ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

জন্মের পর থেকে পূজা দেখেনি রামু সদ্দার পাড়ার শিশুরা!

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি: আরটিভি

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সারা বাংলাদেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ আর আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজ ঘরে ঘরে। কিন্তু এই মহা-আনন্দের দিনেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রামু সদ্দার পাড়ায় চলছে নীরব হাহাকার। স্বাধীনতার এত বছর পরও এই পাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের এলাকায় একটি স্থায়ী মন্দির পাননি। ফলে এখানকার শিশুদের জন্মের পর থেকে কখনোই নিজ গ্রামে পূজার আনন্দ উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব থেকে যুগের পর যুগ বঞ্চিত হয়ে আসছে পুরো এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো।

এই চিরবঞ্চনা অবসান ও একটি স্থায়ী মন্দিরের দাবিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রামু সদ্দার পাড়া সমাজের উদ্যোগে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা মো. আবু আজম তালুকদার, পাইন্দং ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মানিক হোসেন, বাবু দিলীপ কুমার দে, প্রসেনজিৎ দে প্রমুখ।

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদেরকে ডেকে নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের আকুতির কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সভায় মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন বক্তব্য রাখেন স্থানীয় গৃহবধূ শিখা দে, রীনা দে এবং তানিয়া দে। তারা বলেন, সারা দেশের মানুষ যখন পূজার আনন্দে হাসছে, আমাদের ছেলে-মেয়ে এবং আমরা তখন মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকি। আমাদের এখানে কোনো স্থায়ী মন্দির নেই। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরাও যেন ধর্মের আলো পায়, উৎসবের আনন্দ পায়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই আকুতি- এখানে যেন একটি স্থায়ী মন্দির নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়।

অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আবু আজম তালুকদার। তিনি এলাকাবাসীর এই ন্যায্য ও মানবিক দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং আগামীতে মন্দির প্রতিষ্ঠার ফটিকছড়ির এমপি সরোয়ার আলমগীরকে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

সভায় পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মানিক হোসেন রামু সদ্দার পাড়ার বাসিন্দাদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বঞ্চনার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি এলাকায় স্বাধীনতার এত বছর পরও স্থায়ী কোনো উপাসনালয় বা মন্দির থাকবে না, আর আমাদের শিশুরা উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের সমান অধিকার রয়েছে। আমি রামু সদ্দার পাড়ার মা-বোন ও শিশুদের এই যৌক্তিক আকুতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও আশ্বাস দিয়ে বলেন, ২নং ওয়ার্ডের একজন জনপ্রতিনিধি পদপ্রার্থী হিসেবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আগামীতে এই পাড়ায় একটি স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য আমি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই মানবিক ও ধর্মীয় কাজটি সফল করতে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।

স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে রামু সদ্দার পাড়ার এই অন্ধকার কেটে যাবে এবং আগামী বছরগুলোতে ওখানকার শিশুরাও ঢাকের আওয়াজে পূজার আনন্দে মেতে উঠতে পারবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
এক হাতে কাদামাটি, অন্য হাতে রংতুলি। সকাল থেকে রাত— দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকা রানী পালের। দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। মেলার দোকানিরা আগেই দিয়েছেন পাইকারি অর্ডার। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে দিন-রাত কাজ করছেন কনিকা। কারণ, মাটির তৈরি এসব পণ্য বিক্রির আয়ই তার ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র ভরসা।
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন: মীর হেলাল
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন: মীর হেলাল
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন / জীবন বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় ‍নিয়ে সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন।  তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা টয়লেটে ঢুকে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ১৬ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। আগুন লাগার পরপরই ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে একে একে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। আরটিভি/এসআর  
জীবন বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ম্যানেজার
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিনড্রাইভ লাগোয়া রিসোর্টটিতে ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন।
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ম্যানেজার
অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা, তিন সন্তানের জন্য বাঁচতে চান ক্যানসার আক্রান্ত নজরুল
তিনটি ছোট সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন নজরুল ইসলাম হাওলাদার (৪০)। একসময় ছোট্ট চায়ের দোকানের আয় দিয়ে কোনোমতে চলত সংসার। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসার কেড়ে নিয়েছে তার কর্মক্ষমতা, বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। এখন নিজেই বিছানায় পড়ে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করছেন, আর চোখের সামনে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে স্ত্রী সন্তানদের ভবিষ্যৎ। অর্থের অভাবে থমকে যাওয়ার পথে তার ক্যানসারের চিকিৎসা।
অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা, তিন সন্তানের জন্য বাঁচতে চান ক্যানসার আক্রান্ত নজরুল
আরও পড়ুন
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
দুর্গাপূজা সামনে রেখে পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, আটক ৯
সারাদেশে পূজামণ্ডপের অগ্নিনিরাপত্তায় প্রস্তুত ফায়ার সার্ভিস
পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-৬: সিও নিস্তার আহমেদ