ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ফল প্রকাশে বিলম্ব, সেশনজট ও ক্যারিয়ার সংকটে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতায় একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের একাডেমিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম। এতে পরবর্তী সেমিস্টারের কার্যক্রম পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সেশনজটের আশঙ্কা। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা সময়মতো ফলাফল ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র না পাওয়ায় চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
নির্ধারিত সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর জমা না হওয়ায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। কোনো কোনো বিভাগে একটি বা দুটি কোর্সের নম্বর জমা না হওয়ায় পুরো সেমিস্টারের ফল আটকে থাকে। ফলে পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হচ্ছে পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সময়মতো ফলাফল, ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য একাডেমিক ডকুমেন্ট না পাওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন স্কলারশিপ এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা মিস করতে হচ্ছে। অনেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। একইভাবে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির আবেদনও সময়মতো করতে পারেননি। তাদের দাবি, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে বছরের পর বছর পড়াশোনার পরও ক্যারিয়ারের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে হচ্ছে।

একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরবর্তী সেমিস্টারের কোর্স নিবন্ধন, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস কার্যক্রম শেষের দিকে আগের সেমিস্টারের ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে যেসব শিক্ষার্থী কোনো কোর্সে রিটেক পান, তারা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান না। এছাড়া ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভবিষ্যৎ একাডেমিক পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পরিবার ও স্বজনদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বাড়ছে সেশনজট
সেমিস্টার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে যবিপ্রবিতে সেশনজট বাড়ছে। একটি সেমিস্টারের ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে, যা চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শিক্ষক বা এক্সটার্নাল এক্সামিনারের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার আওতায় আনতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ও সময়মতো ফল প্রকাশ নিশ্চিত করা হলে একদিকে যেমন সেশনজটের আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
ফল প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এক্সটার্নাল এক্সামিনারদের কাছ থেকে সময়মতো মূল্যায়ন করা উত্তরপত্র ও নম্বরপত্র ফেরত না পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত সময়ে খাতা পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সম্মানী পরিশোধ করা হলেও বিভিন্ন একাডেমিক ব্যস্ততা ও অন্যান্য কাজের কারণে অনেক সময় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন শেষ করে জমা দিতে পারেন না। এর ফলে পুরো ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি।

সমস্যা সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। চলমান সেমিস্টারেই হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তী সেমিস্টার থেকে ফল প্রকাশের এই দীর্ঘসূত্রিতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে আমরা আশা করছি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তিন মাসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৯ শিক্ষার্থী
গত তিন মাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৯ জন শিক্ষার্থী। পরপর তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রথম সংঘর্ষ: ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাত ১২টার দিকে বিদ্রোহী হলের সামনে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। প্রথম দফার সংঘর্ষে আহত হয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল আহমেদ জনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী ছাত্রদলের এক পক্ষের হামলার শিকার হন। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফুটেজে হামলাকারীদের হাতে লাঠি ও লোহার রড দেখা যায়। এ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষ আবারও অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের সামনে মুখোমুখি হলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, রিজওয়ানুল করিম রাব্বী আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রলীগের পরিচয় পরিবর্তন করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় সংঘর্ষ: ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের বিষয়টি নিয়ে সদস্যসচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের ওই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী বলে জানা গেছে। এরপর আহ্বায়ক হাবিবের একটি মিছিলে এ ঘটনার জের ধরে রাতুল ও সদস্যসচিবের অন্য অনুসারীদের মধ্যে আবারও বাক্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার সময় সদস্যসচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক ইনানকে বিদ্রোহী হল থেকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্যসচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সংঘর্ষে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হলে এবং অন্য পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এ সময় পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তৃতীয় সংঘর্ষ: এনপিএল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ছয় বুধবার (১৪ অক্টোবর) নজরুল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল) টুর্নামেন্ট চলাকালে অন্য পক্ষের খেলার বল সীমানার ভেতরে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এনপিএল টুর্নামেন্ট চলাকালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে খেলার মাঠ, অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে ও পেছনে চার দফায় সংঘর্ষ হয়। আহত ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও দুজনকে সেখানে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এনপিএল চলাকালে খেলার মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে বল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও বাউন্ডারির কাছে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাক্‌বিতণ্ডা ও গালিগালাজ হয়। খেলা শেষ হওয়ার পর বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ একত্র হলে আবারও বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সময় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬ ব্যাচের শুভকে ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এর প্রতিশোধ নিতে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাত, নাসিম ও আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন মাঠে ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে হামলাকারীরা কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী কলা ভবনের সামনে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কলা ভবনের সামনে অবস্থানরত ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ সেখান থেকে সরে যায়। পরে তাদের খুঁজতে গিয়ে কলা ভবনের পেছনে তিনজনকে পেয়ে রড ও স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার সঙ্গেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মারধরের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরের ওপরও চড়াও হন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও মুছে ফেলা হয়, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আহত ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য পক্ষের দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। আর সিফাত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ এড়াতে যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংঘর্ষ এড়ানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে প্রথমে বিভাগগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করা হলে তা বেশি কার্যকর হবে। কারণ, শিক্ষার্থীরা বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শিক্ষকদের প্রতি তাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করবেন, যাতে তারা কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়ান। সিনিয়ররা যেন জুনিয়রদের স্নেহ করেন এবং জুনিয়ররা যেন সিনিয়রদের সম্মান করেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর রয়েছে। আরটিভি/টিআর
তিন মাসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৯ শিক্ষার্থী
চাকসুর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিগ্রন্থ ‘জুলাইগাঁথার’ মোড়ক উন্মোচন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘জুলাইগাঁথার’ মোড়ক উন্মোচন করেছেন চাকসুর প্রতিনিধিরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় চাকসু ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলনের দুই শহীদ হৃদয় চন্দ্র ও ফরহাদ হোসেনের প্রতি গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৬৭ জন লেখকের স্মৃতিচারণ স্থান পেয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থটির সম্পাদকীয় উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহীম হোসেন রনি, সাহিত্য সম্পাদক হারেস মাতাব্বর, সহসম্পাদক জিহাদ আহনাফ এবং সম্পাদনা সহযোগী মুহাম্মদ রিয়াদ উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী, চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভুঁইয়া, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদকসহ চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির সম্পাদকীয় উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জুলাই নিয়ে চাকসুর এই বইটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যে পরিবর্তন চেয়েছিলাম, তা কি আদৌ এসেছে?’ চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, এই বইয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিগুলো একত্রে দলিল হয়ে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশে আর কেউ যদি স্বৈরাচার হয়ে উঠতে চায়, তাদের বলব, এখান থেকে শিক্ষা নিন। গ্রন্থটির সম্পাদক হারেস মাতাব্বর বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি ও ইতিহাস মলাটবদ্ধ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোনো শাসক যদি ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চায়, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম যেন জুলাইয়ের ইতিহাস ও চেতনাকে ধারণ করে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। গ্রন্থটির বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে চট্টগ্রামের ১৬ জন শহীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ১ থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামের আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
চাকসুর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিগ্রন্থ ‘জুলাইগাঁথার’ মোড়ক উন্মোচন
এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে ২৯ অক্টোবর
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশ হতে পারে।
এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে ২৯ অক্টোবর
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলায় ববি ছাত্রলীগকর্মী তাজ আটক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান মাহমুদুলসহ তিন নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী তাইজুল ইসলাম তাজকে আটক করেছে পুলিশ।
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলায় ববি ছাত্রলীগকর্মী তাজ আটক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
দেশের উচ্চশিক্ষার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিবসটি উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ও নগর কার্যালয়ের ভবনসমূহে ব্যানার স্থাপন, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
আরও পড়ুন
যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের পেটালেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা
পূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরতে যবিপ্রবির বিশেষ বাসের ব্যবস্থা
গবেষণায় নৈতিকতা, জার্নাল রিট্র্যাকশন ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় যবিপ্রবিতে প্রশিক্ষণ
যবিপ্রবির কুষ্টিয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত