
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সারা বাংলাদেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ আর আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজ ঘরে ঘরে। কিন্তু এই মহা-আনন্দের দিনেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রামু সদ্দার পাড়ায় চলছে নীরব হাহাকার। স্বাধীনতার এত বছর পরও এই পাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের এলাকায় একটি স্থায়ী মন্দির পাননি। ফলে এখানকার শিশুদের জন্মের পর থেকে কখনোই নিজ গ্রামে পূজার আনন্দ উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব থেকে যুগের পর যুগ বঞ্চিত হয়ে আসছে পুরো এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো।
এই চিরবঞ্চনা অবসান ও একটি স্থায়ী মন্দিরের দাবিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রামু সদ্দার পাড়া সমাজের উদ্যোগে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা মো. আবু আজম তালুকদার, পাইন্দং ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মানিক হোসেন, বাবু দিলীপ কুমার দে, প্রসেনজিৎ দে প্রমুখ।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদেরকে ডেকে নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের আকুতির কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সভায় মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন বক্তব্য রাখেন স্থানীয় গৃহবধূ শিখা দে, রীনা দে এবং তানিয়া দে। তারা বলেন, সারা দেশের মানুষ যখন পূজার আনন্দে হাসছে, আমাদের ছেলে-মেয়ে এবং আমরা তখন মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকি। আমাদের এখানে কোনো স্থায়ী মন্দির নেই। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরাও যেন ধর্মের আলো পায়, উৎসবের আনন্দ পায়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই আকুতি- এখানে যেন একটি স্থায়ী মন্দির নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আবু আজম তালুকদার। তিনি এলাকাবাসীর এই ন্যায্য ও মানবিক দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং আগামীতে মন্দির প্রতিষ্ঠার ফটিকছড়ির এমপি সরোয়ার আলমগীরকে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
সভায় পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মানিক হোসেন রামু সদ্দার পাড়ার বাসিন্দাদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বঞ্চনার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি এলাকায় স্বাধীনতার এত বছর পরও স্থায়ী কোনো উপাসনালয় বা মন্দির থাকবে না, আর আমাদের শিশুরা উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের সমান অধিকার রয়েছে। আমি রামু সদ্দার পাড়ার মা-বোন ও শিশুদের এই যৌক্তিক আকুতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও আশ্বাস দিয়ে বলেন, ২নং ওয়ার্ডের একজন জনপ্রতিনিধি পদপ্রার্থী হিসেবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আগামীতে এই পাড়ায় একটি স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য আমি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই মানবিক ও ধর্মীয় কাজটি সফল করতে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে রামু সদ্দার পাড়ার এই অন্ধকার কেটে যাবে এবং আগামী বছরগুলোতে ওখানকার শিশুরাও ঢাকের আওয়াজে পূজার আনন্দে মেতে উঠতে পারবে।
আরটিভি/এমএইচজে




