ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফল প্রকাশে বিলম্ব, সেশনজট ও ক্যারিয়ার সংকটে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতায় একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের একাডেমিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম। এতে পরবর্তী সেমিস্টারের কার্যক্রম পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সেশনজটের আশঙ্কা। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা সময়মতো ফলাফল ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র না পাওয়ায় চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
নির্ধারিত সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর জমা না হওয়ায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। কোনো কোনো বিভাগে একটি বা দুটি কোর্সের নম্বর জমা না হওয়ায় পুরো সেমিস্টারের ফল আটকে থাকে। ফলে পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হচ্ছে পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সময়মতো ফলাফল, ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য একাডেমিক ডকুমেন্ট না পাওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন স্কলারশিপ এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা মিস করতে হচ্ছে। অনেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। একইভাবে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির আবেদনও সময়মতো করতে পারেননি। তাদের দাবি, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে বছরের পর বছর পড়াশোনার পরও ক্যারিয়ারের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে হচ্ছে।

একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরবর্তী সেমিস্টারের কোর্স নিবন্ধন, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস কার্যক্রম শেষের দিকে আগের সেমিস্টারের ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে যেসব শিক্ষার্থী কোনো কোর্সে রিটেক পান, তারা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান না। এছাড়া ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভবিষ্যৎ একাডেমিক পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পরিবার ও স্বজনদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বাড়ছে সেশনজট
সেমিস্টার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে যবিপ্রবিতে সেশনজট বাড়ছে। একটি সেমিস্টারের ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে, যা চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শিক্ষক বা এক্সটার্নাল এক্সামিনারের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার আওতায় আনতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ও সময়মতো ফল প্রকাশ নিশ্চিত করা হলে একদিকে যেমন সেশনজটের আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
ফল প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এক্সটার্নাল এক্সামিনারদের কাছ থেকে সময়মতো মূল্যায়ন করা উত্তরপত্র ও নম্বরপত্র ফেরত না পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত সময়ে খাতা পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সম্মানী পরিশোধ করা হলেও বিভিন্ন একাডেমিক ব্যস্ততা ও অন্যান্য কাজের কারণে অনেক সময় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন শেষ করে জমা দিতে পারেন না। এর ফলে পুরো ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি।

সমস্যা সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। চলমান সেমিস্টারেই হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তী সেমিস্টার থেকে ফল প্রকাশের এই দীর্ঘসূত্রিতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে আমরা আশা করছি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ দফা দাবিতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
২০২১-২০২২ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে এবং পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।
৭ দফা দাবিতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ জয়
ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড এশিয়া-প্যাসিফিক ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্ট। একই প্রতিযোগিতার ফিউচার ইনোভেটরস সিনিয়র ক্যাটাগরিতে ‘টিম অডিসি এক্স’ সপ্তম স্থান অর্জন করেছে। ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ২৫টি দেশের ১৪৯টি দল অংশ নেয়। ব্রোঞ্জজয়ী টিম ব্লুপ্রিন্টের সদস্যরা হলেন সৈয়দ সুবেহ-সাদিক শোলক, মো. আজমাইন শাক ও সাম্মান রাহিন। ‘টিম অডিসি এক্স’-এর সদস্য আবিদা ওয়াদুদ ও সাদমান আল হক। এ ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে ‘টিম নেবুকোডার্স’ ও ‘টিম রোবোম্যানিয়া’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ৯ জন প্রতিযোগীসহ ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ দলের দলনেতা ছিলেন প্রমি নাহিদ। কোচের দায়িত্বে ছিলেন নাসির খান সৈকত। বিশ্বমঞ্চে এই সাফল্যে ভবিষ্যতের জন্য বড় অনুপ্রেরণা দেখছেন বিজয়ী ও আয়োজকরা। এর আগে গত ১৪ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ ২০২৬-এর জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ৪টি ক্যাটাগরিতে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ৭২টি দলের ২০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। জাতীয় পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য দলগুলো নির্বাচিত হয়। প্রতিযোগিতায় এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘রোবট মিটস কালচার’। জাতীয় পর্বের আগে শিক্ষার্থীদের রোবোটিকসে আগ্রহী করে তুলতে জুন মাসে দেশের ৫টি জেলায় ১৪টি অ্যাকটিভেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়। আরটিভি/টিআর
ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ জয়
শিক্ষক-অধ্যক্ষদের জন্য মাউশির নতুন নির্দেশনা
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নির্ধারিত খাত পরিবর্তন করে অন্য খাতে ব্যয় না করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
শিক্ষক-অধ্যক্ষদের জন্য মাউশির নতুন নির্দেশনা
সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ইরানের রাষ্ট্রদূত
সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ফারসি ভাষায় দেওয়া তার বক্তব্য পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। সেমিনারে বক্তাদের ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এবং ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইরানের জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুধু সামরিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। তার ভাষ্য, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে অনেক সময় যুদ্ধের ঘটনাগুলো একপেশেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল—কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকতার কাজ নয়। সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যুদ্ধের আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিশু, স্কুল, নারী ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা কতটা বৈধ। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। ইরান নিজেদের দেশ ও জনগণকে রক্ষায় সেই অধিকার প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কোনো রাষ্ট্র হুমকি সৃষ্টি করলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে, যার মধ্যে বলপ্রয়োগের অনুমোদনও থাকতে পারে। তবে ইরানে হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ এমন কোনো অনুমোদন দেয়নি। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ধরে নিন, আমরা সবাই সন্ত্রাসী। ইরানের শিক্ষার্থীরাও সন্ত্রাসী। তারপরও কি যুদ্ধের কোনো আইন থাকবে না? বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা করা কি বৈধ? হাসপাতাল কিংবা শিশুদের ওপর হামলা কি বৈধ? যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরতে বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে ইরান সফরের আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং নিজেদের মতো করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত। উল্লেখ্য, সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ইরানের রাষ্ট্রদূত
ইসরায়েলকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্যই ক্ষয় করছে: গেগরি জে. সিমনস
ইসরায়েলকে সমর্থন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার দীর্ঘদিনের আধিপত্যই ক্ষয় করছে বলে মন্তব্য করেছেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গেগরি জে. সিমনস। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে গেগরি জে. সিমনস বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতকে শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব, ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ও জড়িত। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা থাকলেও দুই দেশের স্বার্থ সব ক্ষেত্রে এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র মূলত তার দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বা ‘Pax Americana’ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত সেই প্রভাবকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ইরান প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের যে বয়ান দেওয়া হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গেগরি জে. সিমনস পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগও তোলেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও নৈতিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পশ্চিমা প্রতিক্রিয়ার তুলনা করেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগে রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন মানদণ্ড দেখা যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ক্ষেত্রে এসব নীতির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, সেটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ সময় তিনি ‘Greater Israel’ ধারণার কথাও উল্লেখ করেন। সেমিনারে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নৈতিক জবাবদিহি, গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
ইসরায়েলকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্যই ক্ষয় করছে: গেগরি জে. সিমনস
আরও পড়ুন
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে যবিপ্রবিতে চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি
যবিপ্রবিতে পরিবহন সেবায় বার্ষিক জ্বালানি সাশ্রয় ৪০ লাখ টাকা
আইইইই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সেরা ২ শতাংশে যবিপ্রবির গবেষণাপত্র
যবিপ্রবিতে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ডিজিটাল পেমেন্ট চালু