ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হিন্দু নেতাদের মত রংপুরের ৪ খুন ‘সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ নয়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্য হত্যার ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলার হিন্দু নেতারা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে হিন্দু সংগঠনগুলোর সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের মতবিনিময় সভায় তারা বলেন, মাদকসেবনকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মাদক সেবন নিয়ে হয়েছে। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়। ৫ আগস্টের পর রংপুরাঞ্চলে হিন্দুরা আক্রান্ত হয়নি। হিন্দু ধর্মের লোকদের ভয় পেলে চলবে না, বড় সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সামনে জন্মাষ্টমী ও পূজা আছে, তারা সুড়সুড়ি দিচ্ছে যাতে একটা অশান্তি বিরাজ করে। তারা পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল। শেখ হাসিনা কিন্তু সেখানে পালিয়ে আছেন।

পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে অপরাধ কমে যাবে।

সভায় ইসকনের একজন প্রতিনিধি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন অস্থিতিশীল হয়ে গেল! একটি কমিউনিটির ওপর বারবার কেন হামলা হচ্ছে তা দেখার জন্য নতুন কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে। জড়িত কেউই রক্ষা পাবে না। নগরীতে মাদক নির্মূলে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করে এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হবে।

এছাড়া তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী মিটিংয়ের আয়োজন করতে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের তিনি নির্দেশ দেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। এতে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ, সনাতন অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট ও বাংলাদেশ ইউনাইটেড সনাতনী অ্যাওয়েকিং অ্যালায়েন্সের ব্যানারে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সংগঠনের নেতাদের দাবি, একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়নি। এজন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী বলেন, ‘দুজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে আলাদা আলাদা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একটি মিথ্যা ঢাকতে আরেকটি মিথ্যা বলা যায়, কিন্তু অনেকগুলো মিথ্যা ঢাকতে কী করতে পারে?’

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুধু দেশে নেই। হত্যাকাণ্ডটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচিত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সমন্বয়ক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে আমাদের মনে হয় এই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, তারা কোনো কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এর আগে, শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল গণপতি চক্রবর্তীর সেই বাড়িতে যান মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে জবাব খোঁজাই পুলিশের দায়িত্ব।’ সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষেই হাঁটবেন বলেও জানান তিনি।

মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘আপনাদের এটুকু বলতে পারি যে, এই মামলা একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এই মামলা নিয়ে সারা দেশে নানারকম কথাবার্তা হচ্ছে। এই প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে সেগুলোর যথাযথ জবাব দিয়ে এই মামলাটাকে একটা সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে যাতে একটা সুবিচার হয়, আমরা সেই চেষ্টাটাই করছি।’

গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানি ও আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতোই শুনেছি। আলামত এলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই আলামত। তো একটা ক্রাইম সিন, সেটা সংরক্ষণ করা আছে। আসলে আমার কাছে সুস্পষ্ট কোনো রকম কোনো তথ্য নেই। আমি জয়েন করেছি গতকালই। আপনি বলেছেন, আমি এটা দেখব।’

নগরীতে মাদকের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ আমি সময় দিয়েছি সবাইকে যে, আপনারা ভিজিবল (দৃশ্যমান) কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন রংপুর শহরে।

এর আগে, গত ১২ আগস্ট রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদকে রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি গতকাল নতুন পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর রংপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে মাহবুবুর রশীদ যোগ দেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক বাড়িতে বিএনপি করলে সবার বিএনপি হতে হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
এক বাড়িতে বিএনপি করলে সবার বিএনপি হতে হবে। এমন মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
এক বাড়িতে বিএনপি করলে সবার বিএনপি হতে হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
ভাইয়ের অটোরিকশার চাকায় পিষ্টে বোনের মৃত্যু
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে সানজিদা নামে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 
ভাইয়ের অটোরিকশার চাকায় পিষ্টে বোনের মৃত্যু
বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় ম্যানেজারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন
নরসিংদীতে বিনামূল্যে ১০ লিটার দেশীয় মদ না দেওয়ায় তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) নামে একটি দেশীয় মদের দোকানের ম্যানেজারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় ম্যানেজারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন
সিলেটে মাদক-চোরাচালান দমনে কঠোর অভিযান, ৬০ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে মাদক, চোরাচালান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ। 
সিলেটে মাদক-চোরাচালান দমনে কঠোর অভিযান, ৬০ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার
কচুয়ায় অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর ৮৪ শিক্ষক-কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত ৬৬ জন এবং মরণোত্তর ১৮ জনসহ মোট ৮৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কচুয়ায় অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর ৮৪ শিক্ষক-কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান
আরও পড়ুন
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী
‘আমিও তো সন্তানহারা, স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব’
১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে যেভাবে বন্ধুত্ব হয় ১৯ বছরের তুহিনের
অন্তরঙ্গ অবস্থায় ছাত্রলীগের ফুলবাবু ধরা, অতঃপর...