
নড়াইল সদর উপজেলার তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসার একাধিক শিশুছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসার এক আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন শিক্ষক মাহবুবুর রহমান। পরদিন ২৮ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে তার অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে মাদরাসায় গিয়ে প্রতিবাদ জানালে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়ে যায়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ওই দিনই কৌশলে মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নড়াইল সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করলে এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়। প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশ জানতে পারে শুধু একটি শিশুই নয়, ওই মাদরাসার আরও অন্তত পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমানের বলাৎকারের শিকার হয়েছে। মাহবুবুর দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে এসব শিশুদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
এ ঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে মামলার মাত্র ১০ ঘণ্টার মাথায় গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাই। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নড়াইল থেকে টিম পাঠিয় ১০ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




