
ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতায় একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের একাডেমিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম। এতে পরবর্তী সেমিস্টারের কার্যক্রম পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সেশনজটের আশঙ্কা। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা সময়মতো ফলাফল ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র না পাওয়ায় চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
নির্ধারিত সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর জমা না হওয়ায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। কোনো কোনো বিভাগে একটি বা দুটি কোর্সের নম্বর জমা না হওয়ায় পুরো সেমিস্টারের ফল আটকে থাকে। ফলে পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হচ্ছে পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সময়মতো ফলাফল, ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য একাডেমিক ডকুমেন্ট না পাওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন স্কলারশিপ এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা মিস করতে হচ্ছে। অনেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। একইভাবে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির আবেদনও সময়মতো করতে পারেননি। তাদের দাবি, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে বছরের পর বছর পড়াশোনার পরও ক্যারিয়ারের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে হচ্ছে।
একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরবর্তী সেমিস্টারের কোর্স নিবন্ধন, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস কার্যক্রম শেষের দিকে আগের সেমিস্টারের ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে যেসব শিক্ষার্থী কোনো কোর্সে রিটেক পান, তারা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান না। এছাড়া ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভবিষ্যৎ একাডেমিক পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পরিবার ও স্বজনদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
বাড়ছে সেশনজট
সেমিস্টার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে যবিপ্রবিতে সেশনজট বাড়ছে। একটি সেমিস্টারের ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে, যা চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শিক্ষক বা এক্সটার্নাল এক্সামিনারের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার আওতায় আনতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ও সময়মতো ফল প্রকাশ নিশ্চিত করা হলে একদিকে যেমন সেশনজটের আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
ফল প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এক্সটার্নাল এক্সামিনারদের কাছ থেকে সময়মতো মূল্যায়ন করা উত্তরপত্র ও নম্বরপত্র ফেরত না পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত সময়ে খাতা পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সম্মানী পরিশোধ করা হলেও বিভিন্ন একাডেমিক ব্যস্ততা ও অন্যান্য কাজের কারণে অনেক সময় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন শেষ করে জমা দিতে পারেন না। এর ফলে পুরো ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি।
সমস্যা সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। চলমান সেমিস্টারেই হয়তো পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তী সেমিস্টার থেকে ফল প্রকাশের এই দীর্ঘসূত্রিতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে আমরা আশা করছি।
আরটিভি/এমএম




