ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতের নির্দেশের পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ওসি বদলি

স্টাফ রিপোর্টার (চাঁদপুর), আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি: আরটিভি

ট্রান্সফরমার চুরি রোধে চরম ব্যর্থতা ও চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে অপসারণ করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কড়া পর্যবেক্ষণ ও আদেশের মুখে তাঁকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক জানান, আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ বদলি সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত ট্রান্সফরমার চুরির মতো গুরুতর ও আমলযোগ্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার দায়ে ওসি কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা তাঁর সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করা এবং আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেন। আদেশে আরও বলা হয়, মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া পল্লী বিদ্যুতের ২৩টি চুরির আবেদনের পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার গত সাড়ে তিন মাসে এলাকায় ২৫টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথক পৃথক এজাহারের আবেদন করেন। তবে ওসি মাত্র দুটি মামলা নিয়ে বাকি ২৩টি আবেদন ঝুলিয়ে রাখেন। আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালে ওসি দাবি করেন, আবেদনের মধ্যে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় নাকি মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পান, ওসির দেওয়া জবাব ভিত্তিহীন। পল্লী বিদ্যুতের দেওয়া প্রতিটি আবেদনেই চুরির সঠিক স্থান, তারিখ ও খোয়া যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর সুনির্দিষ্ট পিন বা সিরিয়াল নম্বর স্পষ্ট ছিল।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি চুরির আবেদন করা হলেও আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন চাওয়ার আগে কোনো পদক্ষেপই নেননি ওসি কামরুল। এমনকি পরবর্তীতে কারণ দর্শানো ছাড়া অবশিষ্ট ২৩টি জিডি বা এজাহার আমলে নেওয়ার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখাননি তিনি।

আদালতের মতে, বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি চুরির তথ্য পাওয়ার পরও এফআইআর না করা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার শামিল। ওসির এমন নির্লিপ্ততা ও নিষ্ক্রিয়তা মূলত অপরাধীদের উৎসাহিত করেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করে জনরোষ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করেছে।

আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওসি কামরুল হাসান ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) ১৫৪ নম্বর ধারা স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর এ ধরনের বেআইনি নিষ্ক্রিয়তা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ২১৭ ধারা এবং দ্য পুলিশ অ্যাক্টের (১৮৬১) ২৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

আদালতের সুনির্দিষ্ট বার্তার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং দ্রুততম সময়ে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যা
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জমির বিরোধের জেরে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় আহত মমতাজ বেগম রাসু (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যা
নির্জন পাহাড়ে অপ্রতীমের মরদেহের সঙ্গে ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা
কুমিল্লার কোটবাড়ী থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ।
নির্জন পাহাড়ে অপ্রতীমের মরদেহের সঙ্গে ঘটেছিল আরও এক নির্মমতা
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আরও একজন ধরা
কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আনাছ নামে আরও একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক আনাছকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আরও একজন ধরা
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করায় ‘অপরাধ’, সাড়ে ৫ লাখ জরিমানা
আইন ও ধর্মীয় বিধান মেনে এক ডিভোর্সী নারীকে বিয়ে করায় কাল হলো শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রতন সরদারের (৪৫) জন্য। কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও তথাকথিত সালিশ বৈঠকে তাকে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড। শুধু জরিমানা করেই ক্ষান্ত হয়নি মাতব্বররা; রামদা, ছেনদা ও লোহার রড উঁচিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় রাতের আঁধারে সাঁতরে নদী পার হয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এই ভুক্তভোগী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে জাজিরা উপজেলার মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে। ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, রতন সরদারের বন্ধু রুবেল শিকদারের সাথে তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারের পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে রুবেল তার স্ত্রী রুবিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দেন। বিচ্ছেদের প্রায় ১০ মাস পর রুবিনাকে বিয়ে করেন রতন সরদার। রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগমেরও এই বিয়েতে পূর্ণ সম্মতি ছিল। তবে এই বৈধ ও আইনি বিয়ে মেনে নিতে পারেনি রুবেল ও এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল। গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাতব্বররা মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে এক সালিশ বৈঠকের (ক্যাঙ্গারু কোর্ট) আয়োজন করে। প্রায় পাঁচশ মানুষের উপস্থিতিতে বিচার বসানো হলেও রতন বা রুবিনার বিরুদ্ধে কোনো পরকীয়া বা অনৈতিক কাজের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কেউ। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও জুরি ভোটের অজুহাতে জোরপূর্বক রতনকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সূর্য ওঠার আগেই গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোর করে একটি 'আপোষনামা' তৈরি করা হয়। নথির হিসাব অনুযায়ী, নগদ ১০ হাজার টাকা ও বন্দকি জমির ১ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার পরও শান্ত হয়নি প্রভাবশালী সমাজপতিরা। বাকি টাকা আদায়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে একের পর এক কিস্তির তারিখ। অত্যাচারের মাত্রা এখানেই শেষ হয়নি। সালিশের পর রামদা ও লোহার রড নিয়ে রতনের বসতবাড়িতে হামলা ও তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করে প্রভাবশালীরা। উপায় না পেয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে রাতের আঁধারে সাঁতরে নদী পার হয়ে আত্মগোপনে যান রতন। রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, রতনের সাথে তার সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে। আর দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিনা আক্তার বলেন, আগের স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আইনি উপায়েই বিচ্ছেদ হয়েছিল। কোনো পরকীয়া নয়, পরিবারের সম্মতিতে স্বেচ্ছায় রতনকে বিয়ে করেছি। এদিকে সালিশ বৈঠকে জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সমাজপতিরা। তবে কোন আইনের বলে তারা এমন সিদ্ধান্ত ও অর্থদণ্ড দিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়ানো রতন সরদার জাজিরা থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করায় ‘অপরাধ’, সাড়ে ৫ লাখ জরিমানা
শেখ হাসিনার রায়ের প্রতিবাদে মধ্যরাতে নিষিদ্ধ যুবলীগের মশাল মিছিল
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে জেলা শহরের চালাপাড়া পাইলিং রোডে ঝটিকা মশাল মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার রায়ের প্রতিবাদে মধ্যরাতে নিষিদ্ধ যুবলীগের মশাল মিছিল
আরও পড়ুন
আগুনে পুড়ল কচুয়ার পাঁচ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ থেকে ২০ গ্রেডে চাকরি
‘রাফি নেই, তবে স্মৃতি অমলিন’, সড়কে নিহত যুবকের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ
চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে শিশুকে নিয়ে দোকানের ভেতরে হাবু, অতঃপর...