ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পা হারিয়েও দমেননি, রাবির সাবেক শিক্ষার্থী সুজন এখন স্টেশনমাস্টার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
মো. সোহরাব হোসেন সুজন : ছবি সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে মাইকে ভেসে আসছে ট্রেন থামার বার্তা। প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। স্টেশনমাস্টারের কক্ষ থেকে ট্রেনের সিগন্যাল ও কন্ট্রোল রুমের নির্দেশ তদারকি করছেন মো. সোহরাব হোসেন সুজন। সাধারণ মানুষের মতো কক্ষ থেকে হেঁটে বের হয়ে এলেও বোঝার উপায় নেই বাঁ পা ছাড়াই সামলাচ্ছেন এত বড় স্টেশনের দায়িত্ব।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামের কিশোর সুজন সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় এক দুপুরে বড় বাবার সঙ্গে মাঠে যান। এ সময় পাওয়ার টিলার দেখে চালানোর ইচ্ছা জাগে তার। সেসময় বাড়িতে চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের বৌভাতের আয়োজন, চারদিকে উৎসবের আমেজ। ছেলের চাপাচাপিতে বড় আব্বা শেষমেশ গাড়িটা চালাতে দিলেন তাকে। কিন্তু অনভিজ্ঞ হাতে মোড় ঘোরাতে গিয়ে পাশে থাকা পুকুরে উল্টে গেল পাওয়ার টিলার। এতে সুজনের বাঁ পা স্লিপ কেটে সোজা ঢুকে গেল টিলারের ফালসেটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে দিনাজপুর, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো। কিন্তু জীবন বাঁচাতে হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হলো সুজনের বাঁ পা।

সে সময় এক বছর পড়ালেখা বন্ধ রইল। বন্ধুদের সামনে কীভাবে দাঁড়াবেন? এ নিয়ে কিশোর মনে ভর করল সংকোচ ও লজ্জা। গ্রামের মানুষ বলতে লাগল, ‘ছেলেটার জীবন তো শেষ, ওকে দিয়া আর কিচ্ছু হবে না।’

কিন্তু সুজন ঢাকায় কর্মরত তার উকিল বোন নাসিমা ও দুলাভাই হাবিবের সহায়তায় পায়ে প্লাস্টিক সার্জারি করে কৃত্রিম পা লাগানো হলো। লজ্জা ভেঙে কৃত্রিম পা দিয়েই স্বাভাবিকভাবে সাইকেল চালানো শুরু করলেন। স্কুলও যাওয়া শুরু হলো তার। তবে ক্লাসে যেতেন না শুধু পরীক্ষা দিতেন। স্কুলের গণিত শিক্ষক মহিনুদ্দীন স্যারের সহযোগিতায় বাড়িতে বসেই চলছিল পুরোদমে পড়াশোনা। স্থানীয় কোচিংয়ের মডেল টেস্টে প্রথম স্থান অধিকার করে চমকে দিলেন সবাইকে। ২০০৮ সালে এসএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে পেলেন জিপিএ ৪.৬০। এরপর কলেজ থেকে এইচএসসিতে অর্জন করলেন ৪.৯০।

সুজনের স্বপ্ন ছিল আরও বড়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চান্স পেয়ে গেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। রাজশাহী থেকে মাস্টার্স শেষ করে সুজন চলে আসেন দিনাজপুরে। কোনো কোচিং সেন্টারে না গিয়ে মেসে বসে শুরু হয় সরকারি চাকরির প্রস্তুতি। রাত ৩টা-৪টা, কখনোবা ফজরের আজান পর্যন্ত টেবিল-চেয়ারেই কেটে যেত তার সময়।

কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলতে দেরি হয়নি সুজনের। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ একাধিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। তবে শেষমেশ ২০১৯ সালের মে মাসে সহকারী স্টেশনমাস্টার (এএসএম) হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে।

দিনরাত সুজনের দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা আর একাগ্রতা দেখে যোগদানের মাত্র পাঁচ-ছয় মাসের মাথায় ব্যস্ত পীরগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করে কর্তৃপক্ষ। চার বছর পর ২০২৩ সালে পান পদোন্নতি; পূর্ণাঙ্গ স্টেশনমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব নেন একই স্টেশনের। এখন সেই সুজন সময়মতো ট্রেনস্টেশন পরিচালনা, শত শত যাত্রীর নিরাপত্তা আর টিকিট ও ক্যাশের সঠিক হিসাব সবকিছুই সামলাচ্ছেন পুরোদমে।

সুজন বলেন, প্রতিদিন আমার মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে রেলস্টেশনে আসা-যাওয়া করি। এখন স্যাররা আমার প্রতি ভরসা করে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি।

স্টেশনমাস্টার সুজন আরও বলেন, সমাজে কে কী বলল, তাতে কান দিলে চলা যায় না। লক্ষ্য যদি স্থির থাকে আর মনে আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেটসহ জাবির জঙ্গল থেকে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, আটক পাঁচজন গাজীপুর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তারা চালককে ভাড়া না দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে যান। রাত ৩টার দিকে তাদের ডেইরি গেট এলাকা থেকে মসজিদের পাশ দিয়ে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। পরে ভোরে ডব্লিউআরসি সংলগ্ন জঙ্গল থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করেন। আটকের পর পরিচয় ও ক্যাম্পাসে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট পাওয়ার দাবিও করেন তারা। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের পোশাককর্মী বলে পরিচয় দেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম বলেন, প্রধান ফটকের নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হলে তিনি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি দেখতে বলেন। পরে পাঁচ বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জঙ্গলের দিকে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। ডব্লিউআরসি এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় পাঁচ বহিরাগতকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের একজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান শুভর পূর্বপরিচয় রয়েছে। শাহরিয়ার জানান, ওই ব্যক্তি তার স্কুলজীবনের বন্ধু এবং বর্তমানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে কর্মরত। শাহরিয়ার খান শুভ বলেন, রাতে তার ওই বন্ধু ফোন করে জানান, তিনি মহাখালীর একটি ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ শেষে আসছেন। পরে ডেইরি গেটে এসে ফোন করলে তিনি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে তিন নারীকে দেখতে পান। এরপর তাদের ক্যাম্পাসের কোনো নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেন তিনি। পরে আটক পাঁচজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা বহিরাগত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোর ৪টার দিকে তিন নারী ও দুই পুরুষসহ পাঁচ বহিরাগতকে আটক করা হয়। তাদের সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুমে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ক্যাম্পাসে তাদের অবস্থান অননুমোদিত ও সন্দেহজনক হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। আটক পাঁচজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হলে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।  আরটিভি/এসকে
জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেটসহ জাবির জঙ্গল থেকে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
বুটেক্সে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘ডাই কেম এক্সপো’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ওয়েট প্রসেস ক্লাবের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বুটেক্স-আইটিইটি ডাই কেম এক্সপো ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ৮ ও ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। টেক্সটাইল কেমিক্যাল প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষক, অ্যালামনাই ও শিক্ষার্থীদের একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনের আয়োজনে থাকছে কেমিক্যাল প্রদর্শনী, প্যানেল আলোচনা, পোস্টার উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন একাডেমিক ও পেশাগত কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রথম দিনের কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন মিয়া, অটো-টেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, সিআইপি এবং আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন এবং আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন। অনুষ্ঠানে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ফুকালার ফিউচার লিমিটেড। এ ছাড়া প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইম্পেরিয়াল ও ওরিয়েন্ট ডাইস্টাফ অ্যান্ড অক্সিলিয়ারিজ কো. লিমিটেড, গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে অ্যার্ক্রোমা ও সিএইচটি এবং সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বায়োস্ফিয়ার কনসার্ন ও ইমটেক্স সলিউশনস বিডি লিমিটেড। পাশাপাশি এবারের এক্সপোতে মোট ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন টেক্সটাইল কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ এক্সপোর মাধ্যমে টেক্সটাইল শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং টেক্সটাইল কেমিক্যাল, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। আরটিভি/টিআর
বুটেক্সে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘ডাই কেম এক্সপো’
আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে সংগঠনটির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০১৩ সালের ৫ মে এবং শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে। আবরার ফাহাদের আদর্শ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ইন্ধনে আবরার হত্যার রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারও খুনিদের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের যে রায় হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবরার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর এবং ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দাবি জানায় সংগঠনটি। আরটিভি/টিআর
আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন
চবিতে চালু হলো সাইবার ক্যাফে অ্যান্ড ডিজিটাল লার্নিং হাব 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে সাইবার ক্যাফে অ্যান্ড ডিজিটাল লার্নিং হাব চালু করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত এ হাবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে উচ্চ কনফিগারেশনের ১০টি কম্পিউটার। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে হাবটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এবং চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি। উদ্বোধনের পর হাবটি ঘুরে দেখেন অতিথিরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে অনলাইন শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন সফটওয়্যারনির্ভর কাজ এবং প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সুযোগ পাবেন। শুধু কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধাতেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কোর্স, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালাও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এ উদ্যোগের জন্য চাকসু প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং গবেষণা ও ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাবটিতে থাকা ১০টি উচ্চ কনফিগারেশনের কম্পিউটার শিক্ষার্থীদের গবেষণা, অনলাইন শিক্ষা ও সফটওয়্যারভিত্তিক বিভিন্ন কাজে সহায়ক হবে বলে জানান উপাচার্য। পাশাপাশি এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নিজেদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও বাড়াতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চাকসু থেকে জানানো হয়, ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতা এবং ক্যারিয়ার প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলো নিয়েও হাবটিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে চাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিবসহ ছাত্র সংসদের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
চবিতে চালু হলো সাইবার ক্যাফে অ্যান্ড ডিজিটাল লার্নিং হাব 
চবির ১০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিল ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১০ শিক্ষার্থীকে চার মাসের আবাসন বৃত্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ (এসডব্লিউআই)। প্রথম ধাপে ২০৬টি আবেদন যাচাই করে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা ঘোষণা করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ১০ শিক্ষার্থীকে সহায়তার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে এ উদ্যোগের পরিধি আরও বড় হতে পারে। একসময় এর মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থী উপকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আর্থিক সংকট যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এর ধারাবাহিকতা ও বিস্তৃতি কামনা করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ বন্ধুর ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যক্তিগত, দলগত, শ্রেণিভিত্তিক কিংবা শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগ—সব ধরনের প্রচেষ্টাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দাতা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এগিয়ে এলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরে স্লাইড উপস্থাপন করেন নাদিম মাহমুদ উল্লাস। আয়োজকেরা জানান, আবাসনের পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট, চিকিৎসাসেবা ও প্রাণীসেবা—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আবাসন সহায়তার প্রথম ধাপে মোট ২০৬টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১০ শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে চার মাসের জন্য আবাসন ব্যয় নির্বাহে বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে শুধু সাময়িক আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের আবাসন ব্যয় নিজেরাই বহন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন, কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. আমির মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের প্রভোস্ট এ.জি.এম নিয়াজ উদ্দিন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন আক্তার এবং চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নির্বাচিত ১০ শিক্ষার্থীর হাতে আবাসন বৃত্তির অর্থ তুলে দেন উপাচার্যসহ অতিথিরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
চবির ১০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিল ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’
আরও পড়ুন
রাবিতে হামলা: চোখে কালো কাপড় বেঁধে ইবি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মুজা’র নিন্দা
‘গলা টিপে ধরেন, হকিস্টিক দিয়ে পেটান; কলম চলবেই’
রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা