
ভাওয়াইয়া গানের দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন মাইলফলকের পথে এগোচ্ছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সংগঠনটির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একটি স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন।
১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি সাধারণ টিনের চালাঘরেই ভাওয়াইয়া গানের চর্চা ও সাধনা চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। এই সাদামাটা ঘর থেকেই গড়ে উঠেছেন দেশ-বিদেশে পরিচিত কয়েকশ ভাওয়াইয়া শিল্পী।
নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘদিন টিনের ঘরে কার্যক্রম পরিচালনার পর অবশেষে সংগঠনটির জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, দেশের বিশিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এ উদ্যোগ। এর মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অনুদান দিয়েছে। অনুদান ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমিতে নির্মিত হবে ভবনটি।
ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভূপতি ভূষণ বর্মা। বশীর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক বহুতল ভবনটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রামে ভাওয়াইয়া গানের চর্চা আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা উন্নত পরিবেশে সংগীতচর্চার সুযোগ পাবেন।
আরটিভি/ এসকেডি


