
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে একটি আবাসন কোম্পানির অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে আফসানা হাউজিংয়ের অফিসের সামনে এসে থামে একটি খালি ছোট ট্রাক। ততক্ষণে অফিসটিতে ঢুকে পড়েন প্রায় ৩০ জন যুবক। অফিসে ঢুকেই তারা বিভিন্ন কক্ষের গেট ভেঙে ফেলেন। অফিসটি তখন ফাঁকা ছিল।
কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রামদাসহ লাঠিসোটা নিয়ে ভেতরে ঢোকা যুবকেরা ভাঙচুর করছে। একপর্যায়ে ভেতরে থাকা সোফাসেট, এয়ারকিন্ডশনার, টিভিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র বের করে বাইরে রাখা পিকআপ ভ্যানে তোলেন তারা। এরপর ভ্যানসহ সেখান থেকে চলে যান।
এই ঘটনার কয়েকদিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) সেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পুরো অফিসে ভাঙচুরের চিহ্ন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. নাসির জানান, এই রুমে এসি ছিল। সেটা খুলে নিয়ে গেছে। এটার আউটডোরও খুলে নিয়ে গেছে। দামি সোফা ছিল, টেবিল, ক্যাশটাকাকা -সব নিয়ে গেছে। টিভি-গিজারও নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, সেদিন মোট কোটি টাকার মতো সম্পদ লুট হয়। এর মূল কারণ চাঁদার দাবি না মানা। ওরা চল্লিশ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলো। বলেছিলো এখানে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। আমরা রাজি হই নাই। তারপর এই হামলা। প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সজীব ব্যাপারী। ঘটনার পরদিন তিনি ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে কেরানিগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সজীব ব্যাপারী বলেন, ওরা সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং ভাড়া করে এই হামলাটা করেছে। কারণ আমি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দেই নাই। আমি বলছি যে, আমি চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করবো না। এখন আমি তো ভয়-আতঙ্ক নিয়ে আছি। কাজ বন্ধ।
এদিকে সরকার কি দল সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে? আর সরকারই বা কেন এসব অপরাধ থামাতে পারছে না এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান অবশ্য স্বীকার করছেন, দলের কেউ কেউ অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন।
তবে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে এমন অভিযোগ নাকচ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে না, প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো কারণও নেই। তবে এই অভিযোগ আমি উড়িয়েও দিতে চাই না যে, সরকারি দলের কেউ না কেউ এটার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। জনগণ যদি কোনোভাবে সাফার করতে থাকে ক্রমাগত এবং সেটা যদি সরকারি দলের নামে হয়ে থাকে, তাতে যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তো সরকারকেই এটার মাশুল দিতে হবে। সরকার এটার ব্যাপারে সচেতন আছে।
আরটিভি/এমএ



