ফেনীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর হাত ধরে টিকটক ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মোজাম্মেল হোসেন (১৯) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি গোবিন্দপুর এলাকার মাদানিয়া মাদ্রাসার পাশে ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সিলোনিয়া গ্রামের মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে সালমান (২০) এবং মো. মাহফুজ (১৯)। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর হাত ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করে কয়েকজন যুবক। এ সময় তারা টিকটক ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটির বাবা বিষয়টি জানতে পেরে ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির বাবা নুরুল আফসার বলেন, আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে যারা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আইনের মাধ্যমে এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে পলাতক দুই আসামিকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আরও দুজন সহযোগী জড়িত ছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে থাকা বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রযোজ্য সাইবার আইনের ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টিকটক ভিডিওটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, ছয় বছর বয়সী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর গোবিন্দপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরটিভি/এমএম




