ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বরিশালে পাইপলাইনের পানি প্রকল্প পরিদর্শন করলেন ডাচ রাষ্ট্রদূত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ডাচ রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল। ছবি: সংগৃহীত

ডাচ রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল বলেছেন, নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ খাবার পানির প্রাপ্যতা বাড়াতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বরিশালে ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের ‘বিল্ডিং ওয়াটার বিজনেস’ কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

জলবায়ু-ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে স্মার্ট, স্বল্প রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের পাইপলাইনযুক্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা দেখতে রাষ্ট্রদূত জেলার বাকেরগঞ্জের দুধলমৌতে এ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন।

ইয়োরিস ভ্যান বোমেল বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে, কারণ উভয় দেশই ব-দ্বীপ, নদী ও সমুদ্র দ্বারা গঠিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পানি সহযোগিতার মাধ্যমে সকলের জন্য খাবার পানির প্রাপ্যতাও নিশ্চিত করা উচিত।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রদূত বলেন, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল, পানি সংযোগের শেষ প্রান্তে কীভাবে পৌঁছানো যায় তা খতিয়ে দেখা, যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি পায়।

তিনি বলেন, শুধু খাবার পানির গুণগত মান উন্নয়নের জন্যই নয়, বরং পানি সংগ্রহের জন্য প্রায়শই অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয় এমন নারী ও মেয়েদের ওপর থেকে বোঝা কমানোর জন্যও ট্যাপের পানির সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বরিশালের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই পানি পরিষেবা গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি টেকসই সমাধান, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার ঘরে পানির সুবিধা পাবে এবং তা সাশ্রয়ীও হবে।

তিনি বলেন, বরিশালের অফ-গ্রিড পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শন কমিউনিটি পর্যায়ে এই ধরনের ব্যবস্থাগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা দেখারও একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

পানির সহজলভ্যতা বাড়াতে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্টি ও কোম্পানিগুলোর সাথে নেদারল্যান্ডসের কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইয়োরিস ভ্যান বোমেল।

তিনি বলেন, আমরা যদি কোম্পানি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠির সঙ্গে কাজ করি, তবে আমরা একটি পরিবর্তন আনতে পারবো।

ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জোক লে পুল বলেন, সংস্থাটি দুই দশকেরও বেশি সময় আগে কাজ শুরু করে এবং প্রাথমিকভাবে সংস্থার মনোযোগ ছিল শিশু মৃত্যু প্রতিরোধের অপরিহার্য উপায় হিসেবে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির ওপর ।

তিনি বলেন, উচ্চ চাহিদা ও জনঘনত্বের কারণে সংস্থাটি বাংলাদেশকে বেছে নেয় এবং বরিশালে পানির কূপ দিয়ে তাদের কাজ শুরু করে। তিনি উল্লেখ করেন, সেই কূপগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ১৫ থেকে ২০ বছর পরেও সচল রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে তারা পানির উন্নত সরবরাহ পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করতে শুরু করে। তিনি যোগ করেন, বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে এবং মানুষ এই ধরনের পরিষেবার জন্য অর্থ ব্যয়ে ইচ্ছুক।

ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম বলেন, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ বরিশাল ও পটুয়াখালীতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের জন্য একটি ব্যবসাভিত্তিক সমাধান তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, সাহায্য বা অনুদান-নির্ভর প্রকল্পের বিপরীতে এই মডেলটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পানির জন্য পরিবারগুলোর দেওয়া মাসিক অর্থের মাধ্যমে এটি পরিচালনা করা যায়।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি এ পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ওয়াটার গ্রিড স্থাপন করেছে এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে ও ব্যবসাগুলোকে আর্থিকভাবে আরও টেকসই করতে পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তি ও অটোমেশনের মতো ব্যবস্থা চালু করছে।

ড. তারিকুলের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি পাওয়ার ব্যবস্থা ত্বক ও পেটের রোগ কমাতেও অবদান রেখেছে, পাশাপাশি নারীরা পানি সংগ্রহের জন্য কম দূরত্ব এবং বাড়ির শৌচাগার ও ধোয়ামোছার সুবিধা থেকে উপকৃত হচ্ছেন।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে ডাচ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পানি ও জলবায়ু) ক্লাসেন ইঙ্গে, সিনিয়র ফাইনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/এসআর



আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের সোনার অলঙ্কার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে গত ১২ অক্টোবর সকালে ওই চার শিক্ষার্থী স্কুলের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, নিবিড় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত দুইটার দিকে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহযোগিতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে ওই চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স আট থেকে বারো বছরের মধ্যে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ধারণা ও ফ্যান্টাসিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশে তারা বাসা থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও সোনার অলঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় গেলেও পরিকল্পনা সফল না হওয়ায়, এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। হবিগঞ্জে পৌঁছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তারা। তবে প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিএনজিচালক রাত ২টার দিকে চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যান। ইতোমধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিক্রি করা মোবাইল ফোন এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। আরটিভি/টিআর
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতেন জাকির হোসেন (৬২)। এ ছাড়া কোনো উপলক্ষে কিংবা বাবাকে মনে পড়লেই তিনি বাবার কবরের সামনে যেতেন। তবে এটি আর এখন সম্ভব নয়। 
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
যে সাগর স্বামী জালাল মিয়াকে কেড়ে নিয়েছিল, সেই সাগরেই ছেলেকে হারানোর ভয় ছিল মা ছাহেরা বেগমের। তাই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর আকুলতায় ধারদেনা করে তাকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
‘দাদি, হেঁটে যাচ্ছেন কেন? ট্রেনে উঠে আসেন।’ ট্রেনের যাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধার উত্তর, ‘না, আজ ট্রেনে যাব না। আমার একটু তাড়া আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
আরও পড়ুন
স্বামী-শ্বশুড়বাড়ির নির্যাতন সইতে পারলেন না মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, টানা ৫ দিন ৩ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা 
উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসবের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের