ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব হাতি দিবস: খাবার সংকটে বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
শেরপুরে লোকালয়ে হাতির পাল : ছবি সংগৃহীত

আজ বিশ্ব হাতি দিবস। শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে বাড়ছে বন্যহাতির সংখ্যা। কিন্তু সংকুচিত হচ্ছে বিচরণক্ষেত্র। মূলত বন দখল করে বসতি স্থাপন, অবাধে গাছ নিধন, অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরণা শুকিয়ে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যভাণ্ডার কমে গেছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতির নেমে আসার ঘটনা বাড়ছে।

একইসঙ্গে মানুষের অসচেতনতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও।

এই দ্বন্দ্বে যেমন মানুষের হতাহত ও সম্পদহানি ঘটছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যহাতির জীবনও। গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে হাতি মারা পড়ছে।

বন্যহাতির দল ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের জঙ্গল থেকে সীমান্ত পার হয়ে শেরপুরের বনাঞ্চলে বিচরণ করত। বর্তমানে বেশকিছু হাতি স্থায়ীভাবেই এখানে বসবাস ও বিচরণ করছে। এজন্য বন্যহাতি সুরক্ষায় শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

আরও পড়ুন

এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাতি দিবস। আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক প্রচারণার এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এবারের প্রচারণাটি বন্য পরিবেশে হাতিদের প্রদর্শিত মৌলিক গুণাবলি, যেমন: সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সহনশীলতা এবং সচেতন ও দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান নিজ জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ, শ্রীবরদীর বালিজুড়ি রেঞ্জ এবং নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জে ‘হাতির খবরাখবর ও সচেতনতা’ গ্রুপ, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, বনবিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বাড়ছে হাতির সংখ্যা
প্রায় এক দশক আগে আইইউসিএনের এক জরিপে শেরপুরের বনাঞ্চলে ১২০ থেকে ১২৫টি হাতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই জরিপে সব হাতিকেই পরিযায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব হাতিকে ‘এশিয়ান হাতি’ বলা হয়। বর্তমানে এই এশিয়ান হাতিগুলো অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ভারত থেকে আসা এসব বন্যহাতি শেরপুরের সীমান্তবর্তী ৮ হাজার ৩৭৬ একরের বনভূমিতে বিচরণ করে। ধান ও কাঁঠালের মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে প্রতি রাতে হাতিগুলো পাল বেঁধে চলে আসে সমতলে।

বনবিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত ৩ বছরে অন্তত ৫৫টি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে বলে বনবিভাগের অনুমান। ইতোপূর্বে গারো পাহাড়ে ১০০ থেকে ১২০টি বন্যহাতির বিচরণ লক্ষ করা গেলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০টিতে দাঁড়িয়েছে বলে বন কর্মকর্তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন

বন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গারো পাহাড়ে ক্রমাগত প্রজননে বন্যহাতির বংশবিস্তার ঘটছে। বাংলাদেশ থেকে এশিয়ান প্রজাতির বন্যহাতির সংখ্যা দিন দিন বিলুপ্তির পথে বলে হাতি গবেষকগণ উদ্বেগ জানালেও গারো পাহাড়ে আশার আলো দেখছেন বন কর্মকর্তারা। হাতির প্রতিটি পালেই বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা হাতি দেখা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় বনের ভেতর ৩৪টি হাতির একটি পালে ৮ থেকে ১০টি বাচ্চা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

বন বিভাগের দাবি, যদিও ৪ বছর পর পর হাতি শাবকের জন্ম দেয়, কিন্তু গারো পাহাড়ের শেরপুর অঞ্চলে হাতির আবাসস্থল বৃদ্ধি ও খাদ্য সংকট কমে আসার কারণে দিন দিন এই বন্যপ্রাণীটির সংখ্যা বাড়ছে।

১৬ বছরে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে নিহত ৪৭
বনবিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি জনপদে গত ১৬ বছরে (২০১০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে) মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে প্রাণ গেছে ৪৭ জন মানুষের। একই সময়ে হাতি মারা গেছে ৩৫টি। এছাড়া হাতির আক্রমণে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।

খাদ্য-পানির সংকটে লোকালয়ে হাতি
প্রকৃতিপ্রেমী শেরপুর বার্ড ক্লাবের সভাপতি সুজয় মাকার জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২৭০ কেজি খাবার এবং ২০০ থেকে ৩০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়।

বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বালিজুরি রেঞ্জের ৮ হাজার ৩৩০ একর বনভূমিতে বর্তমানে প্রায় ১২০টি হাতি রয়েছে, অথচ বনের বর্তমান পরিবেশ এদের জন্য মোটেও অনুকূল নয়। গত ১০-১৫ বছর ধরে হাতির লোকালয়ে আসার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাতেই বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব।

শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি এবং অধ্যাপক আব্দুল কাদির বলেন, হাতি বাঁচলে বাঁচবে গারো পাহাড়। এটা আমাদের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রাণী। সেজন্য হাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গারো পাগাড়কে বন্যহাতির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

বন পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ
শেরপুর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মো. নুরুল করিম জানান, মানুষ-হাতি সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বনের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত
শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়ক। ইতোমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। 
গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন
গাজীপুরের শ্রীপুরে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর দীর্ঘ ২৭ বছর পড়াশোনার বাইরে ছিলেন তিনি।
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন
এবার পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এবার পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে।
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ায় এলাকায় যান চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়া ও নরসিংপুর এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদেরও বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামীম গ্রুপের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও যান চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। দুপুরের পর থেকেই শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আরও জানান, নরসিংপুর, কাঠগড়া ও আশুলিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি ও আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আরটিভি/এসকে
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
আরও পড়ুন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে পরিণতি হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক, বলছে মিশর
হাতিরঝিলে ৬ নভেম্বর সিএ অ্যাকাউন্টিং ডে রান, অংশ নেবেন ৩৮০০ এর বেশি দৌড়প্রেমী
নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে মাছ শিকারে নামছেন হাতিয়ার জেলেরা
হাতিয়ায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার