
প্রায় ৮ হাজার বছর আগে তৈরি মাটির পাত্রে আঁকা ফুলের নকশা থেকেই মানুষের প্রাচীনতম গণিতচর্চার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। গবেষকদের মতে উত্তর মেসোপটেমিয়ার এক প্রাচীন সভ্যতার মানুষরা গাণিতিক ধারণা ব্যবহার করেই এসব নকশা তৈরি করতেন।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় জানান, দেরি নব্যপ্রস্তর যুগের হালাফিয়ান সংস্কৃতির তৈরি পাত্রে আঁকা ফুলের পাপড়ির সংখ্যা নিয়মিত গাণিতিক ধারা অনুসরণ করে। এসব পাত্র প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৬২০০ থেকে ৫৫০০ সালের মধ্যে তৈরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, পাত্রে আঁকা অধিকাংশ ফুলে ৪, ৮, ১৬, ৩২ কিংবা ৬৪টি পাপড়ি রয়েছে। এই সংখ্যা বিন্যাস ‘জ্যামিতিক ধারা’ বা দুইয়ের ঘাত নির্দেশ করে, যা স্পষ্টভাবে গাণিতিক জ্ঞানের ইঙ্গিত দেয়।
গবেষক ইয়োসেফ গারফিঙ্কেল বলেন, এই নকশাগুলো আমাদের গণিত জ্ঞানের একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়।
গবেষক দলটি ১৯৩০-এর দশক থেকে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া হাজারো মাটির পাত্রের খণ্ড বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ৩৭৫টি খণ্ডে ফুলের নকশা পাওয়া যায়। অনেক পাত্রেই ফুলের নকশা জ্যামিতিক গ্রিড বা দাবার ছকের মতো বিন্যাসে আঁকা ছিল, যা আরও উন্নত গাণিতিক ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকদের মতে, এসব সংখ্যা কাকতালীয় নয়। হালাফিয়ান জনগোষ্ঠী সম্ভবত জমি বা কৃষিজ পণ্য সমান ভাগে ভাগ করার জন্য এই গাণিতিক ধারণা ব্যবহার করত।
গারফিঙ্কেল বলেন, এটি এমন এক ধরনের গণিতচর্চার প্রমাণ, যার অস্তিত্ব অন্য কোনো উৎসে আমরা আগে পাইনি।
এই গাণিতিক পদ্ধতি পরবর্তী সুমেরীয় সভ্যতার ৬০-ভিত্তিক (সেক্সাজেসিমাল) গণিতের চেয়ে আলাদা। সুমেরীয়দের গণিত পদ্ধতি প্রায় দেড় হাজার বছর পরে গড়ে ওঠে এবং এখনো সময় গণনা, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যামিতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষকদের ভাষায়, এটি ছিল সেক্সাজেসিমাল পদ্ধতির আগের এক প্রাচীন গণিত ব্যবস্থা।
সূত্র: সাইন্স নিউজ
আরটিভি/এমএইচজে/এসআর




