
নওগাঁর মান্দায় জমিজমা ও পারিবারিক পূর্বশত্রুতার জেরে প্রকাশ্যে প্রায় ১ হাজার ফলজ কলাগাছ কেটে ফেলা, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও এক নারীকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় লক্ষীরামপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আবদুল জলিল সরদার (৫৬) বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— লক্ষীরামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৫), তরিকুল ইসলাম (২৫), মজিদুল ইসলাম (৩৮), শাহাজান মন্ডল (৪৫), হাবিবুর রহমান (১৯), আব্দুর রাজ্জাক সরদার (৫৫) এবং মহাদেবপুর উপজেলার কুসুম্বন গ্রামের আবদুল জব্বার (৫০)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে আবদুল জলিল সরদারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার সকালে অভিযুক্তরা রামদা, হাসুয়া, লাঠিসোঁটা ও লোহার শাবল নিয়ে হামলা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রাজ্জাক সরদারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে অন্যরা প্রকাশ্যে জমিতে থাকা প্রায় ১ হাজার ফলনশীল কলাগাছ কেটে সাবাড় করে দেয়। এতে আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কলাগাছ কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে ভুক্তভোগীরা বাড়ির ভেতর আশ্রয় নিয়ে দরজা বন্ধ করলে হামলাকারীরা মূল ফটক ভাঙার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে বাদীর ছোট ভাই ইসমাইল হোসেনের বসতবাড়ির বারান্দা, রান্নাঘর ও একটি ঘর ভাঙচুর করা হয়, যাতে আরও ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী বাধা দিলে তার ওপর হামলা চালিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে মান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী আবদুল জলিল সরদার বলেন, আব্দুর রাজ্জাক ও তার লোকজন প্রায় ৪০-৪৫ জন এসে প্রকাশ্যে আমার কলাবাগানে তাণ্ডব চালায়। এক সকালেই ফলনশীল ১ হাজার কলাগাছ কেটে সাবাড় করে দিল। এতে আমার ৪ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়ে গেল। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শী সালমা খাতুন বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজ্জাক মাস্টার, তার দুই ছেলে রফিকুল ও তরিকুল, ভাগনে মজিদুল ও হাবিবুরসহ ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল কলাবাগানে হামলা চালায়। তারা হাঁসুয়া দিয়ে বাগানের কলাগাছ কেটে ফেলে। পরে ভুক্তভোগীদের পুরোনো বাড়িতে গিয়ে গাছ, টিনের চালা, বেড়া ও দরজা ভাঙচুর করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছফির উদ্দিন তোতা বলেন, রাজ্জাক মাস্টার, তাঁর দুই ছেলে ও ভাগনাসহ একদল লোক জলিলের কলাবাগানে হামলা চালায়। তারা হাঁসুয়া দিয়ে ফলন্ত ও পরিপক্ব কলাগাছ কেটে ফেলে। পরে বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রাজ্জাক সরদার দাবি করেন, জমিটি তার নিজের এবং গাছগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি নিজেই কেটে ফেলেছেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, কলাগাছ কাটা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




