ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুরে ৫ খুনের ময়নাতদন্তে উঠে এলো নৃশংস হত্যার ভয়াবহ চিত্র

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রকাশিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক তথ্য। স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক চিকিৎসকরা।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মাজহারুল হক জানান, নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী শারমিন খানমকে হত্যার আগে তার হাত ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। এছাড়া হত্যার আগে নিহতদের কোনো চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পাকস্থলীর খাদ্য নমুনা, ঘরে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল এবং রান্না করা সেমাইসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সিআইডির পরীক্ষাগারে। পরীক্ষার ফল হাতে পেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা বাদী হয়ে তার স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (৯ মে) সকালে রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা গোপালগঞ্জ সদর এলাকার বাসিন্দা হলেও জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন।

আরও পড়ুন

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে সবাইকে হত্যার কথা উল্লেখ ছিল। এছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে লেখা একটি অভিযোগপত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের সোনার অলঙ্কার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে গত ১২ অক্টোবর সকালে ওই চার শিক্ষার্থী স্কুলের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, নিবিড় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত দুইটার দিকে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহযোগিতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে ওই চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স আট থেকে বারো বছরের মধ্যে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ধারণা ও ফ্যান্টাসিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশে তারা বাসা থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও সোনার অলঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় গেলেও পরিকল্পনা সফল না হওয়ায়, এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। হবিগঞ্জে পৌঁছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তারা। তবে প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিএনজিচালক রাত ২টার দিকে চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যান। ইতোমধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিক্রি করা মোবাইল ফোন এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। আরটিভি/টিআর
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতেন জাকির হোসেন (৬২)। এ ছাড়া কোনো উপলক্ষে কিংবা বাবাকে মনে পড়লেই তিনি বাবার কবরের সামনে যেতেন। তবে এটি আর এখন সম্ভব নয়। 
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
যে সাগর স্বামী জালাল মিয়াকে কেড়ে নিয়েছিল, সেই সাগরেই ছেলেকে হারানোর ভয় ছিল মা ছাহেরা বেগমের। তাই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর আকুলতায় ধারদেনা করে তাকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
‘দাদি, হেঁটে যাচ্ছেন কেন? ট্রেনে উঠে আসেন।’ ট্রেনের যাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধার উত্তর, ‘না, আজ ট্রেনে যাব না। আমার একটু তাড়া আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
আরও পড়ুন
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৯ ইউনিট
গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন
ফেরি করে মাদক বিক্রি, ক্রেতার বদলে মিলল ‘যমের দেখা’