
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের (হিট) আওতায় উপ-প্রকল্প দলের সদস্যদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের সেমিনার হলে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিট প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উপ-প্রকল্পের সদস্য ও এটিএফসহ মোট ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও হিট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান মোগল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদেরকে অত্যন্ত ন্যায় ও সততা নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার, সরকারি আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ উপ-প্রকল্পের বাস্তবায়নে কাজে লাগানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাজেট অনুযায়ী ব্যয় ও অডিট আপডেট রাখতে হবে। এছাড়া নিয়মতান্ত্রিক হিসাব সংরক্ষণ যথাযথভাবে বিল-ভাউচার প্রস্তুত করা অপরিহার্য। আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়ম ও পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা কমবে এবং কাজের গুণগত মান বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন হিট প্রকল্পের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মো. মনসুরুজ্জামান খান। তিনি প্রকল্পের আর্থিক চুক্তি, ডাবল এন্ট্রি হিসাব পদ্ধতি ও উপ-প্রকল্পের তহবিল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ ছাড়া উন্নয়নকাজে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত ২০২৬ সালের বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) ২০২৫ অনুযায়ী সম্মানী প্রদান, বিল পরিশোধের বিভিন্ন সমস্যা এবং নগদ ক্রয়, আরএফকিউ ও ওটিএম পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেন।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আয়কর, বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে ফাইল নোট প্রস্তুত, বাজেট রেজিস্টার ও ভাউচার রেজিস্টার সংরক্ষণ, ডেবিট ও ক্রেডিট ভাউচার এবং জার্নাল ভাউচার প্রস্তুত, ক্যাশবুক ও লেজার সংরক্ষণসহ প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ রাখা হয়।
প্রশিক্ষণটির মাধ্যমে উপ-প্রকল্প দলের সদস্যদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরটিভি/এমএম


