
মাদারীপুরের ঘটমাঝিতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন নারীসহ অন্তত ১০ জন।
শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর, লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ২০টি বাড়িঘর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৪ মাস আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় বাহেরান্দি জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে এমদাদ ও মাতুব্বরের সমর্থক মোশারফ ফকিরের নাম ঘোষণা করে মুসল্লিরা।
এ সময় বাচ্চু মোড়লকে সভাপতি হিসেবে দাবি করে অন্য পক্ষ। এ নিয়ে এমদাদ ও বাচ্চু পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। এরই সূত্র ধরে সোমবার সংঘর্ষে জড়ায় দুইপক্ষ। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বাচ্চু ও মোড়লের সমর্থকদের বসতঘর।
পরে বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বসতবাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ বাচ্চু মোড়লের লোকজন।
এ সময় ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঘরবাড়ি। শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। ভোর ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষের লোকজন। টানা ৫ ঘণ্টা চলে সংঘাত সহিংসতা। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এখনো অবিস্ফোরিত ককটেল পড়ে আছে সহিংসতার শিকার বাড়িগুলোতে। আতংকে রয়েছেন বাড়িতে থাকা নারীরা। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে ৫০ জন পুলিশ আনা হয়েছে। সোমবার হামলার ঘটনায় এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন বাচ্চু মোড়ল। আজকে আবার পাল্টা হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/এসএস


