকেই তাদের পদ-পদবি হারান।

এসবকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম গণআস্থার জায়গা ধরে রাখতে পারেনি। সরকারকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে অনেকেই জনআকাঙ্ক্ষার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, যা ছিল একটি নৈতিক পরাজয়।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সাংবাদিক অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন, কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমের মালিক হয়েছেন, সম্পদশালী হয়েছেন। কিন্তু তারা সমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরার বদলে অপশক্তির পক্ষ নিয়েছেন।

সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করলে পালিয়ে বেড়াতে হয় না; বরং দুর্দিনে জনগণই পাশে দাঁড়ায় বলেও মন্তব্য করেন কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, অপসাংবাদিকতা, তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা পেশাটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা বের হচ্ছে। একই প্রেস থেকে শুধু নাম ও প্রিন্টার্স লাইন পরিবর্তন করে অসংখ্য পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এগুলো প্রকৃত সাংবাদিকতা নয়।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তথাকথিত কিছু সম্পাদক এসব পত্রিকা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে প্রভাব খাটান, যার ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়ছেন।

প্রকৃত সম্পাদক ও সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কে সাংবাদিক আর কে ‘সাংঘাতিক’, এটা নির্ধারণ না হওয়ায় সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক নামধারী কিছু ব্যক্তি ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করছেন। গণমাধ্যমের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে এসব তথ্য সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

সাংবাদিকদের ‘ওয়াচডগ’ বা সমাজের সতর্ক প্রহরী বলা হয়। কিন্তু আমরা যেন ‘পেটডগ’ বা ক্ষমতার অনুগত না হয়ে পড়ি, যোগ করেন কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের ‘সোশ্যাল টিচার’ হিসেবে দেখতেন। আমরা যেন সেই মর্যাদা ধরে রেখে সমাজকে পথ দেখাতে পারি এবং আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি।

বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংবাদমাধ্যম যেমন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের পথও নির্দেশ করে। এ কারণেই সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ল ভ্যান, চালক নিহত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যান রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে সুজন মিয়া (৩০) নামে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এক নারী যাত্রী আহত হয়েছেন।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ল ভ্যান, চালক নিহত
ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতংকিত এলাকাবাসী
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকল কেডিওয়ারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধে আবারও ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়রা জানান, ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়ে তীব্র স্রোতে নদী আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ফাটল তৈরি হওয়ায় যে-কোনো সময় আরও অংশ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বারবার এভাবে ধসে যাওয়া অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীরা আতংকিত হয়ে পড়ছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও স্থানীয় সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, রাতেই বিকট শব্দে বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যায়। যেহেতু বাঁধের পাশেই আমাদের বাড়ি এখন আমাদের বাড়িঘর নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।  কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কাঁচকল কেডিওয়ারী এলাকার ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ তীর সংরক্ষণের জন্য একটি ডিপিপি দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘমেয়াদে এই ভাঙন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। আরটিভি/এসএস
ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতংকিত এলাকাবাসী
এক মাসে ২৬ বাড়িতে চুরি, বাদ যায়নি মসজিদের ব্যাটারিও
সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্ক বাড়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
এক মাসে ২৬ বাড়িতে চুরি, বাদ যায়নি মসজিদের ব্যাটারিও
ঝিনাইদহে পুরাতন ডিসি কোর্টের সামনে ককটেল সদৃশ ২ বস্তু উদ্ধার
ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্টের সামনে থেকে ককটেল সদৃশ্য দুটি পরিত্যক্ত বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঝিনাইদহে পুরাতন ডিসি কোর্টের সামনে ককটেল সদৃশ ২ বস্তু উদ্ধার
ছাত্রলীগ কর্মী দুই সহোদর গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কোটচাঁদপুর স্টেশন এলাকায় তাদের নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই ভাই মোহাম্মদ ইশতিয়াক আহমেদ (২২) ও মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ ইফতি (২৩)। তারা কোটচাঁদপুর পৌরসভার রুদ্রপুর স্কুলপাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীর ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কোটচাঁদপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে ওই দিনই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রুদ্রপুর স্কুলপাড়া এলাকার দুই ভাই ইশতিয়াক আহমেদ ও ইমতিয়াজ আহমেদ ইফতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা কোটচাঁদপুর পৌর ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য। এ ছাড়াও তারা বাংলাদেশ রেলওয়েতে মাস্টাররোলে কর্মরত ছিলেন। কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আটক দুই ভাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কোটচাঁদপুর পৌর শাখার সক্রিয় সদস্য। তারা সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ শাহিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও জানা গেছে। আরটিভি/এসএস
ছাত্রলীগ কর্মী দুই সহোদর গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা
সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ 
স্ত্রীর স্পর্শকাতর অঙ্গে ছুরিকাঘাত করে আত্মগোপনে পারভেজ, অতঃপর...
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‘কুক্কুরুত সেলিমের’ বিচার চাইলেন নারী, ঘটনা কী