
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাড়ির পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে নায়েব আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নায়েব আলী ওই গ্রামের মৃত আবদুর রহিমের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পরিবারের দাবি, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় নায়েব আলীকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মনির হোসেন জানান, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রতিদিনের মতো বাড়ির পাশের চাষ করা কলাবাগানে যান নায়েব আলী। প্রতিদিন রাতে কলাবাগান দেখে তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন। তবে ওই রাতে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। গভীর রাতে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খুঁজতে বের হন।
মনির হোসেন জানান, কলাবাগানসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও নায়েব আলীকে পাওয়া যায়নি। এ সময় কলাবাগান ও ডোবার আশপাশে তার ব্যবহৃত টর্চলাইট, লুঙ্গি, গামছা, বিড়ির প্যাকেট ও গ্যাসলাইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ বাড়ে। পরে সীমান্তের আশপাশের বিভিন্ন জঙ্গলেও খোঁজ করা হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্রের সূত্র ধরে বাড়ির পাশের কচুরিপানায় ভরা ডোবায় সন্দেহ হয়। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই ডোবায় খোঁজ করতে গিয়ে নায়েব আলীর লাশ পাওয়া যায়।
পরিবারের দাবি, লাশ উদ্ধারের পর তার পিঠে গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ দেখা যায়। এসব চিহ্ন দেখে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখার অভিযোগ করেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, নায়েব আলী প্রায়ই স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দিতেন। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিছুদিন আগে স্থানীয় মাদক কারবারিদের ঘরবাড়ি ভাঙার সময়ও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তাদের ধারণা, মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানল অথবা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নায়েব আলী হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন ও কালো দাগ দেখা গেছে। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/ এসকেডি


